প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : বলিউড থেকে হলিউড দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একের পর এক সাফল্য পেয়েছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া (Priyanka Chopra)। তবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলির একটি নিঃসন্দেহে নিক জোনাসের (Nick Jonas) সঙ্গে সম্পর্ক ও বিয়ে। বয়সের ব্যবধান, আলাদা দেশ, আলাদা সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল দু’জনের জীবনযাত্রায় ছিল একাধিক পার্থক্য। তবু সেই দূরত্ব পেরিয়ে সম্পর্ককে বিয়ের পরিণতি দিয়েছেন তাঁরা। এবার নিজেদের সম্পর্কের ভিত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এমন এক দিক তুলে ধরেছেন প্রিয়ঙ্কা, যা তাঁর কাছে নিককে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ বিষয়ে প্রিয়াঙ্কার বক্তব্য অনুযায়ী, নিক তাঁর ভারতীয় সংস্কৃতি, পারিবারিক মূল্যবোধ ও শিকড়কে যেভাবে গ্রহণ করেছেন, সেটিই তাঁদের সম্পর্কের অন্যতম বড় ভিত্তি।

অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার কথায়, নিক যদি তাঁর সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সম্মান না করতেন, তা হলে হয়ত তাঁদের সম্পর্ক এত দূর এগোতই না। এমনকী সম্পর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও হয়ত থাকত না। দুই ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশ থেকে আসা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানকে তাই তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। প্রিয়াঙ্কার বক্তব্যে উঠে এসেছে, প্রেম শুধু দু’জন মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়। সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করতে গেলে দু’জনের পরিবার, সংস্কৃতি, বিশ্বাস এবং বেড়ে ওঠার পরিবেশকেও জায়গা দিতে হয়। বিশেষ করে যখন দু’জন মানুষের দেশ ও সাংস্কৃতিক পরিচয় আলাদা, তখন একে অপরের শিকড়কে গ্রহণ করার মানসিকতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। নিকের ক্ষেত্রে সেই গ্রহণযোগ্যতাই প্রিয়ঙ্কার মনে আলাদা জায়গা তৈরি করেছিল।

প্রিয়াঙ্কা নিজে ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। জীবনের বড় অংশ ভারতে কাটানোর পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন তিনি। বর্তমানে আমেরিকায় থাকলেও ভারতীয় উৎসব, পারিবারিক রীতি আর সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বজায় রয়েছে। বিয়ের পর নিককেও একাধিক ভারতীয় অনুষ্ঠানে প্রিয়াঙ্কার পরিবারের সঙ্গে দেখা গিয়েছে। বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে বিভিন্ন পারিবারিক আয়োজনে নিকের উপস্থিতি নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে। অভিনেত্রীর কথায়, সম্পর্কের ক্ষেত্রে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা যেমন জরুরি, তেমনই প্রয়োজন সদয় আচরণ। সময়ের সঙ্গে প্রেমের প্রকাশের ধরন বদলালেও পরস্পরের প্রতি যত্ন এবং সম্মান ধরে রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। প্রিয়াঙ্কার মতে, সম্পর্কে বড় কোনও জটিলতার আগে ছোট ছোট আচরণই অনেক সময় দু’জন মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে বা কমিয়ে দেয়। তাই নিক কীভাবে তাঁদের সম্পর্কের উষ্ণতা ধরে রাখেন, সেই প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি।

প্রিয়াঙ্কা ও নিকের প্রেমের শুরুটাও ছিল বেশ আলোচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথাবার্তা থেকে শুরু করে পরস্পরের সঙ্গে দেখা করা, তারপর সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যাওয়া, সবটাই হয়েছিল তুলনামূলক দ্রুত। ২০১৮ সালে রাজস্থানের যোধপুরে জমকালো আয়োজনে তাঁদের বিয়ে হয়। খ্রীস্টান এবং হিন্দু দুই রীতিতেই বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল। সেই সময় থেকেই দুই ভিন্ন সংস্কৃতির এই সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। বিয়ের পরও দু’জনকে একে-অপরের পেশাগত কাজের পাশে থাকতে দেখা গিয়েছে। প্রিয়াঙ্কার অভিনয়জীবন যেমন আন্তর্জাতিক স্তরে বিস্তৃত হয়েছে, তেমনই নিক তাঁর গান ও অভিনয়ের কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। দু’জনের ব্যস্ত সময়সূচি সত্ত্বেও পরিবারকে সময় দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তাঁরা। ২০২২ সালে তাঁদের কন্যাসন্তান মালতী মেরি চোপড়া জোনাসের (Malti Marie Chopra Jonas) জন্ম হয়। মেয়েকে ঘিরেও প্রিয়ঙ্কা ও নিকের পারিবারিক জীবনের নানা মুহূর্ত মাঝেমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে।

সম্পর্কের ব্যক্তিগত দিকের পাশাপাশি নিকের সঙ্গীতজীবন নিয়েও গর্বিত প্রিয়াঙ্কা। নিকের নতুন অ্যালবাম প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, নিজের গভীর অনুভূতি ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে গানের মাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য যথেষ্ট সাহস প্রয়োজন। একজন শিল্পী যখন নিজের আবেগকে কোনও আড়াল ছাড়াই শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেন, তখন তা সহজ কাজ নয়। নিক সেই ঝুঁকি নিয়েছেন বলেই তাঁর কাজ নিয়ে গর্বিত প্রিয়াঙ্কা। নিকের গান নিয়ে প্রিয়াঙ্কার এই মন্তব্য তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের আরও একটি দিক সামনে আনে। দু’জনেই নিজেদের পেশায় আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। ফলে একজনের সাফল্য অন্যজনের পরিচয়কে ছাপিয়ে যায় না। একইসঙ্গে নিজেদের কাজের ক্ষেত্রে একে অপরকে উৎসাহ দেওয়ার জায়গাটিই তাঁদের দাম্পত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। প্রিয়াঙ্কার কথায় নিকের কাজের প্রতি তাঁর যে আগ্রহ এবং গর্ব, সেটিও সেই সম্পর্কেরই প্রতিফলন।

অভিনেত্রীর নিজের কর্মজীবনও এখন যথেষ্ট ব্যস্ত। এসএস রাজামৌলি (S. S. Rajamouli) পরিচালিত ‘বারাণসী’ ছবিতে মহেশ বাবু (Mahesh Babu) ও পৃথ্বীরাজ সুকুমারন (Prithviraj Sukumaran) -এর সঙ্গে অভিনয় করতে দেখা যাবে তাঁকে। ছবিটি নিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ২০২৭ সালের সংক্রান্তিতে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা। এই ছবির মাধ্যমে তেলুগু চলচ্চিত্র জগতে প্রিয়াঙ্কার অভিষেক হতে চলেছে। ‘বারাণসী’ -এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন অভিনেত্রী। ‘সিটাডেল’ (Citadel) -এর দ্বিতীয় মরসুমেও তাঁকে দেখা যাবে। আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে প্রিয়াঙ্কার পরিচিতি তৈরিতে এই সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে এক দিকে ভারতীয় চলচ্চিত্রে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন তিনি, অন্য দিকে আন্তর্জাতিক কাজও ধরে রেখেছেন।

এর মধ্যেই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রিয়াঙ্কার সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু প্রেম নয়, সাংস্কৃতিক পরিচয় আর অবশ্যই পারস্পরিক শ্রদ্ধার বিষয়টিও কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে। প্রিয়াঙ্কার মতে, দু’জন মানুষের সম্পর্ক তখনই গভীর হয়, যখন একজন অন্যজনকে নিজের মতো করে বদলে দেওয়ার চেষ্টা না করে তাঁর পরিচয়কে গ্রহণ করতে শেখেন। নিকের ক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রিয়াঙ্কার কাছে যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তাঁর মন্তব্যেই তার ইঙ্গিত মিলেছে। অভিনেত্রীর কথায়, নিক যদি তাঁর শিকড়কে সম্মান না করতেন, তা হলে তাঁকে নিয়ে ভবিষ্যৎ ভাবা কঠিন হত। অর্থাৎ তাঁদের প্রেমের গল্পে রোম্যান্সের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক গ্রহণযোগ্যতাও ছিল একটি বড় বিষয়।

প্রিয়াঙ্কা-নিকের সম্পর্ক নিয়ে বরাবরই আগ্রহ রয়েছে অনুরাগীদের। এবার অভিনেত্রীর নিজের মুখে সম্পর্কের ভিতের কথা সামনে আসায় সেই আগ্রহ আরও বেড়েছে। দুই ভিন্ন দেশের, দুই ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের মানুষ কী ভাবে নিজেদের জীবনকে একসঙ্গে সাজিয়েছেন, সেই প্রশ্নের উত্তরেই উঠে এসেছে সম্মান, সদয় ব্যবহার ও একে অপরের শিকড়কে গ্রহণ করার প্রসঙ্গ। আর সেই কারণেই প্রিয়ঙ্কার সাম্প্রতিক মন্তব্য তাঁদের সম্পর্কের ব্যক্তিগত গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi BRICS Speech, Rare Earth Minerals | জিনপিংয়ের সামনেই বিরল মৃত্তিকা নিয়ে মোদীর কড়া বার্তা, প্রযুক্তি-খনিজকে হাতিয়ার করার বিরুদ্ধে সরব ভারত




