সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: ৫৪তম জন্মদিনে ক্রিকেটজীবনের অন্যতম বড় স্বীকৃতি পেলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly)। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা আইসিসি (ICC) -এর মর্যাদাপূর্ণ ‘হল অফ ফেম’-এ জায়গা করে নিলেন তিনি। এই সম্মান প্রাপ্তির খবর নিজেই সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন সৌরভ। একই সঙ্গে আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ (Jay Shah)-কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ‘দাদা’। যদিও আইসিসির তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তার আগেই সৌরভের পোস্ট ঘিরে ক্রিকেটমহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিজের প্রতিক্রিয়ায় তিনি লিখেছেন, ‘আমাকে আইসিসির হল অফ ফেমে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আইসিসি এবং চেয়ারম্যান জয় শাহকে ধন্যবাদ। এটি অত্যন্ত বড় সম্মান। এত কিংবদন্তি ক্রিকেটারের পাশে জায়গা পাওয়া আমার কাছে গর্বের।’ তাঁর এই বক্তব্য সামনে আসার পর থেকেই শুভেচ্ছার বন্যা বইছে বিভিন্ন মহল থেকে।
আইসিসির ‘হল অফ ফেম’ ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়। ২০০৯ সালে এই সম্মান চালু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের সেরা ক্রিকেটারদের নামই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ভারতের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই তালিকায় জায়গা পেয়েছিলেন সুনীল গাওস্কর (Sunil Gavaskar)। এরপর একে একে বিষণ সিংহ বেদি (Bishan Singh Bedi), কপিল দেব (Kapil Dev), অনিল কুম্বলে (Anil Kumble), রাহুল দ্রাবিড় (Rahul Dravid), সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar), বিনু মাঁকড় (Vinoo Mankad), বীরেন্দ্র সহবাগ (Virender Sehwag) এবং মহেন্দ্র সিংহ ধোনি (MS Dhoni) -এর মতো ক্রিকেটাররা এই সম্মান পেয়েছেন। সেই তালিকায় ২০২৬ সালে যুক্ত হল সৌরভের নাম।
পুরুষ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি ভারতের দুই মহিলা ক্রিকেটার ডায়ানা এডুলজি (Diana Edulji) এবং নীতু ডেভিড (Neetu David)-ও এই সম্মান অর্জন করেছেন। ফলে ভারতীয় ক্রিকেটের সামগ্রিক ঐতিহ্যের মধ্যে সৌরভের এই অন্তর্ভুক্তি নতুন মাত্রা যোগ করল। উল্লেখ্য, অধিনায়ক হিসেবে সৌরভের অবদান ভারতীয় ক্রিকেটে এক বিশেষ অধ্যায় তৈরি করেছে। তাঁর নেতৃত্বেই ২০০০ সালের পরবর্তী সময়ে ভারতীয় দল নতুন আত্মবিশ্বাস অর্জন করে। তিনি মোট ১৯৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ৯৭টি ম্যাচে জয় পেয়েছেন। বিদেশের মাটিতে জয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ২০০১ সালে স্টিভ ও (Steve Waugh) -এর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক সিরিজ় জয়, ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা, ২০০৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট সিরিজ় জয়, এই সব সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সৌরভের নাম। তাঁর নেতৃত্বেই ভারত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি জিতেছিল। লর্ডসের ব্যালকনিতে জার্সি খুলে উদ্যাপন, সেই দৃশ্য এখনও ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন।
ব্যাটসম্যান হিসেবেও সৌরভের পরিসংখ্যান উল্লেখযোগ্য। দেশের জার্সিতে ৪২৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। মোট রান ১৮,৫৭৫। টেস্টে ৭২১২ এবং এক দিনের ম্যাচে ১১,৩৬৩ রান তাঁর ঝুলিতে। ৩৮টি শতরান এবং ১০৭টি অর্ধশতরান তাঁর ধারাবাহিকতার প্রমাণ বহন করে। বিশেষ করে ওপেনার হিসেবে সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar)-এর সঙ্গে তাঁর জুটি ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সফল হিসেবে বিবেচিত। ক্রিকেটার জীবনের পরে প্রশাসনিক ভূমিকাতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন সৌরভ। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (Cricket Association of Bengal)-এর সভাপতি হিসেবে কাজ করেছেন। পরে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই (BCCI)-এর সভাপতির দায়িত্বও সামলান তিনি। সেই সময় বোর্ডের সচিব ছিলেন জয় শাহ। বর্তমানে আবার সিএবি-র শীর্ষ পদে রয়েছেন সৌরভ। এ ছাড়া আইপিএল-এ দিল্লি ক্যাপিটালস (Delhi Capitals) -এর ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি লিগে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস (Pretoria Capitals)-এর কোচ হিসেবেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। মাঠের ভিতরে ও বাইরে তাঁর প্রভাব সমানভাবে বিস্তৃত। উল্লেখ্য, সৌরভের ‘হল অফ ফেম’-এ অন্তর্ভুক্তি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ভারতীয় ক্রিকেটের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্বীকৃতি বলেই ধরা হচ্ছে। তাঁর নেতৃত্বে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, তা পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের পথ দেখিয়েছে। জন্মদিনে পাওয়া এই সম্মান তাই তাঁর দীর্ঘ ক্রিকেটযাত্রার এক বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Samik Bhattacharya speech, West Bengal investment news | বিনিয়োগে নতুন ডাক পশ্চিমবঙ্গে, শমীকের বক্তব্যে সৌরভকে কটাক্ষ!



