সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: ভারতের শক্তি পরিকাঠামোয় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘিরে দেশজুড়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সম্প্রতি এমন এক মেগা রিফাইনারি প্রকল্পের কথা তুলে ধরেছেন, যার পরিসংখ্যান শুনলে বিস্মিত হতে হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পে ব্যবহৃত স্টিল দিয়ে তৈরি করা সম্ভব প্রায় ৪০টি আইফেল টাওয়ার (Eiffel Tower) ও পাঁচটি বুর্জ খলিফা (Burj Khalifa) -এর সমতুল্য কাঠামো। পাশাপাশি যে পরিমাণ বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার হয়েছে, তা দিয়ে পৃথিবীকে দু’বার ঘিরে ফেলা যেতে পারে। রাজস্থানের পচপদ্রা (Pachpadra, Rajasthan) এলাকায় গড়ে ওঠা এইচপিসিএল রাজস্থান রিফাইনারি লিমিটেড (HPCL Rajasthan Refinery Limited বা HRRL) -এর এই প্রকল্প ইতিমধ্যেই দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প উদ্যোগ হিসেবে উঠে এসেছে। প্রায় ৭৯,৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে নির্মিত এই গ্রিনফিল্ড ইন্টিগ্রেটেড রিফাইনারি-কাম-পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স দেশের শক্তি ক্ষেত্রকে নতুন মাত্রা দিতে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি কেবল একটি শিল্প প্রকল্প নয়, এটি ভারতের অগ্রযাত্রার প্রতীক।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে যে, দেশ ইতিমধ্যেই বিশ্বের শীর্ষ চারটি তেল শোধনাগার ক্ষমতাসম্পন্ন দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। গত কয়েক বছরে রিফাইনিং ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রফতানির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই প্রকল্পের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য। বছরে প্রায় ৯ মিলিয়ন টন (MMTPA) রিফাইনিং এবং ২.৪ মিলিয়ন টন পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে এই কমপ্লেক্সে। ফলে শুধু জ্বালানি নয়, সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলির বিকাশেও এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। শিল্প মহলের এক প্রতিনিধি জানান, ‘এ ধরনের প্রকল্প সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে বহু কর্মসংস্থানের পথ খুলে দেয়।’
প্রকৌশলগত দিক থেকেও এই রিফাইনারি নজর কাড়ছে। প্রায় তিন লক্ষ মেট্রিক টন স্টিল ব্যবহার করা হয়েছে নির্মাণে, যা তুলনামূলকভাবে বিশ্বের বহু বড় স্থাপত্যকেও ছাড়িয়ে যায়। এই পরিসংখ্যান ভারতের অবকাঠামো নির্মাণের গতিকে নতুনভাবে তুলে ধরছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক আধিকারিকের কথায়, ‘এত বড় স্কেলের কাজ একসঙ্গে করা নিজেই এক বড় সাফল্য।’ বিশ্বের বহু দেশ যখন জ্বালানি নীতিতে পরিবর্তন আনছে এবং কিছু ক্ষেত্রে রিফাইনারি বন্ধের পথে হাঁটছে, তখন ভারত নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে শক্তি নিরাপত্তা জোরদার করছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশি মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। রাজস্থানের মরুপ্রধান এলাকায় এমন একটি বৃহৎ শিল্প স্থাপনা গড়ে ওঠায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছোট ও মাঝারি শিল্পের প্রসার ঘটতে পারে। এক প্রশাসনিক কর্তার বক্তব্য, ‘এই ধরনের প্রকল্প একটি অঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে নতুন গতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।’ পরিবহন, লজিস্টিকস এবং সহায়ক শিল্পের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পের প্রভাব পড়বে। রিফাইনারি কেন্দ্রিক পরিকাঠামো গড়ে উঠলে সংযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে, যা সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভারত এখন শুধু নিজের প্রয়োজন মেটাচ্ছে না, বরং বিশ্ববাজারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।’ তাঁর এই মন্তব্যে দেশের শক্তি নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে, তবুও ইতিমধ্যেই এটি দেশের বৃহৎ শিল্প উদ্যোগগুলির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। পরিসংখ্যানের দিক থেকে যেমন এটি নজরকাড়া, তেমনি অর্থনৈতিক দিক থেকেও এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
উল্লেখ্য, ভারতের শক্তি খাতে এই নতুন সংযোজন ভবিষ্যতে কীভাবে দেশের অর্থনীতি ও শিল্প উন্নয়নে ভূমিকা রাখে, তা এখন দেখার বিষয়। তবে আপাতত, ৪০টি আইফেল টাওয়ারের সমান স্টিল ব্যবহারের তুলনা দেশের শিল্প সক্ষমতার এক নতুন ছবি তুলে ধরেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal syllabus change, Syama Prasad Mookerjee history | পাঠ্যবইয়ে শ্যামাপ্রসাদ, বাদ সিঙ্গুর আন্দোলন! শুভেন্দুর ঘোষণায় বাংলার শিক্ষানীতিতে বড় বদলের ইঙ্গিত



