UPI 0.4 percent MDR | UPI GST rules : UPI ব্যবহারকারীদের জন্য বড় খবর! ২ হাজারের বেশি লেনদেনে MDR, তার উপর আবার GST

SHARE:

কিউআর কোড স্ক্যান করে কয়েক সেকেন্ডেই পেমেন্ট। দোকানে কেনাকাটা হোক, রেস্তরাঁর বিল হোক কিংবা অন্য কোনও পরিষেবার দাম মেটানো ইউপিআই (UPI) এখন দৈনন্দিন লেনদেনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কিন্তু ১৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ২ হাজার টাকার বেশি কিছু ব্যবসায়িক ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে বদল আসছে। ওই সীমার উপরে নির্দিষ্ট লেনদেনে বসতে চলেছে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর (MDR)। এবার সেই মাশুলের উপরেও ১৮ শতাংশ জিএসটি (GST) বসবে বলে সরকারি সূত্রে খবর।

বিনীত শর্মা, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : কিউআর কোড স্ক্যান করে কয়েক সেকেন্ডেই পেমেন্ট। দোকানে কেনাকাটা হোক, রেস্তরাঁর বিল হোক কিংবা অন্য কোনও পরিষেবার দাম মেটানো ইউপিআই (UPI) এখন দৈনন্দিন লেনদেনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কিন্তু ১৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ২ হাজার টাকার বেশি কিছু ব্যবসায়িক ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে বদল আসছে। ওই সীমার উপরে নির্দিষ্ট লেনদেনে বসতে চলেছে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর (MDR)। এবার সেই মাশুলের উপরেও ১৮ শতাংশ জিএসটি (GST) বসবে বলে সরকারি সূত্রে খবর। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ব্যবসায়ীদের প্রকৃত খরচ কতটা বাড়বে আর তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ক্রেতার পকেটে গিয়ে পড়বে কি না! নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ২ হাজার টাকার বেশি ব্যবসায়ীকে টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ এমডিআর ০.৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই মাশুলের সর্বোচ্চ সীমাও রাখা হয়েছে। ৭৫ হাজার টাকা বা তার বেশি লেনদেনে এমডিআর সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ লেনদেনের অঙ্ক আরও বাড়লেও শতাংশের হিসাবে মাশুল অনির্দিষ্টভাবে বাড়বে না। এই নিয়ম কার্যকর হবে ১৫ অক্টোবর থেকে।

কিউআর কোড স্ক্যান করে কয়েক সেকেন্ডেই পেমেন্ট। দোকানে কেনাকাটা হোক, রেস্তরাঁর বিল হোক কিংবা অন্য কোনও পরিষেবার দাম মেটানো ইউপিআই (UPI) এখন দৈনন্দিন লেনদেনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কিন্তু ১৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ২ হাজার টাকার বেশি কিছু ব্যবসায়িক ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে বদল আসছে। ওই সীমার উপরে নির্দিষ্ট লেনদেনে বসতে চলেছে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর (MDR)। এবার সেই মাশুলের উপরেও ১৮ শতাংশ জিএসটি (GST) বসবে বলে সরকারি সূত্রে খবর।
UPI ব্যবহারকারীদের জন্য বড় খবর! ২ হাজারের বেশি লেনদেনে MDR, তার উপর আবার GST! ছবি: সংগৃহীত

আরও পড়ুন : UPI MDR 2026, UPI transaction fee above Rs 2000 | UPI -এ ২ হাজারের বেশি ব্যবসায়িক লেনদেনে মাশুল, ১৫ অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম

এখানেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে জিএসটি। এমডিআর নিজে লেনদেনের মূল টাকার উপর বসা কোনও কর নয়, এটি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নেওয়া পেমেন্ট-প্রসেসিং সংক্রান্ত মাশুল। এখন সেই এমডিআর-এর উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি প্রযোজ্য হবে বলে উল্লেখ। অর্থাৎ ১০ হাজার টাকার কোনও যোগ্য ব্যবসায়িক ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ হারে এমডিআর হলে মাশুল দাঁড়াবে ৪০ টাকা। সেই ৪০ টাকার উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি যোগ হলে আরও ৭ টাকা ২০ পয়সা দিতে হবে। ফলে মোট অতিরিক্ত খরচ দাঁড়াবে ৪৭ টাকা ২০ পয়সা। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। এই পুরো অতিরিক্ত অর্থ যে শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীর চূড়ান্ত খরচ হয়েই থাকবে, এমন না। জিএসটি-নিবন্ধিত ও যোগ্য ব্যবসায়ীরা এমডিআরের উপর দেওয়া জিএসটির ক্ষেত্রে ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট বা আইটিসি (ITC) দাবি করতে পারবেন। অর্থাৎ ব্যবসার জিএসটি হিসাবের সঙ্গে এই কর সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে। ফলে কাগজে-কলমে লেনদেনের সময় অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হলেও যোগ্য ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে পরবর্তী কর সমন্বয়ের মাধ্যমে তার প্রভাব কমতে পারে।

তাহলে কী সাধারণ ইউপিআই ব্যবহারকারীকেও বাড়তি টাকা দিতে হবে? কেন্দ্রের অবস্থান, না। নতুন এমডিআর মূলত ব্যক্তি থেকে ব্যবসায়ী বা পি২এম (P2M) লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে টাকা পাঠানোর লেনদেন এই মাশুলের আওতায় পড়ছে না। ২ হাজার টাকা পর্যন্ত পি২এম লেনদেনেও এমডিআর থাকবে না। অর্থাৎ বন্ধুকে টাকা পাঠানো, পরিবারের সদস্যকে টাকা দেওয়া বা ২ হাজার টাকা পর্যন্ত যোগ্য সাধারণ ব্যবসায়িক পেমেন্ট আগের মতোই মাশুলমুক্ত থাকবে। ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিউআর কোডের মাধ্যমে মাসে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করা ছোট ব্যবসায়ীদের এমডিআর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য মূলত তুলনামূলক বড় অঙ্কের ব্যবসায়িক লেনদেন। কেন্দ্রের বক্তব্য, সাধারণ ক্রেতার কাছ থেকে সরাসরি এই মাশুল আদায় করার সুযোগ রাখা হয়নি।

কিছু নির্দিষ্ট পরিষেবার জন্য আবার আলাদা মাশুলের কাঠামো রয়েছে। রেল, জ্বালানি, বিমা, টেলিকম এবং কিছু ইউটিলিটি পরিষেবার ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে শতাংশের বদলে ৫ টাকা পর্যন্ত নির্দিষ্ট এমডিআর ধার্য করার কাঠামো তৈরি হয়েছে। সেই ৫ টাকার উপরও ১৮ শতাংশ জিএসটি প্রযোজ্য হবে। ফলে এই ক্ষেত্রে জিএসটির অঙ্ক হবে ৯০ পয়সা, অর্থাৎ এমডিআর এবং তার জিএসটি মিলিয়ে ৫ টাকা ৯০ পয়সা। এই হিসাব থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ১৫ অক্টোবরের পর ইউপিআইয়ের সব লেনদেনে নতুন মাশুল বসছে না। মূল পরিবর্তনটি হচ্ছে নির্দিষ্ট উচ্চমূল্যের ব্যবসায়িক পেমেন্টে। যেমন ৩ হাজার টাকার পেমেন্ট হলে ০.৪ শতাংশ হিসাবে এমডিআর হবে ১২ টাকা, তার উপর জিএসটি ২ টাকা ১৬ পয়সা। অর্থাৎ মোট মাশুল ১৪ টাকা ১৬ পয়সা। ১০ হাজারে ৪৭ টাকা ২০ পয়সা এবং ৫০ হাজারে এমডিআর ২০০ টাকা, তার সঙ্গে ৩৬ টাকা জিএসটি, মোট ২৩৬ টাকা। ৭৫ হাজার টাকায় এমডিআর ৩০০ টাকায় পৌঁছবে এবং তার উপর ৫৪ টাকা জিএসটি যোগ হলে মোট অঙ্ক দাঁড়াবে ৩৫৪ টাকা। এর বেশি লেনদেন হলেও নির্ধারিত এমডিআর ৩০০ টাকার সীমার মধ্যে থাকবে, যদিও তার উপর প্রযোজ্য জিএসটির হিসাব আলাদা করে হবে।

আরও পড়ুন : Rashmika Mandanna injury update, Vijay Deverakonda reaction | চোটে ঘরবন্দী রশ্মিকা, স্ত্রীকে কাছে পেয়ে বিজয়ের মজার আবদার! ‘পরের বার চোট ছাড়াই ছুটি নিও’

এই নতুন ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন, বিদেশি চাপের প্রভাবেই ইউপিআইয়ের উপর মাশুল বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার চূড়ান্ত প্রভাব সাধারণ মানুষের উপর পড়তে পারে। সরকারের তরফে অবশ্য এই অভিযোগ মানা হয়নি। অর্থ মন্ত্রকের বক্তব্য, সিদ্ধান্তটি দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় এবং স্থায়িত্বের বিষয় মাথায় রেখে নেওয়া হয়েছে। সরকারের যুক্তি, ইউপিআই ব্যবস্থার ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে ও এর সঙ্গে পরিকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা ও পরিষেবা বজায় রাখার খরচও বাড়ছে। নতুন এমডিআর থেকে পাওয়া অর্থ পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অংশীদারের মধ্যে বণ্টিত হবে। ইউপিআই পরিচালনাকারী ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া বা এনপিসিআই (NPCI) ১৫ অক্টোবর থেকে এই নতুন কাঠামো কার্যকর করার কথা জানিয়েছে।

কিন্তু, ব্যবসায়ীদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অন্য জায়গায়। এমডিআর সরাসরি ক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া যাবে না বলা হলেও, ব্যবসায়ীরা যদি পণ্যের দাম বাড়িয়ে সেই খরচ পরোক্ষভাবে ক্রেতার উপর চাপিয়ে দেন, তা হলে তার প্রভাব বাজারে পড়তে পারে। এই আশঙ্কা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ব্যবসায়ী মহলে আলোচনায় এসেছে। দিল্লির চাঁদনি চক এলাকার কয়েক জন ব্যবসায়ীও নতুন মাশুল নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ও তাঁদের বক্তব্য, ইউপিআই এখন ব্যবসার দৈনন্দিন ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হওয়ায় অতিরিক্ত খরচ সামলানো সহজ হবে না। সরকার অবশ্য জানিয়েছে, ব্যবসায়ীরা যাতে সরাসরি গ্রাহকের কাছ থেকে ইউপিআই মাশুল আদায় করতে না পারেন, সে দিকে নজর রাখা হবে। কেন্দ্রের বক্তব্য, ইউপিআই ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা যাতে বদলে না যায়, সেটিই অন্যতম লক্ষ্য। এমনকি নতুন এমডিআর চালুর পর নগদ লেনদেন উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়বে বলেও সরকার মনে করছে না। সরকারের তরফে বলা হয়েছে, ইউপিআইয়ের সুবিধা এবং ব্যাপক ব্যবহার বজায় থাকবে।

আরও পড়ুন : Deepti Sharma on India vs Pakistan women Asia Cup | পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামার আগে দীপ্তির হুঙ্কার, ‘ওদের থেকে এক ধাপ এগিয়েই থাকি’

রুপে ডেবিট কার্ডের ব্যবহার নিয়েও সরকারের তরফে প্রচারের কথা বলা হয়েছে। সরকারি ব্যাখ্যায়, রুপে ডেবিট কার্ডে এমডিআর না থাকার সুবিধা রয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীদের কাছে ডিজিটাল পেমেন্টের বিকল্প হিসেবে রুপে ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে আনা হচ্ছে। ইউপিআইয়ের নতুন মাশুল কাঠামোর পাশাপাশি এই বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও জনপ্রিয় করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। আরও একটি বিষয় নজরে রাখার মতো, নতুন মাশুলের প্রভাব সব ইউপিআই ব্যবহারকারীর উপর সমান নয়। কোনও ব্যক্তি যদি বন্ধুকে ২০ হাজার টাকা পাঠান, সেই পি২পি লেনদেনে এই ০.৪ শতাংশ এমডিআর বসবে না। কিন্তু কোনও ব্যবসায়ীর কিউআর কোডে ২০ হাজার টাকা পণ্যের দাম হিসেবে দেওয়া হলে, সেটি যোগ্য পি২এম লেনদেন হলে নতুন মাশুল কাঠামোর আওতায় আসতে পারে। অর্থাৎ একই ইউপিআই প্ল্যাটফর্ম হলেও টাকা পাঠানোর ধরন অনুযায়ী নিয়ম আলাদা হবে।

ফলে ১৫ অক্টোবরের পর ইউপিআই সম্পূর্ণ অর্থপ্রদানের জন্য মাশুলযুক্ত হয়ে যাচ্ছে, এমন ধারণা ঠিক না। ২ হাজার টাকার বেশি নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন খরচ যুক্ত হচ্ছে। তার উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি থাকায় ব্যবসায়ীর তাৎক্ষণিক পেমেন্ট-প্রসেসিং খরচ কিছুটা বাড়বে। তবে যোগ্য জিএসটি-নিবন্ধিত ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে আইটিসির সুযোগ থাকায় শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি করের কতটা প্রকৃত আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে, তা তাঁর কর কাঠামোর উপর নির্ভর করবে। ইউপিআইয়ের এই নতুন মাশুল কাঠামো নিয়ে বিতর্ক যতই বাড়ুক, একটি বিষয় নিশ্চিত, ১৫ অক্টোবর থেকে ২ হাজার টাকার বেশি নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক পেমেন্টের হিসাব বদলাতে চলেছে। ০.৪ শতাংশ এমডিআর, সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা সীমা, নির্দিষ্ট পরিষেবায় ৫ টাকা মাশুল ও এমডিআরের উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি, এই চারটি বিষয় ব্যবসায়ীদের নতুন নিয়ম বোঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে সরাসরি মাশুল না থাকলেও, বাজারে ব্যবসায়ীরা এই অতিরিক্ত ব্যয় কী ভাবে সামলান, তার উপর ভবিষ্যতে পণ্য ও পরিষেবার দামে কোনও পরোক্ষ প্রভাব পড়ে কি না, সেটিই নজরে থাকবে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sourav Ganguly on Pakistan | বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে নামার আগে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা সৌরভের, মহারাজের পছন্দের চার ক্রিকেটার কারা জানালেন প্রকাশ্যে

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন