Suvendu Adhikari Ayushman Bharat, Ayushman Bharat West Bengal latest | পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারতের এক মাস! কত পরিবার পেল চিকিৎসার সুবিধা, বড় দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

SHARE:

পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা চালুর এক মাস পূর্ণ হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে রাজ্যের কয়েক হাজার পরিবার কেন্দ্রীয় সরকারের এই স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। চিকিৎসার খরচের চাপ কমানো থেকে শুরু করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া, এই প্রকল্পকে ঘিরে রাজ্য সরকারের একাধিক লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার কথাও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা চালুর এক মাস পূর্ণ হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে রাজ্যের কয়েক হাজার পরিবার কেন্দ্রীয় সরকারের এই স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। চিকিৎসার খরচের চাপ কমানো থেকে শুরু করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া, এই প্রকল্পকে ঘিরে রাজ্য সরকারের একাধিক লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার কথাও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। গত ১৬ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু হয়েছিল আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা। এক মাসের মাথায় সোমবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে নিজের বক্তব্য জানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার সুবিধা পেয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কত টাকা খরচ হয়েছে বা ঠিক কত জন রোগী এই পরিষেবা নিয়েছেন, সেই নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তাঁর পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এক মাসে প্রকল্পটির আর্থিক পরিসর এবং মোট উপভোক্তার সংখ্যা নিয়ে বিস্তারিত সরকারি তথ্য প্রকাশের

আরও পড়ুন : CM Suvendu Adhikari on West Bengal Investment | Rs 5000 Crore Investment : সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা! বাংলায় ৫ হাজার কোটির বিনিয়োগ, ১৪০ নতুন স্টোর থেকে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প

স্বাস্থ্য পরিষেবাকে নাগরিকের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের লক্ষ্য শুধু চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করা নয়, সাধারণ মানুষের কাছে সেই পরিষেবা সহজলভ্য করে তোলা। বিশেষ করে আর্থিক কারণে যাঁরা উন্নত চিকিৎসা থেকে দূরে থাকেন, তাঁদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। চিকিৎসার সময়ে হাসপাতালের খরচ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অস্ত্রোপচার বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবার ব্যয় অনেক পরিবারের কাছেই বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে সেই চাপ কমানোর লক্ষ্যেই জোর দেওয়া হচ্ছে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। সোমবারের পোস্টে শুভেন্দু লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিশেষ করে সুবিধা-বঞ্চিত নাগরিকদের জন্য সুলভ, মর্যাদাপূর্ণ এবং উপযুক্ত গুণমানসম্পন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমাদের সম্মিলিত লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের শরিক হতে পেরে আনন্দিত।’ এরপরই তিনি জানান, ২০২৬ সালের ১৬ অগস্ট পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা চালু হওয়ার এক মাস পূর্ণ হয়েছে এবং এর সুবিধা ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার পরিবারের কাছে পৌঁছে গিয়েছে।

রাজ্যে প্রকল্পটির সূচনা ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কারণ দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য পরিষেবায় সাধারণ মানুষের ব্যয়ের চাপ একটি বড় বিষয় হয়ে রয়েছে। কোনও পরিবারের এক জন সদস্য গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার খরচ মেটাতে সঞ্চয় শেষ হয়ে যাওয়া, ধার করতে হওয়া কিংবা সম্পত্তি বিক্রি করার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়। সেই জায়গায় সরকারি স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া অনেক পরিবারের কাছে বড় সহায়তা হয়ে উঠতে পারে। আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা মূলত স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তৈরি কেন্দ্রীয় প্রকল্প। এর মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলি নির্দিষ্ট চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ পায়। পশ্চিমবঙ্গে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পর এখন নজর রয়েছে, কত দ্রুত এর সুবিধা রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছয়। শহরাঞ্চলের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী আর্থিক ভাবে দুর্বল পরিবারের কাছে প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : Narendra Modi BRICS Speech, Rare Earth Minerals | জিনপিংয়ের সামনেই বিরল মৃত্তিকা নিয়ে মোদীর কড়া বার্তা, প্রযুক্তি-খনিজকে হাতিয়ার করার বিরুদ্ধে সরব ভারত

এক মাসের হিসাবে ‘কয়েক হাজার পরিবার’ সুবিধা পেয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে এই তথ্য সামনে এসেছে। কিন্তু প্রকল্পের মোট ব্যয়ের পরিমাণ কিংবা চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এক মাসের সাফল্যকে পরিমাপ করার ক্ষেত্রে আপাতত উপভোক্তার সংখ্যার এই ঘোষণাই প্রধান তথ্য। আগামী দিনে জেলা ধরে কত পরিবার সুবিধা পেল, কোন কোন হাসপাতালে কতগুলি চিকিৎসা হয়েছে ও সরকারের তরফে মোট কত টাকা ব্যয় হয়েছে, সেই পরিসংখ্যান সামনে এলে প্রকল্পের কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ছবি পাওয়া যাবে। রাজ্য সরকারের বক্তব্যে বার বার উঠে এসেছে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টিও। শুধু স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড বা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করলেই কাজ শেষ হয় না। সেই সুবিধা কার্যকর করতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত হাসপাতাল, চিকিৎসা পরিষেবা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ ও প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী। ফলে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সঙ্গে রাজ্যের সরকারি ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা পরিকাঠামোর সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বিশেষ করে গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে দূরত্ব একটি বড় সমস্যা। প্রত্যন্ত এলাকার কোনও পরিবারকে গুরুতর রোগের চিকিৎসার জন্য দূরের শহরে ছুটতে হলে যাতায়াত, থাকা এবং চিকিৎসার ব্যয়, সব মিলিয়ে পরিবারের উপর চাপ বাড়ে। তাই প্রকল্পের সুবিধা যদি স্থানীয় স্তরে আরও বেশি হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রের মাধ্যমে পাওয়া যায়, তা হলে এর সুফল আরও বিস্তৃত হতে পারে। সরকারের সামনে এখন সেই পরিসর বাড়ানোর কাজই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। শুভেন্দুর বক্তব্যে চিকিৎসার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি নাগরিকের মর্যাদার কথাও উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে অর্থের অভাবে কোনও মানুষ যেন পিছিয়ে না পড়েন, সেই লক্ষ্যেই সরকারি ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের এক মাস পূর্তিতে তাঁর এই বক্তব্যকে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসাবেই দেখা হচ্ছে।

কিন্তু, এক মাসের সাফল্য নিয়ে আলোচনা করতে গেলে পরিসংখ্যানের দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। ‘কয়েক হাজার পরিবার’ সুবিধা পেয়েছে, এই তথ্যের পাশাপাশি যদি মোট চিকিৎসা, হাসপাতালভিত্তিক পরিষেবা, জেলা অনুযায়ী উপভোক্তা ও ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা হয়, তা হলে সাধারণ মানুষের কাছে প্রকল্পটির বাস্তব চিত্র আরও পরিষ্কার হবে। বিশেষ করে প্রকল্পে কত পরিবার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে কত জন বাস্তবে চিকিৎসার সুবিধা পেয়েছেন, সেই তথ্য ভবিষ্যতের মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এক মাসের যাত্রায় আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা কয়েক হাজার পরিবারের কাছে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী দিনে সেই সংখ্যা কতটা বাড়ে, গ্রাম ও শহর মিলিয়ে প্রকল্পের পরিধি কতটা বিস্তৃত হয় এবং চিকিৎসার খরচ কমানোর ক্ষেত্রে এর প্রভাব কতটা পড়ে, তা নজরে থাকবে। পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত যোজনার প্রথম মাসের এই পর্বে নির্দিষ্ট ব্যয়ের হিসাব বা মোট রোগীর সংখ্যা এখনও সামনে না এলেও সরকারের তরফে প্রকল্পের সুফল পৌঁছনোর দাবি জানানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশিত হলে এক মাসের বাস্তব সাফল্যের পূর্ণ চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :  Nandigram Election 2026, Suvendu Adhikari Nandigram | নন্দীগ্রামে উন্নয়নের একগুচ্ছ ঘোষণা, ভোটের ময়দানে শুভেন্দুর বড় চ্যালেঞ্জ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন