সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বেজিং : প্রেমের সম্পর্ক, হলিউডের পরিচিত মুখ, কোটি কোটি টাকার তথাকথিত ‘ব্রাইড ফি’ এবং সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সেই অর্থ ফেরত পেতে নামী আইনজীবীর দ্বারস্থ হওয়া, পুরো ঘটনাটি শুনলে যেন কোনও সিনেমার চিত্রনাট্য মনে হতে পারে। কিন্তু চিনে এখন এমনই এক ঘটনা ঘিরে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রে ক্রিপ্টো দুনিয়ার অন্যতম পরিচিত মুখ জাস্টিন সান (Justin Sun), চিনা অভিনেত্রী জিং তিয়ান (Jing Tian) ও উচ্চপ্রোফাইল আইনি লড়াইয়ের জন্য পরিচিত আইনজীবী ঝাং কিহুয়াই (Zhang Qihuai)।

আরও পড়ুন : Aamir Khan Lalkara | ৬১-তে ২৫ বছরের যুবক আমির খান! ‘লালকারা’-র জন্য ফের বড় শারীরিক বদল
ঘটনাটি নিয়ে চিনা সমাজমাধ্যমে ও সমস্ত মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন ঘুরছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আদৌ কি জাস্টিন সান ও জিং তিয়ানের মধ্যে বিয়ের মতো কোনও সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল? যদি হয়ে থাকে, তা হলে সেই সম্পর্কের সঙ্গে প্রায় ৪৫ লক্ষ মার্কিন ডলারের অর্থের যোগ কোথায়? আর সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরে সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য কেনই বা এমন এক নামী আইনজীবীকে সামনে আনা হল? এই প্রশ্নগুলির নির্ভরযোগ্য উত্তর এখনও সামনে না এলেও ঘটনা ঘিরে কৌতূহল ক্রমেই বাড়ছে। জাস্টিন সান ক্রিপ্টো দুনিয়ায় অপরিচিত নাম নন। প্রযুক্তি ও ডিজিটাল মুদ্রার জগতে পরিচিতির পাশাপাশি তাঁর নানা অভিনব প্রচারমূলক কর্মকাণ্ডও বহুবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছে। সেই অতীতের কারণেই নতুন এই কাহিনি সামনে আসার পর চিনা নেটিজেনদের একাংশ প্রথমেই বিষয়টি নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন। অনেকের প্রশ্ন, ঘটনাটি কতটা বাস্তব এবং কতটা প্রচারের কৌশল, তা কি আদৌ আলাদা করে বোঝা সম্ভব?

জাস্টিন সানের অতীতের কয়েকটি ঘটনা সেই সন্দেহকে আরও উসকে দিয়েছে। এক সময় তিনি ওয়ারেন বাফেটের (Warren Buffett) সঙ্গে একটি দাতব্য মধ্যাহ্নভোজের জন্য প্রায় ৪৬ লক্ষ মার্কিন ডলার দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে সেই মধ্যাহ্নভোজ পিছিয়ে যায়। আরেকটি বহুল আলোচিত ঘটনায় তিনি দেওয়ালে টেপ দিয়ে আটকানো একটি কলা কিনেছিলেন প্রায় ৬২ লক্ষ মার্কিন ডলারে। পরে সেই কলাটিই খেয়ে ফেলার দৃশ্যও সামনে আসে। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর সাম্প্রতিক ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে এমন বড় অঙ্কের অর্থের দাবি সামনে আসতেই পুরনো ঘটনাগুলির কথা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অন্য দিকে, জিং তিয়ান চিনের জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম। চিনা চলচ্চিত্রে পরিচিতি পাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছেও তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছে। হলিউডের কাজের সূত্রে চিনের বাইরে তাঁর জনপ্রিয়তাও প্রবল রয়েছে। ফলে ওঁর সঙ্গে জাস্টিন সানের সম্পর্কের দাবি সামনে আসার পরে ঘটনাটি শুধু ক্রিপ্টো জগতের আলোচনায় আটকে থাকেনি, তা বিনোদন জগতেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে কথিত ৪৫ লক্ষ মার্কিন ডলারের ‘ব্রাইড ফি’ নিয়ে। এই বিপুল অর্থ কেন দেওয়া হয়েছিল, কাকে দেওয়া হয়েছিল ও এর বিনিময়ে ঠিক কী ধরনের চুক্তি হয়েছিল, তা নিয়ে নানা দাবি ঘুরছে। এখানেই কাহিনিটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কারণ সম্পর্কের দাবি যেমন প্রশ্নের মুখে, তেমনই অর্থ লেনদেনের বিষয়টিও নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ঝাং কিহুয়াই। চিনে উচ্চপ্রোফাইল আইনি লড়াইয়ের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছে। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরে কথিত অর্থ ফেরতের জন্য তাঁর মতো পরিচিত আইনজীবীকে সামনে আনা হয়েছে, এই তথ্যই কাহিনিটিকে আরও নাটকীয় করে তুলেছে। ফলে সাধারণ প্রেমের সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিষয়টি এখন অর্থ, আইনি পদক্ষেপ এবং তারকাখ্যাতির সংযোগস্থলে পৌঁছে গিয়েছে। চিনের সমাজমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষের প্রতিক্রিয়াও বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। প্রথমে অনেকেই জানতে চেয়েছেন, জাস্টিন সান এবং জিং তিয়ান যে কোনও সময় সম্পর্কে ছিলেন, সেটাই বা তাঁরা জানতেন না কেন। এরপর আলোচনার কেন্দ্র চলে যায় কথিত অর্থের পরিমাণে। প্রায় ৪৫ লক্ষ মার্কিন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য কয়েক দশকোটি টাকার কাছাকাছি, এই অঙ্কের কথা সামনে আসতেই বিস্ময় আরও বেড়ে যায়। তারপর শুরু হয় তৃতীয় ধাপের প্রশ্ন, পুরো ঘটনাটিই কি সত্যি?

এই সংশয়কে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ জাস্টিন সানের ব্যক্তিগত প্রচার ও জনসমক্ষে নিজের উপস্থিতি তৈরির কৌশল নিয়ে অতীতেও বিস্তর আলোচনা হয়েছে। ফলে তাঁর নাম জড়ানো কোনও অস্বাভাবিক কাহিনি সামনে এলেই চিনের অনলাইন দুনিয়ায় তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা নতুন নয়। একই সঙ্গে এটাও ঠিক যে, কোনও ব্যক্তির অতীতের প্রচারমূলক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে নতুন কোনও অভিযোগ বা দাবিকে মিথ্যা বলে ধরে নেওয়া যায় না। সাম্প্রতিক এই ঘটনায় কোন তথ্য নথিভুক্ত, কোনটি সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি এবং কোন অংশ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আলোচনা, এই পার্থক্য করাটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল অর্থের পরিমাণ। কয়েক মিলিয়ন ডলারের অঙ্ক কোনও সাধারণ ব্যক্তিগত সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে তা স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক কৌতূহল তৈরি করে। তার সঙ্গে যদি যুক্ত হয় চলচ্চিত্র তারকার নাম এবং সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরে অর্থ ফেরতের আইনি উদ্যোগ, তা হলে সংবাদমূল্য আরও বেড়ে যায়।
জিং তিয়ানের জনপ্রিয়তাও এই আলোচনাকে অন্য মাত্রা দিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একজন পরিচিত অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জনমানসে বরাবরই আগ্রহ থাকে। কিন্তু এখানে শুধু সম্পর্কের গুঞ্জন নয়, অর্থ লেনদেন আর আইনি পদক্ষেপের কথাও উঠে আসায় বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে। ফলে বিনোদন জগতের খবর হিসেবে শুরু হওয়া আলোচনা ধীরে ধীরে ব্যবসা, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও আইনের ক্ষেত্রেও পৌঁছে গিয়েছে। জাস্টিন সানের ক্ষেত্রে অবশ্য বিতর্ক নতুন নয়। তাঁর নানা ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ অতীতে সংবাদমাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছে। সেই কারণে এবারও অনেকে ঘটনাটিকে তাঁর পরিচিত জনসংযোগ কৌশলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। আবার অন্য অংশের প্রশ্ন, যদি সত্যিই কোনও অর্থ লেনদেন হয়ে থাকে, তা হলে তার আইনি ভিত্তি কী ছিল এবং সেই অর্থ ফেরতের দাবি কতটা গ্রহণযোগ্য?

এই মুহূর্তে তাই কাহিনির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ তার উত্তর নয়, প্রশ্নগুলিই। সম্পর্কটি কতটা সত্যি ছিল, কথিত ৪৫ লক্ষ ডলারের অর্থের প্রকৃতি কী, কোনও লিখিত চুক্তি হয়েছিল কি না এবং কেন অর্থ ফেরতের জন্য আইনজীবীর দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজন হল, এসব বিষয় নিয়েই আলোচনা চলছে। চিনে ঘটনাটি যে পরিমাণ আগ্রহ তৈরি করেছে, তার নেপথ্যে রয়েছে তিনটি উপাদান, ক্রিপ্টো দুনিয়ার বিপুল অর্থ, চলচ্চিত্র তারকার পরিচিতি এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ঘিরে আইনি টানাপড়েন। তার সঙ্গে জাস্টিন সানের আগের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড যুক্ত হওয়ায় কাহিনিটি আরও চর্চিত হয়েছে। কিন্তু, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রতিটি দাবি সত্য ধরে নেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অপেক্ষা করা জরুরি। কারণ এই ঘটনায় এখনও এমন বহু প্রশ্ন রয়েছে, যার পূর্ণ উত্তর প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে আপাতত এটিকে এক রহস্যময় উচ্চপ্রোফাইল সম্পর্কের কাহিনি হিসেবেই দেখা হচ্ছে, যেখানে প্রেমের গুঞ্জনের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে কোটি টাকার অঙ্ক আর সেই অর্থকে ঘিরে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা। উল্লেখ্য, জাস্টিন সান, জিং তিয়ান আর ঝাং কিহুয়াই তিনটি নামকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক তাই চিনের সমাজমাধ্যমে আপাতত থামার লক্ষণ দেখাচ্ছে না। সম্পর্ক সত্যি হোক বা গুঞ্জন, অর্থের দাবি বাস্তব হোক বা বিতর্কিত, ঘটনাটি যে ইতিমধ্যেই জনমানসে বড় কৌতূহল তৈরি করেছে, তা নিয়ে সংশয় নেই।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Equal Earth Map India | বদলে যাচ্ছে পৃথিবীর মানচিত্র! নতুন ‘ইকুয়াল আর্থ’-এ বড় হবে ভারত, কমবে আমেরিকা-গ্রিনল্যান্ডের আয়তন?




