Annapurna Yojana fourth installment, Annapurna Yojana September 2026 | অন্নপূর্ণার চতুর্থ কিস্তিতে ৩ হাজার টাকা, দেড় কোটিরও বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে অর্থ! বাংলায় ‘কাটমানি’ নিয়েও প্রধাএনরেন্দ্র মোদীর কটাক্ষ

SHARE:

অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) চতুর্থ কিস্তির টাকা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের উদ্দেশ্যে বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi)। ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার অন্নপূর্ণা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, রাজ্যের প্রায় দেড় কোটি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসিক ৩ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা পৌঁছচ্ছে।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) চতুর্থ কিস্তির টাকা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের উদ্দেশ্যে বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi)। ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার অন্নপূর্ণা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, রাজ্যের প্রায় দেড় কোটি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসিক ৩ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা পৌঁছচ্ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চতুর্থ কিস্তির অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে মহিলাদের আর্থিক নিরাপত্তা, সংসারের খরচ সামলানোর সক্ষমতা এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার প্রসঙ্গও।

আরও পড়ুন : Vande Mataram mandatory in schools, Suvendu Adhikari decision | স্কুলে বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতরম’: সোমবার থেকেই নতুন নিয়ম, শুভেন্দু অধিকারী -এর ঘোষণায় জোর চর্চা রাজ্যে

অন্নপূর্ণা যোজনা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্তও রয়েছে। সরকারি চাকরিতে থাকা, আয়কর দেওয়া বা কিছু নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের সুবিধা প্রযোজ্য নয়। অর্থ সরাসরি আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ে চাপ কমলে মহিলাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওষুধ কেনা, সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের খরচ কিংবা সন্তানের পড়াশোনার মতো কাজে প্রতি মাসের এই ৩ হাজার টাকা পরিবারের জন্য সহায়ক হতে পারে। তিনি জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার চতুর্থ কিস্তিতে প্রায় দেড় কোটি মহিলা অর্থ পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী -এর ভাষণে উঠে আসে সরাসরি অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টিও। তিনি দাবি করেন, উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছে দেওয়ার ফলে মাঝখানে কোনও অর্থ কেটে নেওয়ার সুযোগ নেই। এই প্রসঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গের আগের সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কটাক্ষ করেন তিনি। মোদীর বক্তব্য, ‘বাংলায় এখন কাটমানি চলে না।’ তাঁর দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ কোনও মধ্যস্থতাকারীর হাতে না গিয়ে সরাসরি মহিলাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছচ্ছে। এই বক্তব্যটি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সমালোচনার অংশ হিসেবেই উঠে এসেছে।

অন্নপূর্ণা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মসূচীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনও যুক্ত ছিল। ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে অন্নপূর্ণা দিবস পালনের ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কলকাতায় ও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এই উপলক্ষ্যে সরকারি কর্মসূচী আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যও সেই কর্মসূচীর অংশ হিসেবেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে সম্প্রচারিত হয়। অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সরকারি ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া আর তাঁদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতিতে সহায়তা করা। আবেদন ও তথ্য যাচাইয়ের জন্য সরকারি ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, চতুর্থ কিস্তির উপভোক্তার সংখ্যার ‘প্রায় দেড় কোটি’ বলে উল্লেখ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর বক্তব্যে মহিলাদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন। অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী মাতৃবন্দনা যোজনা (Pradhan Mantri Matru Vandana Yojana), কন্যাশিশুর শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও (Beti Bachao Beti Padhao), রান্নার গ্যাসের জন্য উজ্জ্বলা যোজনা (Ujjwala Yojana), স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) ও মেয়েদের ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের জন্য সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার কথা তাঁর ভাষণে উঠে আসে। পাশাপাশি স্কুলে মেয়েদের জন্য শৌচালয় নির্মাণ এবং মহিলাদের বাড়ির মালিকানায় অংশীদারি দেওয়ার বিষয়ও তিনি উল্লেখ করেন। মহিলাদের আর্থিক সহায়তাকে বৃহত্তর নারী ক্ষমতায়নের সঙ্গে যুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচে মহিলাদের হাতে নির্দিষ্ট অর্থ থাকলে তাঁদের অন্যের উপর নির্ভরতা কমতে পারে। অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা সেই জায়গায় একটি নিয়মিত সহায়তা হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে যোগ্য কোনও মহিলা যাতে প্রকল্পের বাইরে না থাকেন, সে বিষয়েও সরকারের লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন মোদী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী -এর বক্তৃতার অন্য একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল পশ্চিমবঙ্গের পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, তাঁর মতে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্পের সুবিধা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে পুরোপুরি পাননি। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে নতুন সরকার আসার পরে আটকে থাকা প্রকল্পগুলির কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই দাবির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মহিলাদের জন্য চালু বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের প্রসঙ্গও জুড়ে দেন। আবাসন প্রকল্প নিয়েও এ দিন বড় সংখ্যার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে চিহ্নিত ৫০ লক্ষের বেশি দরিদ্র পরিবারকে পাকা বাড়ি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (PM Awas Yojana) আওতায় মহিলাদের বাড়ির মালিকানা বা যৌথ মালিকানার বিষয়টির উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ সরাসরি অ্যাকাউন্টে পৌঁছনোর বিষয়টি নিয়ে সরকারি নথিতেও একই ধরনের ব্যবস্থার কথা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকল্প সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আবেদনকারীদের পরিচয় ও যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য ভোটার পরিচয়পত্র, আধার এবং সক্রিয় মোবাইল নম্বরের মতো তথ্য প্রয়োজন বলে সরকারি নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে। তবে টাকা না পৌঁছনোর ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য, আধার সংযোগ ও নথির গরমিল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে উল্লেখ। সম্প্রতি এমন সমস্যার কারণে কিছু যোগ্য উপভোক্তার টাকা আটকে থাকার কথাও উঠে এসেছে। তাই, ব্যাঙ্ক ও পরিচয়পত্রের তথ্য সঠিকভাবে সংযুক্ত থাকা জরুরি বলে জানানো হয়েছে।

এ দিনের অনুষ্ঠানে মহিলাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে একাধিক প্রকল্প চালু করা হয়েছে। শিশু বয়স থেকে মেয়েদের শিক্ষা, মাতৃত্বকালীন সহায়তা, রান্নার জ্বালানি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, বাড়ি এবং আর্থিক সুরক্ষা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের সরকারি প্রকল্পগুলিকে তিনি একই আলোচনার মধ্যে আনেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মহিলাদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়লে পরিবারের সামগ্রিক অবস্থাতেও তার প্রভাব পড়ে। রাজনৈতিক দিক থেকেও অন্নপূর্ণা দিবসের অনুষ্ঠানটি তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর মহিলাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন মোদী। তাঁর দাবি, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনে মা-বোনেদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সেই কারণেই নতুন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে মহিলাদের উন্নয়নকে সামনে রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান। রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে এই দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তাকে সরকারের নারী-কেন্দ্রিক নীতির অন্যতম উদ্যোগ হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন। অন্নপূর্ণা যোজনার চতুর্থ কিস্তি নিয়ে এ দিনের ঘোষণায় তাই একই সঙ্গে উঠে আসে অর্থনৈতিক সহায়তা, সরাসরি ব্যাঙ্কে টাকা পাঠানো, মহিলাদের আর্থিক স্বাধীনতা আর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। প্রায় দেড় কোটি মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা পৌঁছনোর তথ্য এখন এই প্রকল্পের অন্যতম বড় দিক। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যোগ্য আরও মহিলাকে প্রকল্পের আওতায় আনার কথাও সরকারের তরফে বলা হয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : BRICS India China relations, Modi Xi Jinping meeting 2026, ‘ভারত-চিন পরস্পরের অংশীদার হোক’! শি ফিরতেই দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বড় বার্তা বেজিংয়ের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন