সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আবারও কঠিন পরিস্থিতির মুখে অস্ট্রেলিয়া। একের পর এক দুঃসংবাদ যেন পিছু ছাড়ছে না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে এবারের বিশ্বকাপ থেকে পুরোপুরি ছিটকে গেলেন অভিজ্ঞ পেসার জশ হেজ়লউড (Josh Hazlewood)। ৩৫ বছর বয়সী এই তারকা বোলার যে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন না, তা নিশ্চিত করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। শুধু তাই নয়, তাঁর পরিবর্ত হিসাবে এখনই কোনও ক্রিকেটারের নাম ঘোষণা না করায় অস্ট্রেলিয়ার দল নির্বাচন ও বোলিং আক্রমণ নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরাল হচ্ছে। প্রথম দিকে আশা করা হয়েছিল, বিশ্বকাপ চলাকালীন বা প্রতিযোগিতার শেষের দিকে হয়তো দলে ফিরতে পারেন হেজ়লউড। কিন্তু শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক কমিটির তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেই সম্ভাবনাও প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে গোটা বিশ্বকাপেই হেজ়লউডকে ছাড়া মাঠে নামতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে নির্ভরযোগ্য পেস অস্ত্র হিসেবে পরিচিত এই বোলারের অনুপস্থিতি যে বড় শূন্যতা তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য।
হেজলউডের ছিটকে যাওয়াটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক (Mitchell Starc)। অন্য দিকে, চোটের কারণে বিশ্বকাপে নেই অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স (Pat Cummins)। অর্থাৎ প্রথম সারির তিন জন পেসারকেই এবারের বিশ্বকাপে পাচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া। এই পরিস্থিতিতে দলের বোলিং আক্রমণের ভার গিয়ে পড়ছে তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ নেথান এলিস (Nathan Ellis) এবং বেন ডোয়ারশুইস (Ben Dwarshuis) -এর কাঁধে।নির্বাচকদের বক্তব্যেও ধরা পড়েছে উদ্বেগের সুর। অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক টনি ডোডমেড (Tony Dodemaide) এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম সুপার এইট পর্বের সময় হেজলউড পুরোপুরি ফিট হয়ে যাবে। কিন্তু এখন স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, ওর সুস্থ হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। এই অবস্থায় ওকে খেলানো মানে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নেওয়া। তাই আপাতত কোনও পরিবর্ত ক্রিকেটারের নাম ঘোষণা করছি না। প্রথম দিকের ম্যাচগুলোর জন্য দল প্রস্তুত রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরে নতুন কাউকে নেওয়া হতে পারে।’ তাঁর এই মন্তব্য থেকেই পরিষ্কার, অস্ট্রেলিয়া এখন পরিস্থিতি বুঝে ধাপে ধাপে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে।
বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও ধাক্কা খেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে নির্ধারিত প্রস্তুতি ম্যাচটি বাতিল হয়ে যায়। ফলে ম্যাচের মধ্যে দিয়ে নিজেদের কম্বিনেশন যাচাই করার সুযোগ হারায় দল। এখন ১১ ফেব্রুয়ারি আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের আগে ছ’দিন সময় পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। এই সময়ের মধ্যেই নতুন বোলিং আক্রমণকে ছন্দে ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলি তারা খেলবে কলম্বো (Colombo) এবং পাল্লেকেলেতে (Pallekele), যেখানে পিচ ও আবহাওয়া পেসারদের জন্য কতটা সহায়ক হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
হেজ়লউডের চোটও অস্ট্রেলিয়ার দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। উল্লেখ্য, গোড়ালির চোটের কারণে অ্যাশেজ সিরিজেও তিনি খেলতে পারেননি। দীর্ঘদিন ধরেই চোট-আঘাত তাঁর কেরিয়ারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেও ছিটকে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আর কতদিন খেলতে পারবেন হেজ়লউড, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্রিকেটমহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিজ্ঞ তিন পেসারকে ছাড়া বিশ্বকাপে নামা অস্ট্রেলিয়ার জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে যেখানে পাওয়ারপ্লে ও ডেথ ওভারে অভিজ্ঞ বোলারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এলিস বা ডোয়ারশুইসের মতো বোলারদের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে। একই সঙ্গে অলরাউন্ডারদেরও বাড়তি দায়িত্ব নিতে হতে পারে। তবে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট সংস্কৃতি বরাবরই লড়াকু মানসিকতার জন্য পরিচিত। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ঘুরে দাঁড়ানোর নজির তাদের ইতিহাসে কম নেই।
রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপ নয়, পুরোপুরি ক্রিকেটীয় কারণেই অস্ট্রেলিয়া এখন কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বকাপ শুরুর মুখে এই চোট-সংকট যে দলের পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলবে, তা নিশ্চিত। তবু অস্ট্রেলিয়া শিবিরে আশা, নতুন মুখেরা সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে এই সংকটই হয়তো ভবিষ্যতের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। তবে জশ হেজলউডের ছিটকে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্নে বড় ধাক্কা হলেও, এই পরিস্থিতিতে দল কতটা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে, সেটাই এখন দেখার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার এই বদলে যাওয়া পেস আক্রমণ কতটা সফল হয়, সেদিকেই তাকিয়ে থাকবে ক্রিকেটবিশ্ব।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India T20 victory, Ishan Kishan-Suryakumar Yadav | সূর্যোদয়ের রাতে ঈশানের ঝড়, টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে দ্রুত ২০০+ রান তাড়া ভারতের




