সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ লখনউ : উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ার পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সীমা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ানো হল। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অনুরোধ বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে আগামী ১০ এপ্রিল। এর ফলে আগে নির্ধারিত সময়সীমার তুলনায় প্রায় ৩৫ দিন অতিরিক্ত সময় পাচ্ছে রাজ্য প্রশাসন।নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশের মতো জনবহুল রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ। বিপুল সংখ্যক ভোটার, নথি যাচাই, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং শুনানির প্রক্রিয়া সঠিক ভাবে সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন বলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক কমিশনের কাছে লিখিত ভাবে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সেই আবেদন খতিয়ে দেখার পরই কমিশন সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের মোট ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। উত্তরপ্রদেশে এনুমারেশন ফর্ম জমা নেওয়ার পর গত ৬ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই খসড়া তালিকা প্রকাশের পর নাগরিকদের অভিযোগ, সংশোধন ও আপত্তি জানানোর জন্য প্রথমে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বিপুল সংখ্যক আবেদন ও অভিযোগ জমা পড়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সেই কারণেই এই সময়সীমা বাড়িয়ে ৬ মার্চ করা হয়েছে। শুধু অভিযোগ জমা নেওয়ার সময়ই নয়, খসড়া তালিকার ভিত্তিতে শুনানি, ভোটারদের নথি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্যও অতিরিক্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, এই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে ২৭ মার্চ। পাশাপাশি, ভোটারদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নথি ও তথ্য যাচাইয়ের জন্য সময় রাখা হয়েছে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত। এই সব ধাপ শেষ হওয়ার পরেই আগামী ১০ এপ্রিল উত্তরপ্রদেশে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
এর আগে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচী অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন ছিল ৬ মার্চ। নতুন সিদ্ধান্তে সেই দিন থেকে সময়সীমা বেড়ে দাঁড়াল ৩৫ দিন। কমিশনের অন্দরের মতে, এই সময় বাড়ানোর ফলে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা আরও বাড়বে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচন সংক্রান্ত বিতর্কের সম্ভাবনাও কমবে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আনুষ্ঠানিক ভাবে কমিশনকে চিঠি লিখে জানান যে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে আরও সময় প্রয়োজন। ওই চিঠিতে একাধিক সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। যেমন দুর্গম এলাকায় নথি যাচাইয়ে বিলম্ব, শহর ও গ্রামাঞ্চলে বিপুল সংখ্যক ভোটারের তথ্য সংশোধনের চাপ, এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে অনলাইন আপডেটের গতি মন্থর হওয়া। এই বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেই কমিশন সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ের দিকে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, এ রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। তার আগে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুনানি পর্ব চলবে। তবে পশ্চিমবঙ্গের তিনটি জেলা ইতিমধ্যেই শুনানির সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। সেই আবেদনগুলি কমিশন বিবেচনা করে দেখছে। যদিও এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন পরিবর্তনের কোনও ইঙ্গিত মেলেনি। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান আরও পরিষ্কার হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court of India) জমা দেওয়া একটি হলফনামায়। ওই হলফনামায় কমিশন পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত নানা অসঙ্গতি ও প্রশাসনিক সমস্যার কথা তুলে ধরে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। কমিশনের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষ করা হলেও স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা বজায় রাখতে প্রশাসনকে আরও তৎপর হতে হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন ও প্রকাশের সময়সীমা নিয়ে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু প্রশাসনিক ক্ষেত্রেই নয়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। উত্তরপ্রদেশের মতো বড় রাজ্যে ভোটার তালিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সামান্য ভুল বা অসঙ্গতি নিয়েও বিরোধী দলগুলির তরফে প্রশ্ন ওঠে। ফলে সময় বাড়িয়ে তালিকা আরও নিখুঁত করার সিদ্ধান্তকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। কিন্তু বিরোধীদের একাংশের দাবি, সময়সীমা বাড়ানোর ফলে ভবিষ্যতে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। যদিও নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে, এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রশাসনিক প্রয়োজন থেকেই নেওয়া হয়েছে এবং এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত নেই। কমিশনের বক্তব্য, ‘ভোটার তালিকার নির্ভুলতা গণতন্ত্রের ভিত্তি। সেই নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।’ উল্লেখ্য যে, উত্তরপ্রদেশে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্য দিকে, পশ্চিমবঙ্গ-সহ অন্যান্য রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয় এবং কমিশন ভবিষ্যতে আরও পরিবর্তন আনে কি না, সে দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Lakshmir Bhandar 3000 Rupees | মাসে ৩ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতি! বিধানসভায় লক্ষ্মীর ভান্ডারকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে চাপে ফেলতে শুভেন্দু অধিকারী




