Amit Shah Bengal message BJP leaders | মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা ঘিরে অমিত শাহর কড়া বার্তা, নতুন সরকারের সামনে বড় দায়িত্ব

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) -এর নাম ঘোষণার পরই দলের নেতাদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত বৈঠক থেকে তিনি একদিকে যেমন রাজ্যবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, তেমনই অন্যদিকে বিজেপি (BJP) নেতৃত্বকে মনে করিয়ে দিয়েছেন তাঁদের উপর অর্পিত দায়িত্বের কথা। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল একটি মূল ভাবনা, জনতার আস্থা ধরে রাখতে হবে যেকোনও মূল্যে। বিজেপির বিপুল জয়ের পর শাহ বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আমাদের উপর যে আস্থা রেখেছেন, তা অমূল্য। সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা প্রতিটি নেতার কর্তব্য। কাজ এমন হতে হবে যাতে মানুষের ভরসা কখনও নড়ে না যায়।’ তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ দীর্ঘদিন পর রাজ্যে সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে বিজেপি।

আরও পড়ুন : BJP Manifesto Bengal 2026, Amit Shah Bengal | মাসে ৩ হাজার ভাতা থেকে ফ্রী বাস, ডিএ-র প্রতিশ্রুতি, ২০২৬ ভোটের আগে বিজেপির বড় বাজি, অমিত শাহের ইস্তাহারে নজর কাড়ল একাধিক ঘোষণা

শাহ তাঁর বক্তব্যে পূর্ববর্তী শাসনব্যবস্থার সমালোচনাও করেন। তিনি বলেন, ‘মমতাজির শাসনে এক ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেও মানুষ আমাদের উপর ভরসা রেখে এই ফল দিয়েছে।’ একই সঙ্গে তিনি দলের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘জনতার প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। বাংলার মানুষের জন্য নিজেদের সেরাটুকু দিতে হবে।’ বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে আসে শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক লড়াই। ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) হারানোর ঘটনাকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন শাহ। তিনি বলেন, ‘ভবানীপুরের মানুষকে আমি অভিনন্দন জানাই। এর আগে নন্দীগ্রামে জয় নিয়ে নানা কথা হয়েছিল। কিন্তু এবার তো দিদির নিজের এলাকাতেই তাঁকে পরাজিত করেছেন শুভেন্দু।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে শুভেন্দুর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও জোরদার করেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই জয়কে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শাহ উল্লেখ করেন, ‘গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত এখন বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠিত হল। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Syama Prasad Mukherjee) জন্মভূমিতে তাঁর আদর্শে সরকার গড়া সম্ভব হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির পতাকা উত্তোলন দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ছিল। আজ সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।’ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিশদে বলতে গিয়ে শাহ জানান, গত এক দশকে রাজ্যে বিজেপির সংগঠন কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে। তাঁর কথায়, ‘২০১৪ সালে উপনির্বাচনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু, ২০১৬-তে কয়েকটি আসন, ২০২১-এ তা বেড়ে ৭৭, আর ২০২৬-এ ২০৭ আসন নিয়ে সরকার, এই পথচলা সহজ ছিল না।’ তিনি স্মরণ করেন দলের নিহত কর্মীদেরও। বলেন, ‘এই জয়ের পেছনে ৩২১ জন কর্মীর আত্মত্যাগ রয়েছে। তাঁদের অবদান কখনও ভুলে যাওয়া যাবে না।’ শাহ আরও দাবি করেন, এই নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীদের গড় জয়ব্যবধান প্রায় ২৮ হাজার ভোটের কাছাকাছি। তাঁর বক্তব্য, ‘ন’টি জেলায় বিরোধীরা কোনও আসন পায়নি। এমন জনসমর্থন বিরল।’ পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকেও প্রশংসা করেন তিনি। বলেন, ‘ভোটগ্রহণে প্রায় ৯৩ শতাংশ অংশগ্রহণ হয়েছে, যা নজিরবিহীন। কোনও গুরুতর অনিয়ম বা হিংসার খবর সামনে আসেনি।’

বিজেপির কয়েকজন নবনির্বাচিত বিধায়কের প্রসঙ্গও টেনে আনেন শাহ। পানিহাটির জয়ী প্রার্থী হিসেবে আরজি করের নির্যাতিতার মায়ের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন। আউশগ্রাম থেকে জয়ী গৃহপরিচারিকা কলিতা মাঝি (Kalita Majhi) এবং সন্দেশখালির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত রেখা পাত্র (Rekha Patra) -এর জয়কেও তিনি আলাদা করে তুলে ধরেন। পাশাপাশি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (Bankim Chandra Chattopadhyay) পরিবারের সদস্য সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের (Sumitra Chattopadhyay) জয়ের কথাও বলেন। তাঁর মন্তব্য, ‘বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তিতে বঙ্কিমচন্দ্রের পরিবারের সদস্যের বিধায়ক হওয়া তাৎপর্যপূর্ণ।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে শাহ জানান, বিজেপির লক্ষ্য একটি সুরক্ষিত ও উন্নত পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলা। তিনি বলেন, ‘অনুপ্রবেশমুক্ত, নিরাপদ এবং উন্নয়নমুখী রাজ্য তৈরি করাই আমাদের অগ্রাধিকার। সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতেই আমরা কাজ করব।’ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও রাজ্যকে দেশের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দিকেও কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন শাহ। কংগ্রেস (Congress)-এর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরে তারা কোনও নির্বাচনে সাফল্য পায়নি। এখন ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিজেদের দুর্বলতা ঢাকার চেষ্টা করছে।’ একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘বিভিন্ন রাজ্যে দীর্ঘদিন সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা কেন সরকার গঠন করতে পারেনি, তা তাদের ভেবে দেখা উচিত।’ নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে শাহর এই বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে যে প্রশাসন গড়ে উঠতে চলেছে, তার সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা। শনিবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে এই বার্তাই বিজেপি শিবিরে দিশা দেখাচ্ছে।

 

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : BJP Manifesto Bengal 2026, Amit Shah Bengal | মাসে ৩ হাজার ভাতা থেকে ফ্রী বাস, ডিএ-র প্রতিশ্রুতি, ২০২৬ ভোটের আগে বিজেপির বড় বাজি, অমিত শাহের ইস্তাহারে নজর কাড়ল একাধিক ঘোষণা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন