সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: বহুদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে কার্যকর হল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (Ayushman Bharat)। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। এর পরেই মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) নিজের এক্স (X) হ্যান্ডলে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাজ্যবাসীর জন্য শুভেচ্ছা বার্তা দেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের ভাই-বোনেদের কল্যাণই আমার কাছে সবার আগে। আমি অত্যন্ত খুশি যে, রাজ্যবাসী বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং উচ্চ মানসম্পন্ন এই স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।’ পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধা যাতে বাংলার মানুষ পান, সে বিষয়ে ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠেছিল, কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্প থেকে পশ্চিমবঙ্গকে দূরে রাখা হয়েছিল। বিশেষ করে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্র ও তৎকালীন রাজ্য সরকারের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) সরকারের আমলে এই প্রকল্প রাজ্যে চালু হয়নি বলে বারবার দাবি জানিয়েছিল বিজেপি (Bharatiya Janata Party) নেতৃত্ব। উল্লেখ্য, তৎকালীন রাজ্য সরকার ‘স্বাস্থ্যসাথী’ নামে একটি পৃথক স্বাস্থ্য প্রকল্প চালু করেছিল। সেই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের বাসিন্দাদের চিকিৎসা খরচের সহায়তা দেওয়া হত। তবে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের তুলনায় এর পরিধি ও সুবিধা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল রাজনৈতিক মহলে। নতুন সরকার আসার পর থেকেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সঙ্গে রাজ্যকে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ‘রাজ্যের মানুষের উন্নয়নের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘সোমবার থেকেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হচ্ছে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। কারণ, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় থাকা পরিবারগুলি তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলিতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের চিকিৎসা প্রায় বিনামূল্যে পেয়ে থাকে। এতে বিশেষ করে আর্থিকভাবে দুর্বল অংশের মানুষের উপকার হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্প চালু করে। এর লক্ষ্য ছিল দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করা। প্রকল্পটির অধীনে নির্দিষ্ট মানদণ্ডে নির্বাচিত পরিবারগুলি বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা পায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই এই প্রকল্প কার্যকর রয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ এর সুবিধা পেয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প চালুর ফলে কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্কের নতুন দিকও সামনে আসছে। বিজেপি নেতৃত্ব বহুদিন ধরেই দাবি করে আসছিল, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতির প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে আয়ুষ্মান ভারত চালু হওয়াকে দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর বক্তব্যে রাজ্যবাসীর কল্যাণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ‘ডবল ইঞ্জিন সরকারের লক্ষ্য হল দেশের প্রতিটি প্রান্তে উন্নয়নের গতি পৌঁছে দেওয়া।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা এখন দেখার। সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই এই প্রকল্প নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষ এই পরিষেবা থেকে কতটা উপকৃত হন, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন। এই সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু হওয়া রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসা পরিষেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM SHRI West Bengal, Bengal School Scheme | পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে পিএম শ্রী প্রকল্প! কেন্দ্রের বড় সিদ্ধান্ত



