সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে বহুল আলোচিত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Bhandar) প্রকল্প নিয়ে অবশেষে বড় আপডেট সামনে এল। নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বহু মহিলার চোখ ছিল এই প্রকল্পের দিকে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) -এর তুলনায় বেশি আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি থাকায় আগ্রহও ছিল তুঙ্গে। এবার সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী ১ জুন থেকেই শুরু হবে টাকা দেওয়া। তবে একই সঙ্গে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে, সবাই এই সুবিধা পাবেন না। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালুর কথা ঘোষণা করেন। এরপরই নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য সামনে আনেন। তাঁর কথায়, ‘১ জুন থেকে সরাসরি মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে।’ এই ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উৎসাহ দেখা গেলেও, কে পাবেন আর কে পাবেন না, সেই প্রশ্নই এখন মূল আলোচ্য।

অগ্নিমিত্রা পাল জানান, সরকার এই প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত যাচাই করবে। তাঁর কথায়, ‘সবাইকে টাকা দেওয়া হবে, তবে কিছু ক্ষেত্রে নাম বাদ পড়বে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যাদের নাম সরকারি তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে, তাঁরা এই সুবিধা পাবেন না।’ এখানে মূলত সেই সব নামের কথা বলা হচ্ছে, যেগুলি ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক যাচাইয়ে বাতিল হয়েছে। এছাড়াও, যাঁদের মৃত্যু হয়েছে অথচ তাঁদের নামে এখনও টাকা যাচ্ছে, এই ধরনের ক্ষেত্রেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মন্ত্রী জানান, ‘মৃত ব্যক্তিদের নাম তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।’ একই সঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তিনি তুলে ধরেন, নাগরিকত্ব। তাঁর কথায়, ‘যদি দেখা যায় কেউ ভারতের নাগরিক নন অথচ সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদেরও বাদ দেওয়া হবে।’ এই ঘোষণার পরই স্পষ্ট হয়েছে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে একাধিক স্তরে যাচাই প্রক্রিয়া চালু থাকবে। যদিও নির্বাচনের সময় বিজেপি (Bharatiya Janata Party) জানিয়েছিল যে, সকল মহিলাকেই এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে, এখন বাস্তব প্রয়োগে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রাখা হচ্ছে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে আগে যেভাবে কোনও বড় ধরনের যাচাই ছাড়াই অধিকাংশ মহিলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, তার থেকে এই প্রকল্পের কাঠামো কিছুটা আলাদা হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, নতুন প্রকল্পে তথ্য যাচাইয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের গ্রাম থেকে শহর, সব জায়গাতেই এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছে, ‘আমার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে তো?’ অনেকেই ইতিমধ্যে নিজেদের নথি ও তথ্য যাচাই করতে শুরু করেছেন। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের অবস্থা, আধার সংযুক্তি, এবং অন্যান্য সরকারি নথি ঠিক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন উপভোক্তারা। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলেও এই প্রকল্প নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন, এটি মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ। আবার কেউ মনে করছেন, তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মূল লক্ষ্য মহিলাদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেওয়া। এই প্রকল্পের আওতায় মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে, যা রাজ্যের বহু পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারে এই অর্থ গৃহস্থালির খরচ সামলাতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। সরকারি মহলের দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হবে যাতে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যায় এবং কোনও ধরনের মধ্যস্থতা না থাকে। এতে দুর্নীতি বা অনিয়মের সম্ভাবনাও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু প্রকল্প চালুর আগে এই বাছাই প্রক্রিয়া কতটা সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হয়, তার উপরই অনেক কিছু নির্ভর করবে। তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে যদি অসন্তোষ তৈরি হয়, তা হলে প্রশাসনের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
১ জুনের আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতরে চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ বহু মানুষ নিজেদের নাম তালিকায় আছে কি না, তা যাচাই করতে চাইবেন। সেই সঙ্গে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা আপিল বা পুনর্বিবেচনার সুযোগ চান কি না, সেটাও দেখার বিষয়। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এর বাস্তব প্রভাব বোঝা যাবে। তবে আপাতত একটি বিষয় পরিষ্কার, এই প্রকল্পে সুবিধা পেতে হলে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতেই হবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Annapurna Bhandar, Suvendu Adhikari Government Scheme | ১ জুন থেকে অন্নপূর্ণা ভান্ডার, মহিলাদের ৩০০০ টাকা ও ফ্রি বাস, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর



