সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর প্রথম কর্মদিবসেই একাধিক জনমুখী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল নতুন প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নবান্নে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর জানালেন, আগামী ১ জুন থেকে চালু হচ্ছে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ (Annapurna Bhandar) প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, একই দিন থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য ভাড়া সম্পূর্ণ মকুবের সিদ্ধান্তও কার্যকর হতে চলেছে। এই ঘোষণার পর রাজ্যের মহিলা মহলে নতুন করে আলোচনার ঢেউ উঠেছে। ভোটের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) বারবার এই প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। শপথের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোল সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘প্রথম থেকেই আমরা মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে চাই’।
রাজ্যে এর আগে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ (Lakshmir Bhandar) নামে একটি প্রকল্প চালু ছিল, যা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -এর সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত ছিল। শুরুতে মাসে ৫০০ টাকা দিয়ে এই প্রকল্প চালু হলেও, পরে তা ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়। শেষ পর্যায়ে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১,৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও জনজাতির মহিলারা ১,৭০০ টাকা করে পেতেন। নতুন সরকার সেই কাঠামোর উপর ভিত্তি করেই আরও বেশি আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁরা আগে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর সুবিধাভোগী ছিলেন, তাঁরাই সরাসরি ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’-এর আওতায় চলে আসবেন। অর্থাৎ নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন আপাতত নেই। বিদ্যমান তথ্যের ভিত্তিতেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে। ভবিষ্যতে যদি কোনও নথি বা যাচাইয়ের প্রয়োজন হয়, তা আলাদাভাবে জানানো হবে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হিসেবে মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা এবং পরিবারের অর্থনৈতিক স্থিতি জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। মাসে ৩,০০০ টাকা অর্থাৎ বছরে ৩৬,০০০ টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে পৌঁছলে তা গ্রামীণ ও শহুরে অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিবারভিত্তিক খরচের ক্ষেত্রে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, পরিবহণ ক্ষেত্রেও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যের সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য ভাড়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হচ্ছে। এই সুবিধা চালু হলে কর্মজীবী, ছাত্রছাত্রী এবং নিত্যযাত্রী মহিলাদের যাতায়াতে খরচ অনেকটাই কমবে। উল্লেখযোগ্য যে, দেশের মধ্যে প্রথম দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরীবাল (Arvind Kejriwal) -এর সরকার এই ধরনের সুবিধা চালু করেছিল। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তন হলেও সেই পরিষেবা বজায় রয়েছে। উল্লেখ্য, রাজ্যের নতুন সরকারের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারে মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং পরিবহণে ছাড়, এই দু’টি বিষয়ই গুরুত্ব পেয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতিগুলি দ্রুত কার্যকর করার মধ্য দিয়ে সরকার জনসমর্থন ধরে রাখতে চাইছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, সরকার পরিবর্তনের পর অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছিল, পূর্বতন সরকারের চালু করা সামাজিক প্রকল্পগুলি বন্ধ হয়ে যাবে কি না। সেই সংশয় দূর করে মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, কোনও প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না। বরং স্বচ্ছতার সঙ্গে সেগুলি চালু থাকবে। ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ চালুর ঘোষণা সেই বক্তব্যকেই আরও দৃঢ় করল। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার আবার মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠকেও একাধিক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা কার্যকর করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা নতুন সরকারের কর্মপদ্ধতির দিকেই ইঙ্গিত করছে। রাজ্যের অর্থনৈতিক কাঠামোর উপর এই প্রকল্পগুলির প্রভাব নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পৌঁছনোর ফলে স্থানীয় বাজারে চাহিদা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পরিবহণ খাতে মহিলাদের জন্য ভাড়া মকুবের ফলে সরকারি ভর্তুকির পরিমাণও বাড়তে পারে, এই দুই দিকেই নজর থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণাগুলি রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ১ জুন থেকেই এই পরিষেবাগুলি কতটা নির্বিঘ্নে চালু হয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi speech economy | ওয়ার্ক ফ্রম হোম থেকে সোনা কেনা বন্ধ, দেশবাসীর কাছে বড় আহ্বান নরেন্দ্র মোদীর



