সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ লখনউ: পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সাফল্যের পর এবার উত্তরপ্রদেশে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি ধরে রাখাই প্রধান লক্ষ্য ভারতীয় জনতা পার্টি। আগামী ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই রণকৌশল সাজাতে শুরু করেছে দল। সেই পরিকল্পনারই প্রতিফলন দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) -এর মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক সম্প্রসারণে। রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং ভোটমুখী সামাজিক সমীকরণ সাজানোরই এক গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। গত রবিবার লখনউয়ে (Lucknow) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছ’জন নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। এর মধ্যে দু’জন পূর্ণমন্ত্রী এবং চার জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। পাশাপাশি, আগের দুই প্রতিমন্ত্রী অজিতপাল সিংহ (Ajitpal Singh) এবং সোমেন্দ্র তোমর (Somendra Tomar) -এর দায়িত্ব বাড়িয়ে তাঁদের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। নতুন মুখদের মধ্যে রয়েছেন ভূপেন্দ্র চৌধরি (Bhupendra Chaudhary), মনোজ পাণ্ডে (Manoj Pandey), কৃষ্ণ পাসওয়ান (Krishna Paswan), সুরেন্দ্র দিলের (Surendra Diler), হংসরাজ বিশ্বকর্মা (Hansraj Vishwakarma) এবং কৈলাশ রাজপুত (Kailash Rajput)।
এই সম্প্রসারণে বিভিন্ন জাতি ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি এবার ব্রাহ্মণ, জাট, গুর্জর, লোধ, পাসওয়ান এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির ভোটব্যাঙ্ককে একত্রিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন মন্ত্রীদের তালিকা সেই লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে মনোজ পাণ্ডেকে (Manoj Pandey) মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সমাজবাদী পার্টি (Samajwadi Party) ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া এই নেতাকে সামনে এনে ব্রাহ্মণ ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা। একইভাবে, ভূপেন্দ্র চৌধরিকে (Bhupendra Chaudhary) মন্ত্রিসভায় এনে জাট সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রভাব বাড়ানোর দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সোমেন্দ্র তোমর (Somendra Tomar) -এর পদোন্নতির মাধ্যমে গুর্জর সম্প্রদায়ের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াস দেখা যাচ্ছে। কৃষ্ণ পাসওয়ান (Krishna Paswan) এবং সুরেন্দ্র দিলের (Surendra Diler) -এর অন্তর্ভুক্তি দলিত সমাজের একটি বড় অংশকে আকৃষ্ট করার কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, হংসরাজ বিশ্বকর্মা (Hansraj Vishwakarma) এবং কৈলাশ রাজপুত (Kailash Rajput) -এর মতো নেতাদের জায়গা দেওয়ার মাধ্যমে অনগ্রসর ও অতি অনগ্রসর শ্রেণির মধ্যে প্রভাব বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে আসছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের কিছু এলাকায় বিজেপি প্রত্যাশামতো ফল করতে পারেনি। বিশেষ করে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে জাট ভোটের একটি অংশ অন্য দিকে সরে গিয়েছিল বলে মনে করা হয়। একইসঙ্গে দলিত ভোটারদের একটি অংশও সমাজবাদী পার্টির দিকে ঝুঁকেছিল। এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই সক্রিয়তা বাড়িয়েছেন। নতুন মন্ত্রীদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে তিনি যে সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছেন, তা এই সম্প্রসারণ থেকে বোঝা যাচ্ছে। বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্কের দিকে লক্ষ্য রেখে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। দলীয় সূত্রের মতে, মহিলা ভোটারদের দিকেও বিশেষ নজর রয়েছে। যদিও এই সম্প্রসারণে সরাসরি সেই প্রতিফলন কম দেখা গেছে, তবুও আগামী দিনে মহিলা-কেন্দ্রিক প্রকল্প এবং প্রচারের উপর জোর দেওয়া হতে পারে। বিজেপি ইতিমধ্যেই বুঝতে পেরেছে, উত্তরপ্রদেশের মতো বড় রাজ্যে জয়ের জন্য সামাজিক সমীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে জাতপাতের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই বিজেপি এবার নিজেদের সংগঠন এবং প্রশাসনিক কাঠামোকে সাজাচ্ছে। মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের মাধ্যমে একদিকে যেমন প্রশাসনিক কার্যক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই রাজনৈতিক বার্তাও দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই পদক্ষেপ বিজেপির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। শুধু ২০২৭ নয়, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণ মাথায় রেখেই দল এগোচ্ছে। বিশেষ করে সমাজবাদী পার্টি (Samajwadi Party) এবং বহুজান সমাজ পার্টির (Bahujan Samaj Party) সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ের জন্য বিজেপি যে প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা এই সম্প্রসারণে প্রতিফলিত। প্রসঙ্গত, আগামী দিনে এই নতুন মন্ত্রীরা তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, সেটাই এখন দেখার। পাশাপাশি, এই সামাজিক ভারসাম্যের কৌশল ভোটের বাক্সে কতটা সফল হয়, তা নিয়েও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Karmayogi Sadhana 2026 webinar | কর্মযোগী সাধনা সপ্তাহে প্রযুক্তির ঝলক, এআই থেকে সেমিকন্ডাক্টর, ৩ এপ্রিলের ওয়েবিনারে ভবিষ্যৎ ভারতের রূপরেখা



