সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে আরও শক্তিশালী করতে ‘কর্মযোগী সাধনা ২০২৬’ (Karmayogi Sadhana 2026) কর্মসূচীর অধীনে শুরু হয়েছে বিশেষ ওয়েবিনার সিরিজ। ক্ষমতা নির্মাণ কমিশন (Capacity Building Commission) এবং কর্মযোগী ভারত (Karmayogi Bharat) -এর যৌথ উদ্যোগে ২ এপ্রিল এই কর্মসূচীর সূচনা হয়। তারই অংশ হিসেবে ৩ এপ্রিল আয়োজিত প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবিনারগুলি ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। এই কর্মসূচীর লক্ষ্য, সিভিল সার্ভিসে কর্মরত আধিকারিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং তাঁদের প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা। ‘মিশন কর্মযোগী’ (Mission Karmayogi) -এর অন্তর্গত এই উদ্যোগ প্রশাসনিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

৩ এপ্রিলের ওয়েবিনার সিরিজে দেশের এবং আন্তর্জাতিক স্তরের একাধিক খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব অংশগ্রহণ করেন। আলোচনার মূল বিষয়গুলির মধ্যে ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence), সাইবার নিরাপত্তা (Cyber Security), ডিজিটাল দক্ষতা এবং সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি (Semiconductor Technology)। প্রতিটি সেশনেই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ এবং প্রশাসনিক প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দিনের প্রথম সেশন শুরু হয় সকাল ১০:৩০ -এ। এই পর্বে উপস্থিত ছিলেন দেবজানি ঘোষ (Debjani Ghosh), অভিষেক সিংহ (Abhishek Singh) এবং প্রত্যুষ কুমার (Pratyush Kumar)। তাঁরা ‘ভারতের এআই প্রয়োজনীয়তা’ বিষয়ক আলোচনায় অংশ নেন। এই আলোচনায় উঠে আসে, কীভাবে স্বনির্ভর এআই ক্ষমতা গড়ে তুলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণে নতুন গতি আনা সম্ভব। বক্তাদের মতে, ‘স্বদেশি প্রযুক্তির উন্নয়ন ভারতের কৌশলগত স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’ দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয় দ্বিতীয় সেশন। বক্তব্য রাখেন ম্যাট বুশবি (Matt Bushby)। তিনি ডিজিটাল দক্ষতা ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, কর্মক্ষেত্রের প্রতিটি স্তরে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা জরুরি। তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কর্মীদের সচেতনতা এবং দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।’ এই সেশনে প্রশাসনিক কাজে সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলার কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়।
দিনের শেষ সেশনটি বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয়, যেখানে অংশ নেন অমিতেশ কুমার সিনহা (Amitesh Kumar Sinha) এবং ড. সন্দীপ কুমার (Dr. Sandeep Kumar)। তাঁদের আলোচনার বিষয় ছিল সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ শৃঙ্খলা এবং ভারতের প্রযুক্তিগত ভবিষ্যৎ। তাঁরা তুলে ধরেন, কীভাবে শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জন সম্ভব হবে। তাঁদের কথায়, ‘সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্র ভারতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।’ উল্লেখ্য যে, এই ওয়েবিনারগুলির মাধ্যমে প্রশাসনিক আধিকারিকরা শুধু প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করছেন না, বরং বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রেও প্রস্তুত হচ্ছেন। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রশাসনকে আপডেট রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর সেই প্রয়োজন মেটাতেই এই উদ্যোগ।
কর্মযোগী সাধনা সপ্তাহের এই আয়োজন প্রশাসনিক কাঠামোকে আধুনিক করার একটি প্রচেষ্টা। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি ও প্রশাসনের মধ্যে একটি কার্যকর সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে পরিষেবা প্রদান আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের অভিজ্ঞতাও উন্নত হবে। পাশাপাশি, ৩ এপ্রিলের এই ওয়েবিনার সিরিজ দেখিয়ে দিল, প্রযুক্তি শুধু শিল্প বা ব্যবসার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে সাইবার নিরাপত্তা, সব ক্ষেত্রেই দক্ষতা অর্জন এখন সময়ের বড় দাবি। সুতরাং বলাই যায়, দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, দ্রুত এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে ‘কর্মযোগী সাধনা ২০২৬’-এর এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উঠে এসেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi tenure record, Indian PM history | ২৪ বছরের রেকর্ড : সরকারপ্রধান হিসেবে দীর্ঘতম সময়ের রেকর্ড গড়লেন নরেন্দ্র মোদী, ছাপালেন চামলিংকে


