সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লী : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup) অভিযান শুরু হয়েছে জোড়া জয় দিয়ে। কিন্তু স্কোরবোর্ডে সাফল্য এলেও ভারতীয় শিবিরে (Indian Cricket Team) আত্মতৃপ্তির কোনও জায়গা নেই। নামিবিয়াকে ৯৩ রানে হারানোর পরেও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) খোলাখুলি স্বীকার করে নিলেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী সব কিছু হচ্ছে না। অন্য দিকে ম্যাচসেরা হার্দিক পাণ্ড্য (Hardik Pandya) ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়েও দিল্লির পিচ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে জয় যেমন জরুরি, তেমনই পরিস্থিতি বোঝার দক্ষতাও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, তা স্পষ্ট করে দিল এই ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়াগুলি। দিল্লীর মাটিতে ভারত শুরুটা করেছিল দারুণ ছন্দে। ওপেনিং জুটিতে ঈশান কিশান (Ishan Kishan) ও সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson) আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে নামিবিয়ার বোলিং আক্রমণকে চাপে ফেলে দেন। প্রথম ছ’সাত ওভার দেখে মনে হচ্ছিল, ২৪০-২৫০ রানের বিশাল স্কোর অনায়াসেই ছোঁয়া যাবে। কিন্তু হঠাৎই ম্যাচের গতি বদলে যায়। বল ব্যাটে আসতে দেরি করছে, শট ঠিকমতো টাইমিং হচ্ছে না, এমন চিত্রই ধরা পড়ে মাঝের ওভারগুলোতে।
ম্যাচ শেষে সূর্য বলেন, ‘ভাল ম্যাচ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমরা যেভাবে শুরু করেছিলাম, তাতে আরও বড় রান হওয়া উচিত ছিল। ঈশান আর সঞ্জু দুর্দান্ত শুরু দিয়েছিল। তখন মনে হচ্ছিল ২৪০-২৫০ হয়ে যাবে। কিন্তু উইকেটে বল একটু থেমে আসছিল। নামিবিয়ার বোলারেরাও ভাল বল করেছে। ওদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা।’ অধিনায়কের কথাতেই বোঝা গেল, জয় এলেও উন্নতির জায়গা দেখছে দল। বিশেষ করে সঞ্জু স্যামসনকে নিয়ে ইতিবাচক সূর্য। সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকতা না থাকলেও এই ম্যাচে শুরুটা আত্মবিশ্বাসী ছিল সঞ্জুর। সূর্যের কথায়, ‘দল হিসেবে আমরা প্রত্যেককে সমর্থন করি। শুরুটা নিখুঁত না হলেও আমরা সঠিক পথে এগোচ্ছি।’ বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা যে কতটা জরুরি, তা জানেন ভারত অধিনায়ক।
এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় স্বস্তির নাম হার্দিক পাণ্ড্য। ২৮ বলে ৫২ রানের ঝকঝকে ইনিংসের পর বল হাতে ২১ রানে ২ উইকেট, তিনি অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচের সেরা হয়েছেন। দীর্ঘ সময় চোটের সঙ্গে লড়াই করে ফেরা হার্দিক জানালেন তাঁর প্রস্তুতির কথা। ‘বিশ্বকাপের আগে দু’মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। শরীর এখন একদম ঠিক আছে। কঠোর পরিশ্রম করেছি। সেনাদের মতো ট্রেনিং করেছি মাসখানেক। সুযোগ পেলে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। রান পেলে ভাল লাগে,’ বলেছেন হার্দিক। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের মধ্যেও দলের বাস্তব চ্যালেঞ্জকে এড়িয়ে যাননি তিনি। দিল্লির পিচ নিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘পর পর দুটো ম্যাচে যে পিচ পেলাম, তাকে ব্যাটিং সহায়ক বলা যায় না। পিচ ধীর গতির। এমন উইকেটে মানিয়ে নিতে দক্ষতা লাগে। আমরা হয়তো একটু বেশি পাটা পিচ আশা করেছিলাম।’ তাঁর কথায় ইঙ্গিত, আগামীর বড় ম্যাচগুলিতে এমন পরিস্থিতি সামলাতে কৌশল বদলাতেই হবে।
বোলিং বিভাগ নিয়েও আশাবাদী ভারত শিবির। অসুস্থতার জন্য আগের ম্যাচে খেলতে না পারা জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah) এই ম্যাচে পুরো চার ওভার বল করেছেন, যা দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। সূর্য বলেন, ‘বুমরাহ চার ওভার করেছে, এটা আমাদের বড় পাওনা।’ পাশাপাশি অক্ষর পটেল (Axar Patel), বরুণ চক্রবর্তী (Varun Chakravarthy) ও কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav) -এর পারফরম্যান্সের প্রশংসাও শোনা গেছে। হার্দিকের মন্তব্য, ‘আমাদের বোলিং আক্রমণ খুব ভাল। জোরে বোলার আছে, স্পিনার আছে। অক্ষর, বরুণ, কুলদীপ সবাই দুর্দান্ত।’ উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতীয় দলের লক্ষ্য, শুধু জয় নয়, ধারাবাহিক আধিপত্যও। কিন্তু ধীর পিচে বড় স্কোর গড়া সহজ নয়। ব্যাটিং অর্ডারে গতি ও ধৈর্যের সঠিক মিশ্রণ প্রয়োজন। দিল্লির অভিজ্ঞতা হয়তো ভবিষ্যৎ ম্যাচের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে। কারণ নকআউট পর্বে এমন সামান্য ভুলও বড় মাশুল ডেকে আনতে পারে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উইকেটে ১৮০-১৯০ রানও ম্যাচ জেতানোর মতো হতে পারে, যদি বোলিং পরিকল্পনা নিখুঁত হয়। ভারতীয় দল সেই পথেই এগোচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই। সূর্যের নেতৃত্বে তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে গড়া এই দল নিজেদের ভুল থেকে দ্রুত শিক্ষা নিতে পারলে বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে এগিয়ে থাকবে।উল্লেখ্য, নামিবিয়ার বিরুদ্ধে বড় জয় এলেও আত্মসমালোচনার সুর স্পষ্ট। হার্দিক পাণ্ড্যের অলরাউন্ড নৈপুণ্য, সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্ব, বুমরাহদের প্রত্যাবর্তন সবই ইতিবাচক দিক। কিন্তু দিল্লীর ধীর পিচ নতুন সমীকরণ সামনে এনে দিল। বিশ্বকাপের লড়াই যত এগোবে, ততই এই মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই নির্ধারণ করবে ভারতের ভাগ্য।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India vs Pakistan T20 World Cup Match : টি২০ বিশ্বকাপে বড় পরীক্ষার আগে কৌশল পাল্টাল ভারত, রবিবারের মহারণে চমক প্রস্তুত


