মেধা পাল ★ সাশ্রয় নিউজ, কলকাতা: টলিউডে (Tollywood) লবি-রাজনীতি নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। কে কোন শিবিরে, কার সঙ্গে কার ঘনিষ্ঠতা, এই অদৃশ্য সমীকরণই অনেক সময় নির্ধারণ করে দেয় সুযোগের দরজা। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই জন্মদিনের দিনে একেবারে খোলামেলা মন্তব্য করলেন অভিনেত্রী রূপা ভট্টাচার্য (Rupa Bhattacharya)। তাঁর সোজাসাপটা বক্তব্য, ‘সবার সঙ্গে ভাল সম্পর্ক থাকলেও আমি তো কোনও লবির অংশ নই। বুঝতে পারি না, কী করতে হয়! তাই হয়ত আমার কথা প্রথমেই পরিচালক-প্রযোজকদের মাথায় আসে না।’ এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
জন্মদিন মানেই আলাদা কোনও উচ্ছ্বাস, রূপার অভিধানে তেমনটা নেই। আসলে দিনটা কাটে প্রায় রুটিন মেনেই। সকালবেলা নিয়ম করে শরীরচর্চা, খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ, আর সময় পেলে একটি ভাল সিনেমা দেখা, এই তাঁর ছোট্ট উদ্যাপন। আড়ম্বর, জমকালো পার্টি বা প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন তিনি। অভিনেত্রী জানান, ‘রাতেই শ্বশুর-শাশুড়ি ফোন করেছিলেন। আমরা গিয়ে উঠতে পারিনি। তবে মধ্যরাতে বর বেশ কিছু পরিকল্পনা করেছিল। কিছু বন্ধুও এসেছিল।’ পারিবারিক উষ্ণতা আর কাছের মানুষের উপস্থিতিতেই তাঁর আনন্দ সম্পূর্ণ। খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রেও রূপা বরাবরই সংযমী। জন্মদিন বলে পাতে অতিরিক্ত কিছু থাকবেই, এমনটা নয়। হাসতে হাসতে জানালেন, ‘এ দিনও পাতে থাকবে স্যালাড।’ সুস্থ জীবনযাপনেই তাঁর বিশ্বাস। ব্যক্তিগত জীবনের এই পরিমিতিবোধই যেন পেশাগত সিদ্ধান্তেও প্রতিফলিত।
দর্শকদের বড় প্রশ্ন, ইদানীং কেন তাঁকে বড় পর্দা বা ধারাবাহিকে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না? দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় ইন্ডাস্ট্রির প্রায় সবার সঙ্গেই তাঁর সুসম্পর্ক। তবু কাজের পরিমাণ তুলনামূলক কম। এই প্রসঙ্গে রূপার বক্তব্য স্পষ্ট এবং খানিক আত্মসমালোচনামূলকও। তিনি বলেন, ‘একটি কোনও চরিত্রে অভিনয় করলে তার পরে একই ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ আসে। সেটাতেই আমি আরও ক্লান্ত।’ অর্থাৎ, টাইপকাস্ট হওয়ার আশঙ্কাই তাঁকে অনেক সময় পিছিয়ে দেয়। একই ধাঁচের চরিত্রে নিজেকে তিনি বারবার আবদ্ধ রাখতে চান না। টলিউডের অন্দরে ‘লবি’ শব্দটি প্রায়ই উচ্চারিত হয়। অনেকেই মনে করেন, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকলে কাজের সুযোগ বাড়ে। কিন্তু রূপা সেই পথে হাঁটেননি। তাঁর কথায়, ‘আমি তো কোনও লবির অংশ নই।’ এই মন্তব্যে একদিকে যেমন আত্মবিশ্বাসের সুর, অন্যদিকে তেমনই আক্ষেপও লুকিয়ে আছে। পরিচালকদের ভাবনায় নিজের নাম প্রথম সারিতে না থাকার কারণ হিসেবে তিনি লবি-সংস্কৃতিকেই ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করছেন অনেকে।
কিন্তু, কাজ একেবারে থেমে নেই। পরিচালক অর্জুন দত্ত (Arjun Dutta) -এর নতুন ছবি ‘বিবি পায়রা’ -তে (Bibi Payra) সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে দেখা যাবে রূপাকে। ছবির চরিত্র ও চিত্রনাট্য সম্পর্কে এখনই বিস্তারিত বলতে চান না তিনি। তবে ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই ছবিতে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের চমকে দিতে পারে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি প্রজেক্টের কথাবার্তা চলছে। যদিও টেলিভিশন ধারাবাহিকে আপাতত ফিরবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাননি। রূপার সহকর্মীদের একাংশ মনে করেন, তিনি বরাবরই কাজের প্রতি আন্তরিক এবং পেশাদার। প্রচারের আলোয় নিজেকে রাখার চেয়ে অভিনয়ের গুণগত মানকেই বেশি গুরুত্ব দেন। ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে গেলে যেখানে অনেকেই আপসের পথে হাঁটেন, সেখানে রূপার অবস্থান খানিক আলাদা। তিনি বিশ্বাস করেন, দীর্ঘ দৌড়ে প্রতিভাই শেষ কথা বলবে।
সামাজিক মাধ্যমেও তিনি তুলনামূলক কম সক্রিয়। ব্যক্তিগত মুহূর্তকে প্রচারের উপকরণ বানাতে অনীহা রয়েছে তাঁর। বরং নিজের কাজ, বই পড়া, সিনেমা দেখা, এই নিয়েই ব্যস্ত থাকতে ভালবাসেন। জন্মদিনের দিনেও সেই স্বভাবের ব্যতিক্রম হয়নি। ঘনিষ্ঠ পরিসরে কাটানো সময়কেই প্রাধান্য দিয়েছেন। উল্লেখ্য, টলিউডে নতুন প্রজন্মের আগমন, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের উত্থান, বদলে যাওয়া দর্শক-রুচি সব নিয়ে এখন শিল্পের চেহারা দ্রুত বদলাচ্ছে। এই পরিবর্তনের সময়েও রূপা ভট্টাচার্যের মতো অভিনেত্রী নিজের অবস্থান স্পষ্ট রেখেছেন। তিনি আপসের বদলে অপেক্ষা করতে রাজি, কিন্তু নিজের পছন্দ ও নীতির সঙ্গে বিরোধে যেতে চান না।
অভিনয় জীবনের এই পর্বে এসে তাঁর উপলব্ধি, জনপ্রিয়তা ক্ষণস্থায়ী হলেও কাজের সততা দীর্ঘস্থায়ী। ‘যোগ্যতাই ভরসা’ এই বিশ্বাসেই এগোতে চান তিনি। লবি-সংস্কৃতির বাইরে থেকেও যে নিজের জায়গা তৈরি করা যায়, তা প্রমাণ করতে বদ্ধপরিকর রূপা। দর্শকেরাও অপেক্ষায় ‘বিবি পায়রা’ মুক্তির পর নতুন করে রূপা ভট্টাচার্যকে আবিষ্কার করার। জন্মদিনে তাঁর এই অকপট মন্তব্য হয়তো আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এল তাঁকে। টলিউডের অন্দরে লবি বিতর্ক যতই চলুক, রূপার বার্তা, সুসম্পর্ক থাকলেও আত্মসম্মান ও স্বকীয়তার সঙ্গে আপস নয়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Hrithik Roshan Yami Gautam Koffee With Karan | ‘সহঅভিনেত্রীর সম্মান আগে’ : কফি উইথ করণে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে ফের আলোচনায় হৃতিক রোশন


