শোভনা মাইতি, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : বলিউডে তারকাখ্যাতির সমীকরণ, ‘এ-লিস্ট’ ও ‘বি-লিস্ট’-এর বিভাজন, এবং সেই বিভাজনের ভেতরেও পেশাগত সম্মান, এই সব প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনে দিল এক পুরনো ঘটনা। ‘কাবিল’ (Kaabil) ছবির প্রচারের সময়কার একটি প্রসঙ্গ সম্প্রতি ফের আলোচনায় এসেছে, যেখানে অভিনেতা হৃতিক রোশন (Hrithik Roshan) নাকি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর সহঅভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমকে (Yami Gautam) আমন্ত্রণ না জানানো হলে তিনি জনপ্রিয় টক শো ‘কফি উইথ করণ’ -এ (Koffee With Karan) হাজির হবেন না।

সেই সিদ্ধান্ত আজ ফের ভাইরাল, আর অনুরাগীদের একাংশের মতে, এটি শুধুমাত্র সৌজন্যের প্রশ্ন নয়, বরং সহকর্মীর মর্যাদা রক্ষার এক দৃঢ় অবস্থান। কী ঘটেছিল? সূত্রের খবর, ‘কাবিল’ ছবির প্রমোশনের সময় পরিচালক-প্রযোজক করণ জোহর (Karan Johar) হৃতিক রোশনকে তাঁর শোতে আমন্ত্রণ জানান। তবে সেই আমন্ত্রণে একটি শর্ত ছিল, সহঅভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমকে সঙ্গে না আনার অনুরোধ। কারণ হিসেবে নাকি বলা হয়েছিল, সে সময় ইয়ামি ‘বড় নাম’ হিসেবে বিবেচিত নন। এই প্রস্তাবেই আপত্তি তোলেন হৃতিক। তিনি স্পষ্ট করে জানান, প্রধান অভিনেত্রীকে বাদ দিয়ে তিনি কোনও প্রচারমূলক অনুষ্ঠানে যাবেন না। ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশ্যে হৃতিক রোশন তেমন কোনও মন্তব্য না করলেও, ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, তিনি তখন বলেছিলেন, ‘যদি আমার ছবির লিডিং লেডিকে সম্মান না দেওয়া হয়, তাহলে আমি একা গিয়ে আলোচনায় বসব না।’ এই অবস্থানই আজ নতুন করে প্রশংসা কুড়োচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু অনুরাগী লিখছেন, বলিউডে যেখানে তারকা-হায়ারার্কি খুবই স্পষ্ট, সেখানে হৃতিকের এই সিদ্ধান্ত বিরল উদাহরণ।

‘কাবিল’ ছবিতে হৃতিক ও ইয়ামির রসায়ন দর্শকদের মন ছুঁয়েছিল। ছবিতে দু’জনেই দৃষ্টিহীন চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে সহঅভিনেত্রীর অবদানকে ছোট করে দেখার প্রবণতার বিরুদ্ধেই হৃতিকের অবস্থান বলে মনে করছেন অনেকে। এক অনুরাগীর মন্তব্য, ‘স্টারডম যত বড়ই হোক, সহকর্মীর সম্মান তার চেয়েও বড়, হৃতিক সেটা প্রমাণ করেছেন।’
উল্লেখ্য যে, ইয়ামি গৌতমের কেরিয়ার তখন তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও, ‘ভিকি ডোনার’ (Vicky Donor) -এর মতো ছবিতে অভিনয় করে তিনি ইতিমধ্যেই নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন। তবুও, বলিউডে অনেক সময় প্রচারের ক্ষেত্রে বড় নামগুলিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়, এই বাস্তবতা নতুন নয়। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে হৃতিকের ‘না’ বলা সিদ্ধান্তকে অনেকেই সাহসী বলছেন।

এই ঘটনা ফের সামনে আসতেই ‘কফি উইথ করণ’ এবং তারকা সংস্কৃতি নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের মতে, টক শো কিংবা প্রচারমূলক মঞ্চে কারা জায়গা পাবেন, তা প্রায়ই জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে নির্ধারিত হয়। কিন্তু একটি ছবির সাফল্যের পিছনে পুরো টিমের অবদান থাকে, এই সত্যটি অনেক সময় আড়ালে চলে যায়। হৃতিকের অবস্থান সেই প্রচলিত ধারার বিরুদ্ধেই প্রশ্ন তুলেছে। হৃতিক রোশন বরাবরই নিজের নীতিতে অনড় থাকার জন্য পরিচিত। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে তাঁর পেশাদারিত্ব ও সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণের কথা বহুবার উঠে এসেছে। এই ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলেই মনে করছেন অনেকে।
একজন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকের কথায়, ‘এটা শুধু এক দিনের শোতে যাওয়ার প্রশ্ন নয়। এটা ক্ষমতার অবস্থান থেকে নেওয়া একটি নৈতিক সিদ্ধান্ত।’ কিন্তু, ইয়ামি গৌতম এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া না দিলেও, তাঁর অনুরাগীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। তাঁদের মতে, এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে, ইয়ামির মতো অভিনেত্রীরা ইন্ডাস্ট্রিতে ধীরে হলেও সম্মানের জায়গা তৈরি করেছেন। বর্তমানে ইয়ামি একাধিক সফল ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন, যা তাঁর কেরিয়ারের ধারাবাহিক অগ্রগতিরই প্রমাণ।
এই প্রসঙ্গ আবার মনে করিয়ে দেয়, বলিউডে ক্ষমতার সমীকরণ কেমন হওয়া উচিত। বড় তারকা মানেই কি সব সাফল্যের আলো একাই কুড়িয়ে নেবেন, নাকি টিমওয়ার্কের স্বীকৃতি থাকবে! এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো একদিনে মিলবে না। তবে হৃতিক রোশনের মতো অভিনেতাদের অবস্থান ভবিষ্যতে এই সংস্কৃতিকে বদলাতে সাহায্য করতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে। অন্যদিকে, ‘কাবিল’ প্রমোশনের সময়কার এই সিদ্ধান্ত বর্তমান বলিউডের কর্মসংস্কৃতি নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্র। তারকাখ্যাতির ঊর্ধ্বে উঠে সহকর্মীর প্রতি সম্মান দেখানোর এই উদাহরণ আগামী দিনেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে, এমনটাই বিশ্বাস করছেন অনুরাগীরা।
ছবি : সংগৃহীত




