সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★সাশ্রয় নিউজ, কলকাতা : টি২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে বৃহস্পতিবার নামিবিয়ার বিরুদ্ধে নামছে ভারত। সূচি বলছে সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। কিন্তু বাস্তব বলছে অন্য কথা। ভারতীয় শিবিরে এখন থেকেই রবিবারের ভারত-পাকিস্তান মহারণের (India vs Pakistan T20 World Cup) প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। অনুশীলনের ধরন, বোলারদের আলাদা করে প্রস্তুত করা, পিচ অনুযায়ী কৌশল বদলের ইঙ্গিত, বোঝাই যাচ্ছে, সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) নেতৃত্বাধীন দল অনেক দূরের কথা ভেবে এগোচ্ছে। আর সেই পরিকল্পনায় অন্যতম ‘তুরুপের তাস’ হতে পারেন রহস্য-স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী (Varun Chakravarthy)।
মঙ্গলবার ভারতীয় দলের অনুশীলন ছিল ব্যতিক্রমী। বিশ্বকাপের মাঝে সাধারণত ক্রিকেটারেরা নিজেদের শরীর বাঁচিয়ে অনুশীলন করেন। কিন্তু এ দিন প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে পেসার ও স্পিনারদের আলাদা নেটে নির্দিষ্ট লাইন-লেংথে বল করতে দেখা যায়। ব্যাটারদেরও পরিস্থিতি ধরে খেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়। অনুশীলনের তীব্রতা দেখে অনেকেরই প্রশ্ন, একি শুধু নামিবিয়ার জন্য, নাকি পাকিস্তান ম্যাচের আগাম প্রস্তুতি? কলম্বোর মন্থর পিচ ইতিমধ্যেই আলোচনায়। ভারতীয় দল এই উইকেটে খুব বেশি খেলেনি। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গিয়েছে, এখানে বড় রান তুলতে গেলে ধৈর্য ও কৌশল, দুটোই জরুরি। শুধু কলম্বো নয়, উপমহাদেশের একাধিক পিচেই এখন রান তুলতে ব্যাটারদের বেগ পেতে হচ্ছে। ফলে অতি আগ্রাসী মনোভাব থেকে সরে এসে ‘ধরে খেলা’র দিকে ঝুঁকতে পারে ভারত।
সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতে (Ryan ten Doeschate) অনুশীলনের পর বলেন, ‘গত কয়েক দিনে পিচের আচরণ আমাদের প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি। তাই কৌশল খতিয়ে দেখা জরুরি। এই ধরনের উইকেটে শুধু আক্রমণাত্মক মানসিকতা নয়, টেকনিকও গুরুত্বপূর্ণ।’ তাঁর কথায় স্পষ্ট, ভারত পিচ বুঝে পরিকল্পনা সাজাতে চাইছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বোলারদের ভূমিকা আরও বড় হতে হবে। কোথায় বল ফেললে ব্যাটারকে চাপে ফেলা যায়, সেটা পরিষ্কারভাবে জানা দরকার।’ এই প্রেক্ষাপটে উঠে আসছে বরুণ চক্রবর্তীর নাম। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ বিশ্বকাপের পর থেকে মাঝের ওভার, অর্থাৎ ৭ থেকে ১৫ ওভারের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন। বিশেষ করে ডানহাতি ব্যাটারদের বিরুদ্ধে তাঁর সাফল্য উল্লেখযোগ্য। পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন-আপে একাধিক ডানহাতি ব্যাটার থাকায় বরুণ হতে পারেন বড় ফ্যাক্টর। সূর্য সাধারণত তাঁকে মাঝের ওভারেই আক্রমণে আনেন। মন্থর পিচে তাঁর গুগলি ও ক্যারম বল বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
ভারতীয় শিবিরে এখন আলোচনা কেবল বোলিং নিয়েই নয়, ব্যাটিং পদ্ধতি নিয়েও। ২০২৬ সালের শুরু থেকে সূর্যকুমারের ব্যাটিংয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। আগের মতো শুরুতেই ঝুঁকি না নিয়ে সময় নিচ্ছেন তিনি। ছ’টি ইনিংসে প্রথম ১০ বলে মাত্র এক বার আউট হয়েছেন সূর্য। গত বছরের তুলনায় এটি বড় বদল। ২০২৫ সালে ১৯ ইনিংসের মধ্যে ১১ বার প্রথম ১০ বলের মধ্যেই ফিরেছিলেন তিনি। এখন তিনি ক্রিজে সেট হওয়ার পর বড় রান করার দিকে নজর দিচ্ছেন। পাকিস্তানের মতো চাপের ম্যাচে এই সংযম গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। নামিবিয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু ভারতীয় দল জানে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ মানেই আলাদা মানসিক চাপ। তাই আগাম কৌশলগত প্রস্তুতি। পেসারদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ইয়র্কার ও স্লোয়ার অনুশীলন হয়েছে। স্পিনারদের ক্ষেত্রে লাইন-লেংথ ধরে রেখে ব্যাটারকে প্রলুব্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রের খবর, কলম্বোর উইকেটে পাওয়ারপ্লে-র পর রান তোলা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ফলে মাঝের ওভারে উইকেট নেওয়া এবং রান চেপে রাখা, এই দুই লক্ষ্য নিয়েই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। বরুণের পাশাপাশি অন্যান্য স্পিনারদেরও বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে বরুণই এগিয়ে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে ভারত যদি প্রথমে ব্যাট করে, তা হলে ১৬০-১৭০ রানও লড়াইযোগ্য স্কোর হতে পারে। আর যদি রান তাড়া করতে হয়, তা হলে উইকেট হাতে রেখে শেষ পাঁচ ওভারে ঝাঁপানোর পরিকল্পনা দেখা যেতে পারে। সূর্যদের এই ‘প্ল্যান বি’ ও ‘প্ল্যান সি’ প্রস্তুত রাখার ইঙ্গিত মিলছে অনুশীলন থেকেই।তবে, নামিবিয়া ম্যাচ ভারতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, পাকিস্তান ম্যাচের রণকৌশল ইতিমধ্যেই আঁটা শুরু হয়েছে। কলম্বোর মন্থর পিচ, স্পিন-সহায়ক পরিস্থিতি এবং মাঝের ওভারের গুরুত্ব সব বিচার করে সূর্যদের নতুন ছক। রবিবারের মহারণে সেই পরিকল্পনা কতটা সফল হয়, তা দেখার অপেক্ষা। তবে একটি সাফ কথা, ভারত কেবল প্রতিপক্ষ নয়, পরিস্থিতিকেও হারাতে প্রস্তুত হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rohit Sharma Padma Shri reaction | পদ্মশ্রী সম্মানে গর্বিত রোহিত শর্মা, বয়স ৩৮ হলেও দেশের জার্সিতে ট্রফি জয়ের স্বপ্ন অটুট প্রাক্তন অধিনায়কের




