সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনেই অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) যোগ্য প্রাপকদের জন্য বড় ঘোষণা। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর অন্নপূর্ণা যোজনার অগস্ট মাসের টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, যোগ্য মহিলাদের অ্যাকাউন্টে একসঙ্গে ৩,০০০ টাকা করে জমা পড়বে। প্রায় ১ কোটি ৪৮ লক্ষ মহিলাকে এই আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার কথা জানানো হয়েছে। শুধু অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া নয়, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে ফের জনকল্যাণ শিবির আয়োজন করে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে নতুন করে আবেদন গ্রহণের সিদ্ধান্তও জানানো হয়েছে। ফলে এখনও যে সমস্ত যোগ্য মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনা বা সরকারের অন্য সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পাননি, তাঁদের জন্য ফের আবেদন করার সুযোগ তৈরি হতে চলেছে। গ্রাম পঞ্চায়েত ও পুরসভা স্তরে এই আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে।
সোমবার নবান্নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বয়স্ক, বিধবা ও বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক ভাতা প্রদান নিয়ে একাধিক ঘোষণা করেন শুভেন্দু। রাজ্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির আওতায় দীর্ঘদিন ধরে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং বিশেষ ভাবে সক্ষমদের ভাতা দেওয়া হয়ে আসছে। আগে এই ভাতার পরিমাণ ছিল মাসে ১,০০০ টাকা। নতুন ব্যবস্থায় তা বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনপত্র যাচাই এবং উপভোক্তাদের যোগ্যতা পরীক্ষা নিয়ে কড়া অবস্থানের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিভিন্ন জায়গায় ভুয়ো তথ্য, বয়সের ভুল নথি এবং জাল শংসাপত্র ব্যবহার করে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা (Chandrakona) -এর একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এক জন পুরুষ বিধবা ভাতা নেওয়ার জন্য গ্রেফতার হয়েছেন।’ বয়সের তথ্য পরিবর্তন করে বা ভুয়ো নথির মাধ্যমে সামাজিক প্রকল্পের টাকা নেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে বলে দাবি তাঁর।
সরকারি ভাতার ক্ষেত্রে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দিতে আবেদনগুলির পুনরায় যাচাইয়ের কাজ চলছে বলেও জানান শুভেন্দু। তাঁর আবেদন, যাঁরা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী যোগ্য নন, তাঁরা যেন স্বেচ্ছায় সেই সুবিধা ছেড়ে দেন। সরকারের তরফে উপভোক্তাদের তালিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তিনটি সামাজিক ভাতা, যথাক্রমে : বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের ভাতা মিলিয়ে মোট ৮৩ লক্ষ ৫ হাজার ৯১৯ জন উপভোক্তা বর্তমানে সুবিধা পাচ্ছেন বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির জন্য সরকারের বছরে প্রায় ১৪ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা খরচ হবে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগের সরকারের সময় তৈরি হওয়া অপেক্ষমাণ তালিকা বা ওয়েটিং লিস্ট বাতিল করার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
নতুন ব্যবস্থায় আগের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নয়, সরকার ক্ষমতায় আসার পর আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরগুলিতে জমা পড়া আবেদনগুলিই যাচাই করে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ, সামাজিক প্রকল্পে সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন আবেদন ও বর্তমান যোগ্যতার ভিত্তিতেই তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া এগোবে। নভেম্বর-ডিসেম্বরে ফের শিবির বসার কারণে বহু মানুষ নতুন করে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী বিধবা মহিলাদের বর্তমান ১,৫০০ টাকার বিধবা ভাতা ছেড়ে অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহিলারা প্রকল্পের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। ফলে যোগ্য বিধবা মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিক আর্থিক সহায়তার পরিমাণ দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ ভাবে সক্ষম মহিলাদের ক্ষেত্রেও নতুন সুবিধার কথা জানানো হয়েছে। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি বিশেষ ভাবে সক্ষম মহিলারা প্রতিবন্ধী ভাতার পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাও পাবেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার বিশেষ ভাবে সক্ষম মহিলা এই ব্যবস্থায় মাসে মোট ৪,৫০০ টাকা করে পেতে পারেন বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, একদিকে বিশেষ ভাবে সক্ষমদের জন্য নির্ধারিত ভাতা এবং অন্যদিকে অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা, দুই সুবিধাই নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতে পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
অন্নপূর্ণা যোজনার ১৭ সেপ্টেম্বরের কিস্তি ঘিরে ইতিমধ্যেই উপভোক্তাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনে টাকা পাঠানোর সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। ১ কোটি ৪৮ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে পৌঁছনোর ফলে এই প্রকল্পের আওতায় বিপুল সংখ্যক পরিবার সরাসরি আর্থিক সুবিধা পাবে। এর পাশাপাশি রাজস্ব আদায় নিয়েও বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, সরকার ক্ষমতায় আসার পর আগের অর্থবর্ষের তুলনায় রাজ্যের রাজস্ব আদায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর কথায়, ‘বিগত অর্থবর্ষের তুলনায় এখন পর্যন্ত ১৮ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।’ সরকারের সামাজিক প্রকল্পগুলিতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর বিষয়টিকেও প্রশাসনিক সাফল্য হিসেবে তিনি তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিশেষ কর্মসূচীর আয়োজনের কথাও জানানো হয়েছে। ফলে ১৭ সেপ্টেম্বর দিনটি অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে। উল্লেখ্য, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে ফের জনকল্যাণ শিবির বসার ঘোষণায় নতুন আবেদনকারীদের জন্যও দরজা খুলছে। অন্নপূর্ণা যোজনা ছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তার অন্যান্য প্রকল্পে যাঁরা এখনও আবেদন করতে পারেননি, তাঁরা গ্রাম পঞ্চায়েত ও পুরসভা স্তরের শিবিরে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন। তবে সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নিয়ম, বয়স, আর্থিক অবস্থা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা হবে। সরকারি তালিকায় প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করাই আগামী দিনের প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে জানানো হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Asian Games 2026 India cricket, Shreyas Iyer Japan match | এশিয়ান গেমসের আগে জাপানে ভারতের টি-টোয়েন্টি! শ্রেয়সদের ম্যাচের দিন-সময় ঘোষণা বিসিসিআইয়ের



