মেধা পাল ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : এশিয়ান গেমসের (Asian Games) মঞ্চে নামার আগে ভারতীয় ক্রিকেট দলের ব্যস্ততা আরও বাড়ল। এ বার জাপানের মাটিতে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে দেখা যাবে ভারতকে। এশিয়ান গেমসের মূল প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে জাপানের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। শুক্রবার ম্যাচের দিন, সময় এবং ভেন্যু ঘোষণা করেছে বোর্ড। ফলে এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির মাঝেই ভারতীয় ক্রিকেট দলের সামনে তৈরি হল এক নতুন অভিজ্ঞতার সুযোগ। বোর্ডের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে জাপানের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে ভারত। ম্যাচটি হবে জাপানের তোচিগি প্রিফেকচারের সানো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে। ভারতীয় দলের জন্য এই ম্যাচের গুরুত্ব শুধু ক্রিকেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ভারত ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ ম্যাচ আয়োজন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ম্যাচটি সুজুকি কাপের (Suzuki Cup) অংশ হিসাবেও অনুষ্ঠিত হবে।
এশিয়ান গেমসে ভারতের প্রথম ম্যাচ ২৮ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ জাপানের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার পর হাতে থাকবে মাত্র ছ’দিন। সেই সময়ের মধ্যেই এশিয়ান গেমসের মূল প্রতিযোগিতার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করবে ভারতীয় দল। ফলে জাপানের বিরুদ্ধে ম্যাচটি এক দিকে বিশেষ উপলক্ষের অংশ হলেও, অন্য দিকে এশিয়ান গেমসের আগে ভারতীয় ক্রিকেটারদের ম্যাচ অনুশীলনেরও সুযোগ করে দেবে। এই ম্যাচকে ঘিরে ভারতীয় ক্রিকেটে আরও একটি নতুন দিক সামনে আসছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিচিত শক্তিগুলির পাশাপাশি এবার জাপানের মতো দেশে গিয়ে টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ পাচ্ছে ভারত। পূর্ব এশিয়ায় ক্রিকেটের পরিধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই ম্যাচকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জাপানে ক্রিকেটকে আরও পরিচিত করে তুলতে ভারতীয় দলের উপস্থিতি বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে ক্রিকেটমহল।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, ‘স্পোর্টস ৭৫’ (Sports 75) প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের অংশ হিসাবেই এই ম্যাচের আয়োজন করা হচ্ছে। ভারত ও জাপানের মধ্যে ক্রীড়াক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে এই উদ্যোগের পিছনে। দুই দেশের মধ্যে মানবসম্পদ আদান-প্রদান, ক্রীড়াক্ষেত্রে সহযোগিতা ও পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মতো বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে এই প্রকল্পে। ভারতের সঙ্গে জাপানের ক্রীড়া সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার সঙ্গে এই উদ্যোগকে যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে আগামী দিনে ভারত ২০৩৬ সালের অলিম্পিক্স ও প্যারালিম্পিক্স আয়োজনের লক্ষ্য নিয়েছে। সেই প্রস্তুতিতে জাপানের অভিজ্ঞতা এবং সহযোগিতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে ক্রিকেটের এই বিশেষ ম্যাচটি বৃহত্তর ক্রীড়া সহযোগিতার একটি অংশ হয়ে উঠছে।
ভারতীয় দলের সম্ভাব্য নেতৃত্ব এবং খেলোয়াড়দের নিয়েও স্বাভাবিক ভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer) -সহ ভারতীয় দলের একাধিক পরিচিত ক্রিকেটারকে এই ম্যাচে দেখা যেতে পারে। এশিয়ান গেমসের আগে দলের সংমিশ্রণ, ক্রিকেটারদের ম্যাচ প্রস্তুতি এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ছন্দ ধরে রাখার ক্ষেত্রে জাপানের বিরুদ্ধে ম্যাচটি কার্যকর হতে পারে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং তিন বিভাগেই নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ থাকে। ফলে এশিয়ান গেমসের আগে একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ভারতীয় ক্রিকেটারদের জন্য কার্যকর প্রস্তুতি হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন বা দলে নতুন করে জায়গা করে নিতে চাইছেন, তাঁদের কাছে এই ম্যাচ নিজেদের জায়গা মজবুত করার সুযোগও এনে দিতে পারে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবজিৎ শইকীয়া (Devajit Saikia) এই ম্যাচ আয়োজনকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, জাপানের মাটিতে ভারতীয় দলকে একটি বিশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে খেলতে দেখা যাওয়াকে ক্রিকেটের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসাবেই দেখছে বোর্ড।
দেবজিৎ শইকীয়া বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরে বিসিসিআই গর্বিত। জাপানে ভারত একটি বিশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। ক্রিকেটের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। ভারত নতুন একটি দেশে খেলতে যাবে এবং জাপান ও পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে ক্রিকেটকে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব আরও জানিয়েছেন, ভারত ও জাপানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ রয়েছে। সেই সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তির মতো একটি বিশেষ উপলক্ষের সঙ্গে ক্রিকেটকে যুক্ত করতে পেরে বোর্ড খুশি। ম্যাচটি আয়োজনের ক্ষেত্রে জাপান ক্রিকেট সংস্থার ভূমিকারও তিনি প্রশংসা করেছেন।
তাঁর কথায়, ‘ভারত এবং জাপানের মধ্যে শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তির সঙ্গে ক্রিকেটকে যুক্ত করা হয়েছে, এটা আমাদের কাছে সম্মানের। এই ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য জাপান ক্রিকেট সংস্থাকে ধন্যবাদ।’ ভারতের জন্য জাপানের বিরুদ্ধে এই ম্যাচ আরও একটি কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। এশিয়ান গেমসের আগে ভারতীয় দলের হাতে খুব বেশি সময় থাকবে না। ২২ সেপ্টেম্বর জাপানের বিরুদ্ধে খেলার পর ২৮ সেপ্টেম্বর শুরু হবে এশিয়ান গেমস অভিযান। ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ভারতকে নতুন প্রতিযোগিতার পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে। সেই কারণে ম্যাচ পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের নামিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগকে দল কাজে লাগাতে চাইবে। অন্য দিকে, জাপানের ক্রিকেটের জন্যও ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ বড় ঘটনা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে জাপানের মাটিতে এই ম্যাচ ঘিরে স্থানীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়তে পারে। মাঠে দর্শক উপস্থিতি থেকে শুরু করে জাপানে ক্রিকেটের প্রচার, সব ক্ষেত্রেই এই ম্যাচের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্রিকেটকে নতুন দেশে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয় দলের জনপ্রিয়তা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সময়ে কাজে এসেছে। এবার জাপানে সেই সুযোগ তৈরি হচ্ছে। শুধু একটি ম্যাচ খেলা নয়, ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে জাপানের ক্রিকেট কাঠামোর যোগাযোগ বাড়ানোও এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আরও ক্রিকেটীয় কার্যক্রমের সুযোগ তৈরি হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে। এশিয়ান গেমসের আগে ভারতীয় দলের সূচিতে তাই যুক্ত হল এক অভিনব অধ্যায়। ২২ সেপ্টেম্বর জাপানের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি, আর তার ছ’দিন পর ২৮ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমসের প্রথম ম্যাচ। ফলে সময়ের ব্যবধান কম হলেও এই ম্যাচ ভারতীয় দলের কাছে প্রস্তুতি, অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে নতুন ভূখণ্ডে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর এখন তাই শুধু এশিয়ান গেমসের দিকেই নয়, তার আগে জাপানের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই বিশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের দিকেও।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Women’s Premier League news, Smriti Mandhana RCB | মেয়েদের আইপিএলের আগে বড় ধাক্কা, চাপে স্মৃতি মন্ধানা ও জেমাইমা রদ্রিগেস




