Assam Child Marriage News, Himanta Biswa Sarma Child Marriage Action | অসমে বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া অভিযান, রাষ্ট্রসংঘের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে নতুন গুরুত্ব পেল হিমন্ত সরকারের উদ্যোগ

SHARE:

অভিরাজ চক্রবর্তী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গুয়াহাটি: অসমে বাল্যবিবাহ (Assam Child Marriage) ও জোরপূর্বক বিবাহের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের ধারাবাহিক অভিযান এবার আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে নতুন গুরুত্ব পেল। বাল্যবিবাহ নির্মূলের লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা বাড়াতে রাষ্ট্রসংঘ (United Nations) ২৭ নভেম্বরকে ‘International Day for the Elimination of Child, Early and Forced Marriage’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সেই সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) রাজ্যে গত কয়েক বছরে নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, শিশুদের অল্প বয়সে বা জোর করে বিবাহ দেওয়ার মতো প্রথার বিরুদ্ধে অসম যে লড়াই চালাচ্ছে, তা বৃহত্তর আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার পর অসমে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। তাঁর প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত ১২ হাজারের বেশি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এই মামলাগুলির সূত্র ধরে ১১ হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। শুধু মামলা ও গ্রেফতার নয়, রাজ্যের একাধিক জেলায় বাল্যবিবাহের প্রবণতা কমেছে বলেও সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন : Assam polygamy ban policy, Himanta Biswa Sarma polygamy rule | বহুবিবাহে কড়া রাশ অসমে! চাকরি যাবে, বন্ধ হবে সরকারি সুবিধা : বাজেটে বড় ঘোষণা, তুমুল আলোচনা রাজ্যজুড়ে

অসম সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০টি জেলায় বাল্যবিবাহের ঘটনা প্রায় ৮১ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। সরকারি অভিযানের অন্যতম বড় লক্ষ্য ছিল কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে বন্ধ করা এবং পরিবারগুলিকে আইনি পদক্ষেপের আওতায় আনা। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সামাজিক রীতির সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংঘাত তৈরি হলেও রাজ্য সরকার এই বিষয়ে কড়া অবস্থান বজায় রাখার কথা জানিয়েছে। বাল্যবিবাহ বন্ধের প্রভাব শুধু বিয়ের সংখ্যা কমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই বলে দাবি অসম সরকারের। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কিশোরী বয়সে গর্ভধারণের হারেও পরিবর্তন এসেছে। পাশাপাশি মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বেড়েছে। কম বয়সে বিবাহের পরিবর্তে মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তাঁদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও আর্থিক স্বনির্ভরতার পথও প্রশস্ত হতে পারে। তাই প্রশাসনের কাছে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের বিষয়টি নারীশিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গেও যুক্ত।

রাষ্ট্রসংঘের ২৭ নভেম্বরের আন্তর্জাতিক দিবস ঘোষণাকে সামনে রেখে বিষয়টি আরও একবার আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। বিশ্বজুড়ে শিশু ও কিশোরীদের অল্প বয়সে বিবাহ এবং জোর করে বিবাহ দেওয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী মনে করছেন, রাজ্যে পরিচালিত অভিযান সেই বৃহত্তর লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর মতে, বাল্যবিবাহের মতো প্রথা বন্ধ করা রাজ্য বা দেশের শুধু দায়িত্ব নয়, এটি আন্তর্জাতিক স্তরে শিশুদের অধিকার রক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত। অসমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে চলতি নভেম্বর মাসেও অভিযান আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনের অবস্থান, বাল্যবিবাহের ঘটনায় আইন ভাঙলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও সামাজিক চাপ বা প্রথার অজুহাতে আইন লঙ্ঘনের সুযোগ দেওয়া হবে না, এমন অবস্থানই নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিবাহ রুখতে পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাল্যবিবাহের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক সামাজিক সমস্যা। অল্প বয়সে বিয়ে হলে অনেক ক্ষেত্রেই মেয়েদের পড়াশোনা থেমে যায়। পরিবারের উপর নির্ভরশীলতা বেড়ে যায় ও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কমে যেতে পারে। কম বয়সে মাতৃত্বের ফলে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানা ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই বাল্যবিবাহ বন্ধের প্রশ্নটি শুধুমাত্র আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা, সচেতনতা, পরিবারগুলির আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতি এবং মেয়েদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ তৈরির মতো বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত। উল্লেখ্য, অসমে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। একদিকে সরকারের দাবি, কঠোর আইন প্রয়োগের ফলে বাল্যবিবাহ কমেছে। অন্যদিকে সমাজের বিভিন্ন স্তরে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে। কারণ মামলা দায়ের ও গ্রেফতার প্রশাসনিক পদক্ষেপের একটি অংশ হলেও সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন ছাড়া সমস্যার স্থায়ী মোকাবিলা কঠিন।

দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব, প্রত্যন্ত অঞ্চলে সচেতনতার ঘাটতি এবং সামাজিক চাপের মতো কারণ বহু পরিবারকে অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে। ফলে প্রশাসনের সামনে একদিকে যেমন আইন কার্যকর করার দায়িত্ব রয়েছে, অন্যদিকে তেমনই রয়েছে পরিবারগুলির মধ্যে সচেতনতা তৈরি করার কাজ। মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা, উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো ও পরিবারকে সরকারি সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করার মতো পদক্ষেপও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্যে অসমের অভিযানকে তাই শুধু পুলিশের কার্যকলাপ হিসেবে দেখার পরিবর্তে একটি বৃহত্তর সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর দাবি, কয়েক বছরের ধারাবাহিক পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের একাধিক জেলায় বাল্যবিবাহের হার কমেছে। কিশোরী বয়সে গর্ভধারণের প্রবণতা কমা ও উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ার তথ্যও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত বলে রাজ্য সরকারের বক্তব্য।

রাষ্ট্রসংঘের আন্তর্জাতিক দিবস ঘোষণার ফলে বাল্যবিবাহ নিয়ে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ আরও সংগঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অসমের ক্ষেত্রে এই ঘোষণার গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ রাজ্যটি ইতিমধ্যেই বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রশাসনিক অভিযান চালিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক স্তরে শিশুদের অধিকার, শিক্ষার সুযোগ এবং জোরপূর্বক বিবাহ প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনা যত বাড়বে, ততই রাজ্যগুলির নেওয়া পদক্ষেপও বৃহত্তর পরিসরে মূল্যায়িত হবে। অসম সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হল বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের এই উদ্যোগকে দীর্ঘস্থায়ী করা। শুধু নির্দিষ্ট সময়ে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বদলে পরিবার ও সমাজের আচরণগত পরিবর্তন ঘটানো জরুরি। মেয়েরা যাতে বিদ্যালয় ছেড়ে অল্প বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে না বসে, তার জন্য শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তার যোগ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জোরপূর্বক বিবাহের অভিযোগ সামনে এলে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, রাষ্ট্রসংঘের ২৭ নভেম্বরের আন্তর্জাতিক দিবস ঘোষণার পর অসমে বাল্যবিবাহ বিরোধী অভিযানের প্রসঙ্গ তাই নতুন করে সামনে এসেছে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন অসম সরকার যে কঠোর অবস্থানের কথা বলছে, তার সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক স্তরে বাল্যবিবাহ নির্মূলের লক্ষ্য। রাজ্যের দেওয়া পরিসংখ্যান বাস্তবে কতটা দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন তৈরি করে, আগামী দিনে তার দিকেই নজর থাকবে। তবে শিশু ও কিশোরীদের অল্প বয়সে বিবাহ থেকে রক্ষা করা এবং তাঁদের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রশ্নটি অসমের সামাজিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Assam budget news, tea industry Assam | চা চাষীদের বড় স্বস্তি, গ্যাসে ভ্যাট কমল, ২.৮৫ লক্ষ কোটি টাকার বাজেটে নতুন দিশা অসমের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন