Shah Rukh Khan threat | বলিউডের ‘পাঠান’-কে গুলি করার হুমকি! শাহরুখ খানের পাল্টা জবাব আজও চর্চায়

SHARE:

প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই: শাহরুখ খান (Shah Rukh Khan) বলিউডের এমন এক নাম, যার সঙ্গে শুধু তারকা-খ্যাতি নয়, জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘ কয়েক দশকের সংগ্রাম, সাফল্য ও একাধিক কঠিন সময়ের স্মৃতি। তবে তাঁর অভিনয়জীবনের শুরুর দিকটা যে আজকের মতো নিরাপদ ছিল না, তা নতুন করে সামনে এসেছে পরিচালক সঞ্জয় গুপ্ত (Sanjay Gupta) -এর সাম্প্রতিক বক্তব্যে। নব্বইয়ের দশকের বলিউডে যখন চলচ্চিত্র ব্যবসার সঙ্গে আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাবের কথাও প্রায়ই আলোচনায় আসত, তখন শাহরুখ খানও নাকি একাধিক হুমকির মুখে পড়েছিলেন। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও অভিনেতার অবস্থান ছিল আপসহীন। এমনকি তাঁকে ভয় দেখানোর চেষ্টা হলে তিনি নাকি পাল্টা জানিয়েছিলেন, ‘আমি পাঠান। গুলি করতে চাইলে গুলি করে দিন।’

শাহরুখ খান। ছবি : সংগৃহীত

আরও পড়ুন : Shah Rukh Khan Mannat | শাহরুখ খানের ‘মান্নাত’ ঘিরে কৌতূহল! দাম, ঠিকানা, অন্দরসজ্জা : কিং খানের স্বপ্নের বাড়ি

শাহরুখের অভিনয়জীবনের প্রথম পর্ব কেটেছে এমন একটি সময়ে, যখন মুম্বইয়ের চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে অপরাধজগতের যোগাযোগ নিয়ে নানা অভিযোগ এবং আলোচনা সংবাদমাধ্যমে উঠে আসত। প্রযোজনা, অর্থলগ্নি, ছবি তৈরি থেকে তারকাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বিভিন্ন ক্ষেত্রেই সেই সময়ের নানা ঘটনা নিয়ে কথা হয়েছে। বহু অভিনেতা ও প্রযোজককে ভয় দেখানো কিংবা চাপ দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছিল। সেই আবহেই শাহরুখ খানকে ঘিরে নিরাপত্তার উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল বলে বিভিন্ন সময়ে জানা যায়। সম্প্রতি সেই সময়ের একটি ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন পরিচালক সঞ্জয় গুপ্ত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হুমকি পাওয়ার পরে শাহরুখের প্রতিক্রিয়া ছিল অন্যরকম। তাঁর দাবি, অভিনেতা জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি ভয় পেয়ে কোনও ছবির কাজ বন্ধ করবেন না, আবার যাঁরা তাঁকে হুমকি দিচ্ছেন তাঁদের শর্ত মেনেও চলবেন না। প্রয়োজন হলে ঝুঁকি নিয়েই নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন।

সঞ্জয়ের কথায় উঠে এসেছে শাহরুখের সেই দৃঢ় অবস্থানের কথা। তাঁর দাবি, অভিনেতা বলেছিলেন, ‘আমি কোনও ছবি করব না, কোনও অনুষ্ঠানে যাব না। আমি পাঠান। গুলি করতে চাইলে গুলি করে দিন।’ এর সঙ্গে তিনি নাকি আরও জানিয়েছিলেন, ভয় দেখিয়ে তাঁকে কোনও কাজ করানো সম্ভব নয়। সঞ্জয়ের মতে, এমন মনোভাবের কারণেই শাহরুখ সেই সময়ের অপরাধজগতের কাছেও আলাদা ধরনের মর্যাদা অর্জন করেছিলেন। এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে শাহরুখের ব্যক্তিত্বের একটি দিক সামনে আসে, যা তাঁর পর্দার চরিত্রগুলির বাইরেও আলোচিত হয়েছে। অভিনেতার পরিচিতি যত বাড়তে থাকে, ততই তাঁর কাজ, ব্যক্তিগত জীবন এবং সিদ্ধান্ত নিয়ে আগ্রহ বেড়েছিল। কিন্তু সেই জনপ্রিয়তার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছিল। শাহরুখ নিজেও একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে জীবনের একটি পর্যায়ে তাঁকে দীর্ঘ সময় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে থাকতে হয়েছিল।

আরও পড়ুন : Juhi Chawla net worth, richest Bollywood actress 2025 | শাহরুখকে টেক্কা দিয়ে বলিউডের সবথেকে ধনী অভিনেত্রী জুহি চাওলা! অবসর নিয়েও কোটি টাকার মালিক এই তারকা

আরও পড়ুন : Koel Mallick : বাংলা সিনেমার রাজকন্যা কোয়েল মল্লিক

একটি সাক্ষাৎকারে তাঁকে যখন প্রশ্ন করা হয়েছিল, কখনও প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন কি না, শাহরুখের উত্তর ছিল, ‘হ্যাঁ, বহু বার।’ তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর তাঁকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে থাকতে হয়েছিল। অর্থাৎ হুমকির বিষয়টি কোনও সাময়িক ঘটনা ছিল না, দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপত্তার প্রয়োজন তৈরি হয়েছিল বলে অভিনেতার নিজের বক্তব্য থেকেই জানা যায়। শাহরুখ খানের সঙ্গে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সংঘাতের প্রসঙ্গ নিয়ে চলচ্চিত্র সাংবাদিক অনুপমা চোপড়া (Anupama Chopra) -এর লেখাতেও আলোচনা রয়েছে। তাঁর বইয়ে নব্বইয়ের দশকের বলিউডের পরিবেশ ও শাহরুখের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে বলে জানা যায়। সেখানে আবু সালেম (Abu Salem), ছোটা রাজন (Chhota Rajan) ও ছোটা শাকীল (Chhota Shakeel) -এর মতো অপরাধজগতের নামও এসেছে।

১৯৯৭ সালের সময়কালকে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মহেশ ভাট (Mahesh Bhatt) পরিচালিত ‘ডুপ্লিকেট’ (Duplicate) ছবিতে কাজ করার সময় শাহরুখকে ঘিরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল বলে অনুপমার লেখায় উল্লেখ রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে অভিনেতার জন্য ব্যক্তিগত দেহরক্ষীর ব্যবস্থাও করা হয়েছিল বলে জানা যায়। তখন শাহরুখের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছিল এবং তাঁর একের পর এক ছবি দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলছিল। ফলে তিনি যে চলচ্চিত্র ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠেছিলেন, তা বলাই যায়। শুধু নিরাপত্তা বাড়ানোই নয়, ব্যক্তিগত ভাবে ভয় পাওয়ার মতো পরিস্থিতিও নাকি তৈরি হয়েছিল। অনুপমা চোপড়ার লেখায় এমন একটি ফোনকলের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে আবু সালেম সরাসরি শাহরুখের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। একজন ঘনিষ্ঠ প্রযোজকের ছবিতে কাজ করতে অভিনেতা রাজি না হওয়ায় তাঁকে ফোনে গালিগালাজ করা হয়েছিল বলে জানা যায়। সেই ফোনকল শাহরুখের উপর মানসিক চাপ তৈরি করেছিল বলেও ওই বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। তিনি ভয় পেয়েছিলেন, এমন কথাও সামনে এসেছে। তবে পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, ফোনে নিজের সংযম ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন অভিনেতা। পরবর্তী সময়ে তাঁর যে কঠোর অবস্থানের কথা সঞ্জয় গুপ্ত জানিয়েছেন, তার সঙ্গে এই ঘটনার একটি যোগসূত্র দেখতে পাচ্ছেন অনেকে।

শাহরুখের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে তাঁর জনপ্রিয়তার পরিমাণের কারণে। নব্বইয়ের দশকে ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’ (Dilwale Dulhania Le Jayenge), ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ (Dil To Pagal Hai), ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ (Kuch Kuch Hota Hai) -এর মতো ছবির মাধ্যমে তিনি তরুণ প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তারকার জনপ্রিয়তা যত বেড়েছে, তাঁকে ঘিরে ব্যবসায়িক স্বার্থও তত বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নটি তাঁর ক্ষেত্রে বারবার সামনে এসেছে। শাহরুখের বক্তব্যের আর একটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। হুমকির মুখে পড়ে তিনি নাকি নিজের কাজের ধরন বদলে ফেলেননি। ভয় দেখিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন। সঞ্জয় গুপ্তের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি কোনও অনুষ্ঠানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, কোনও ছবি না করার সিদ্ধান্তও নিতে পারেন, কিন্তু কারও নির্দেশ মেনে নিজের পেশাগত সিদ্ধান্ত বদলাবেন না, এমন অবস্থানই নিয়েছিলেন।

শাহরুখের ‘আমি পাঠান’ কথাটিও তাৎপর্যপূর্ণ। পাঠান পরিচয়কে তিনি যেন সাহস ও আত্মমর্যাদার প্রতীক হিসেবেই ব্যবহার করেছিলেন। সেই সময়ের পরিস্থিতিতে এমন মন্তব্য করা সহজ ছিল না। কারণ হুমকির বিষয়টি যদি সত্যি হয়ে থাকে, তা হলে তার সঙ্গে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকিও জড়িয়ে ছিল। তবু নিজের সিদ্ধান্তের জায়গা থেকে সরে না আসার মানসিকতা তাঁর বক্তব্যে ফুটে ওঠে। বলিউডে আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা হয়েছে। চলচ্চিত্রে অর্থলগ্নি থেকে শুরু করে প্রযোজকদের উপর চাপ, তারকাদের অনুষ্ঠানে হাজিরা কিংবা নির্দিষ্ট ছবিতে কাজের বিষয়ে হস্তক্ষেপ, বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। যদিও প্রতিটি ঘটনার সত্যতা এক রকম নয় এবং অনেক দাবির স্বাধীন যাচাইও কঠিন। তাই শাহরুখের ক্ষেত্রে সামনে আসা ঘটনাগুলিকেও সেই সময়ের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের মধ্যে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। উল্লেখ্য, আজকের শাহরুখ খান ও নব্বইয়ের দশকের শাহরুখ খানের মধ্যে সময়ের ব্যবধান অনেক। এখন তিনি শুধু অভিনেতা নন, আন্তর্জাতিক স্তরেও পরিচিত ভারতীয় চলচ্চিত্র তারকা। ‘পাঠান’ (Pathaan), ‘জওয়ান’ (Jawan) ও ‘ডাঙ্কি’ (Dunki) -এর মতো ছবির মাধ্যমে সাম্প্রতিক বছরগুলিতেও তাঁর জনপ্রিয়তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অথচ এই সাফল্যের অনেক আগে তাঁর কর্মজীবনের একটি পর্যায় কেটেছে নিরাপত্তার উদ্বেগের মধ্যে।

আরও পড়ুন : Kangana Ranaut Deepika Padukone news, Kangana interview Bollywood rivalry | দীপিকাকে নিয়ে অকপট কঙ্গনা, বলিউডে বদলাচ্ছে সম্পর্কের সমীকরণ

সঞ্জয় গুপ্তের বক্তব্য নতুন করে সেই অতীতের দরজা খুলেছে। একজন তারকা কী ভাবে ভয়, চাপ এবং হুমকির মধ্যেও নিজের পেশাগত স্বাধীনতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন, সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে। শাহরুখের কথিত সেই জবাব আজও আলোচনায় থাকার কারণ হয়তো এখানেই। কারণ সেটি শুধু একজন অভিনেতার হুমকির জবাব নয়, বরং নিজের সিদ্ধান্তের উপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার একটি অবস্থানও ছিল। এই ধরনের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, তারকার জনপ্রিয়তা যত বড়ই হোক, নিরাপত্তার প্রশ্নকে কখনও হালকা ভাবে দেখার সুযোগ নেই। শাহরুখের ক্ষেত্রে তিন বছর কড়া নিরাপত্তায় থাকার দাবি সেই সময়কার পরিস্থিতির গুরুত্বই তুলে ধরে। পর্দায় যাঁকে দর্শক সাহসী নায়ক হিসেবে দেখেন, বাস্তব জীবনে তিনিও ভয় বা উদ্বেগের মুখোমুখি হতে পারেন। পার্থক্য তৈরি হয় সেই পরিস্থিতিতে তিনি কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তার উপর।

শাহরুখ খানের দীর্ঘ কেরিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাঁর যাত্রাপথে সাফল্যের পাশাপাশি কঠিন সময়ও কম ছিল না। আন্ডারওয়ার্ল্ডের হুমকির সেই অধ্যায় তাঁর জীবনের একটি অস্বস্তিকর পর্ব। কিন্তু সঞ্জয় গুপ্তের বক্তব্যে উঠে আসা ‘আমি পাঠান’ মন্তব্য সেই অধ্যায়কে আবার আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। হুমকির সামনে দাঁড়িয়ে ভয় না পাওয়ার যে বার্তা তিনি দিতে চেয়েছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে, সেটিই এখন তাঁর পুরনো দিনের দৃঢ় মানসিকতার অন্যতম আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :Shah Rukh Khan struggle story, SRK childhood journey | ‘শিঙাড়া বিক্রি থেকে বলিউডের বাদশা’! শাহরুখ খানের লড়াইয়ের অজানা গল্প, ১০ বছর বয়সেই শুরু রোজগার

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন