প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই: দীর্ঘ ১৮ মাসের বিরতির পর ফের শক্তিবর্ধক ব্যায়ামে ফিরেছেন বলিউড অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিং (Rakul Preet Singh)। তবে এবার জিমে তাঁর লক্ষ্য আগের জায়গায় দ্রুত পৌঁছনো নয়, ধীরে ধীরে শরীরকে পুরনো ছন্দে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। গুরুতর চোটের পর দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে জিমে ফিরে অভিনেত্রীর নতুন উপলব্ধি, পেশিগুলিকে যেন আবার প্রথম থেকে ব্যায়ামের সঙ্গে পরিচয় করাতে হচ্ছে। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে নিজের ওয়ার্কআউটের ভিডিয়ো প্রকাশ করে সেই অভিজ্ঞতার কথাই তিনি জানিয়েছেন। ফিটনেসপ্রেমী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত রাকুল। নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়াম, ভারোত্তোলন ও বিভিন্ন ধরনের শারীরিক অনুশীলন তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের শুরুতে নিজের এক কঠিন অভিজ্ঞতার কথা সামনে এনেছিলেন অভিনেত্রী। ৮০ কেজি ওজনের ডেডলিফ্ট করতে গিয়ে গুরুতর কোমর ও পিঠের চোট পান তিনি। সেই ঘটনায় স্লিপ ডিস্কের সমস্যায় পড়ে প্রায় ৪০ দিন শয্যাশায়ী থাকতে হয়েছিল তাঁকে।

চোটের ধাক্কা শুধু শরীরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দীর্ঘদিন স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা ও ব্যায়াম করতে না পারার ফলে মানসিকভাবেও কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল রাকুলকে। আগে যিনি নিয়মিত জিমে গিয়ে নিজের শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতেন, তাঁর কাছে আচমকা সেই জীবনযাত্রা থেমে যাওয়া ছিল বড় পরিবর্তন। সেই কারণেই এবারের জিমে ফেরা তাঁর কাছে শুধুমাত্র নতুন করে ওয়ার্কআউট শুরু করা নয়, দীর্ঘ পুনরুদ্ধার পর্বের পর জীবনের পরিচিত একটি জায়গায় ফিরে যাওয়া। কিন্তু এবার রাকুলের পদ্ধতিতে এসেছে বড় পরিবর্তন। আগের মতো ভারী ওজন নিয়ে সরাসরি অনুশীলনে না গিয়ে প্রথমে শরীরকে প্রস্তুত করছেন তিনি। ওয়ার্কআউট শুরুর আগে স্ট্রেচিং, যোগাসন এবং ওয়ার্ম-আপের মাধ্যমে পেশিগুলিকে সক্রিয় করছেন। এরপর ধীরে ধীরে লাঞ্জেস, রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড স্কোয়াট, হালকা স্কোয়াট, লেগ এক্সটেনশন ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত অনুশীলনে যাচ্ছেন। পিঠ ও কোমরের উপর চাপ কম রাখতে সাপোর্ট বেল্টও ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে রাকুল প্রীতকে।
রাকুলের ভিডিয়োয় আরও একটি বিষয় নজর কেড়েছে। আগে যে ওজন তাঁর কাছে তুলনামূলক সহজ ছিল, এখন সেটি নিয়েও তিনি সাবধানী। কেট্লবেল সুইংয়ের ক্ষেত্রেও আগের ওজনের তুলনায় ধীরে এগোচ্ছেন। দীর্ঘ বিরতির পর শরীরের শক্তি, ভারসাম্য এবং পেশির সক্ষমতা আগের অবস্থায় ফিরতে সময় লাগে,,এই বাস্তবতাই নিজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন চোটের কারণে জিম থেকে দূরে থাকার পর হঠাৎ আগের জায়গায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা যে বিপজ্জনক হতে পারে, রাকুলের অভিজ্ঞতা সেই দিকটিও সামনে এনেছে। বিশেষ করে কোমর, পিঠ, হাঁটু বা কাঁধের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশে চোটের ইতিহাস থাকলে ব্যায়ামের ধরন ও মাত্রা নির্ধারণে বাড়তি সতর্কতা দরকার। শরীরের বর্তমান সক্ষমতা অনুযায়ী অনুশীলনের মাত্রা ঠিক করা ও প্রয়োজনে চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত পুনর্বাসনকর্মীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চোটের পর জিমে ফেরার ক্ষেত্রে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল তাড়াহুড়ো না করা। কয়েক মাস ব্যায়াম বন্ধ থাকার পর অনেকেই আগের ওজন বা আগের সংখ্যক রিপিটিশনে দ্রুত ফিরে যেতে চান। কিন্তু পেশির শক্তি, নমনীয়তা, ভারসাম্য ও শরীরের সহনশীলতা একসঙ্গে আগের জায়গায় ফিরবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তাই হালকা অনুশীলন দিয়ে শুরু করে শরীরের প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী ধীরে ধীরে চাপ বাড়ানো নিরাপদ পদ্ধতির অংশ হতে পারে। রাকুলের সাম্প্রতিক অনুশীলনেও সেই ধীরগতির প্রত্যাবর্তন দেখা যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ওয়ার্ম-আপ ও মোবিলিটি অনুশীলনকে অবহেলা করা উচিত নয়। দীর্ঘ বিরতির পর সরাসরি ভারী ওজন তোলার বদলে শরীরকে অনুশীলনের জন্য প্রস্তুত করা দরকার। স্ট্রেচিং, হালকা মুভমেন্ট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বাসনভিত্তিক ব্যায়াম দিয়ে শুরু করলে শরীর ধীরে ধীরে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায়। তবে কোন ব্যায়াম কার জন্য নিরাপদ, তা চোটের ধরন এবং বর্তমান শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে।

তৃতীয়ত, ব্যথাকে উপেক্ষা করে অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়। ব্যায়ামের সময় স্বাভাবিক পেশির ক্লান্তি ও চোটের ব্যথা এক জিনিস নয়। বিশেষ করে আগের চোটের জায়গায় নতুন করে তীব্র ব্যথা, ঝিনঝিনি, অসাড়তা, দুর্বলতা বা চলাফেরায় সমস্যা দেখা দিলে ব্যায়াম বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কোমরের চোটের ক্ষেত্রে পায়ে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া বা দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। চতুর্থত, সঠিক কৌশল বা ফর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডেডলিফ্ট, স্কোয়াট বা অন্যান্য ভারোত্তোলনের ব্যায়ামে শুধু কত কেজি ওজন তোলা হচ্ছে, সেটিই সাফল্যের মাপকাঠি নয়। শরীরের অবস্থান, মেরুদণ্ডের ভঙ্গি, ওজন তোলার পদ্ধতি এবং নিয়ন্ত্রণ, প্রতিটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। রাকুলের নিজের অভিজ্ঞতাতেও ভারী ওজনের অনুশীলনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব উঠে এসেছে। ৮০ কেজি ডেডলিফ্টের সময় সেফটি বেল্ট ব্যবহার না করাই তাঁর চোটের অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি আগে জানিয়েছিলেন।

পঞ্চমত, বিশ্রামকেও প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে দেখতে হবে। চোটের পর শরীরকে পুনরুদ্ধারের সময় না দিয়ে প্রতিদিন কঠিন অনুশীলন করলে পুনরায় চোট পাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। দীর্ঘ ১৮ মাসের বিরতির পর রাকুলের ধীরে ধীরে ফিরে আসার ঘটনাটি দেখাচ্ছে, ফিটনেসে ফিরে আসার পথ সবসময় দ্রুত গতির হয় না। পুনর্বাসনের সময়সীমা প্রত্যেকের ক্ষেত্রে আলাদা হতে পারে। রাকুলের বর্তমান অনুশীলনের আরও একটি দিক গুরুত্বপূর্ণ, তিনি নিজের আগের সক্ষমতার সঙ্গে বর্তমান অবস্থার তুলনা না করে শরীরের বর্তমান অবস্থাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর ভিডিয়োর বক্তব্যে উঠে এসেছে, পেশিগুলি যেন পুরনো ব্যায়াম নতুন করে শিখছে। অর্থাৎ, দীর্ঘ বিরতির পর জিমে ফেরা মানেই আগের জায়গা থেকে শুরু করা নয়; অনেক ক্ষেত্রে শরীরকে আবার ধাপে ধাপে সেই জায়গায় নিয়ে যেতে হয়।

ফিটনেসের জগতে ‘আরও বেশি ওজন’, ‘আরও বেশি রিপ’ বা ‘আরও কঠিন ওয়ার্কআউট’ নিয়ে প্রতিযোগিতা করার প্রবণতা থাকলেও চোটের পর সেই মানসিকতা বদলানো প্রয়োজন। শরীর যখন যতটা চাপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত, ততটাই করা উচিত। বিশেষ করে মেরুদণ্ড বা কোমরের চোটের ইতিহাস থাকলে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা ব্যক্তিভেদে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, রাকুলপ্রীত সিংয়ের প্রত্যাবর্তনের গল্প তাই শুধুমাত্র বলিউড অভিনেত্রীর জিমে ফেরার খবর নয়। এটি দীর্ঘ বিরতির পর ব্যায়ামে ফেরার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও সামনে আনছে, ফিটনেস মানে শুধু শক্তি বাড়ানো নয়, শরীরের সংকেত বুঝে নিরাপদ ভাবে এগিয়ে চলাও। চোটের পরে পুরনো রেকর্ড ভাঙার তাড়ার বদলে শরীরকে সময় দেওয়া অনেক বেশি জরুরি।

১৮ মাস পর রাকুল এখন আবার নিয়মিত অনুশীলনের পথে। তবে তাঁর লক্ষ্য আগের জায়গায় এক লাফে ফিরে যাওয়া নয়। ধাপে ধাপে শক্তি ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা, সঠিক কৌশলে ব্যায়াম করা এবং শরীরের সক্ষমতার প্রতি নজর রাখাই এখন তাঁর ফিটনেস রুটিনের মূল বিষয়। তবে চোটের পর জিমে ফিরতে চান এমন যে কোনও ব্যক্তির ক্ষেত্রেই তাই রাকুলের অভিজ্ঞতা থেকে একটি বিষয় মনে রাখা যায়, দীর্ঘ বিরতির পর শরীরকে সময় দিতে হয়। বিশেষ করে গুরুতর চোট বা অস্ত্রোপচারের ইতিহাস থাকলে নিজের সিদ্ধান্তে ভারী ওজন তোলার বদলে চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত ফিটনেস পেশাদারের পরামর্শ নিয়ে ধাপে ধাপে অনুশীলনে ফেরা নিরাপদ পথ। শরীরকে জোর করে পুরনো ছন্দে ফেরানোর বদলে নতুন ছন্দে অভ্যস্ত করাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি ফিটনেসের বেশি কার্যকর পদ্ধতি।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Priyanka Chopra Nick Jonas first message, Nick Jonas asked photo timestamp Priyanka | প্রথম আলাপেই প্রমাণ চেয়েছিলেন নিক! প্রিয়াঙ্কার মুখে ফাঁস প্রেমের অজানা গল্প, ভাইরাল পুরনো চ্যাট
নোট: চোটের পর ব্যায়ামে ফেরার ক্ষেত্রে এই তথ্য সাধারণ স্বাস্থ্যতথ্য হিসেবে দেওয়া হল। গুরুতর চোট, মেরুদণ্ডের সমস্যা বা দীর্ঘদিনের ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভারী ব্যায়াম শুরু করা উচিত নয়।



