শোভনা মাইতি, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই: সমাজমাধ্যমে কোনও তারকার একটি ছবি প্রকাশ্যে আসার পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই শুরু হয়ে যায় নানা ধরনের মন্তব্য। কখনও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা, কখনও পোশাক নিয়ে কটাক্ষ, আবার কখনও অভিনয় দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, এগুলি নিছক দর্শক-অনুরাগীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া। কিন্তু বিনোদন দুনিয়ার অন্দরমহল থেকে ওঠা অভিযোগ বলছে, সমাজমাধ্যমে তারকাদের নিয়ে তৈরি হওয়া কিছু বিতর্কের পিছনে থাকতে পারে পরিকল্পিত প্রচার। সেই ব্যবস্থারই একটি অংশ হিসাবে উঠে আসছে ‘পেড ট্রোলিং’ (Paid Trolling), ‘ট্রোল ফার্ম’ (Paid Trolling- Troll Farm), ও ‘অনলাইন রেপুটেশন ম্যানেজমেন্ট’ বা ওআরএম-এর নাম। কোনও অভিনেতা কিংবা অভিনেত্রীর প্রচার সামলানোর জন্য সাধারণত পিআর সংস্থা বা জনসংযোগ সংস্থার সাহায্য নেওয়া হয়। ছবি মুক্তির আগে সাক্ষাৎকার, সমাজমাধ্যমে প্রচার, দর্শকের আগ্রহ তৈরি করা কিংবা নেতিবাচক আলোচনার মোকাবিলা, নানা দায়িত্ব থাকে এই ব্যবস্থার মধ্যে। অভিযোগ, প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, ততই সেই প্রচারের পরিধি কখনও কখনও অন্য তারকার ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার দিকেও চলে যাচ্ছে। সরাসরি কোনও তারকাকে আক্রমণ না করে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, কাজ, চেহারা কিংবা জনপ্রিয়তা নিয়ে এমন প্রশ্ন ছড়ানো হয়, যাতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যেও সন্দেহ বা নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়।

ধরা যাক, দুই তরুণ তারকার ছুটির ছবি একই সময়ে সমাজমাধ্যমে প্রকাশ পেল। দু’টি ছবির পটভূমি কাছাকাছি। সেখান থেকেই তৈরি হল সম্পর্কের জল্পনা। প্রথমে হয়তো কয়েকটি স্বাভাবিক মন্তব্য। তার পরে কোনও একটি অ্যাকাউন্ট সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিল। একের পর এক একই ধরনের পোস্ট আসতে শুরু করল। কিছু অ্যাকাউন্ট আবার সেই পোস্টকে সমর্থন করল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিষয়টি এমন জায়গায় পৌঁছতে পারে, যেখানে মনে হবে গোটা সমাজমাধ্যমই যেন একই প্রশ্ন তুলছে। অথচ সেই আলোচনার বড় অংশই আগে থেকে পরিকল্পিত কি না, তা বোঝা সাধারণ ব্যবহারকারীর পক্ষে কঠিন। ‘ট্রোল ফার্ম’ বলতে মূলত এমন সংগঠিত দলকে বোঝানো হয়, যাদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তি বা বিষয়কে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যায় পোস্ট, মন্তব্য কিংবা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ছড়ানো যায় বলে অভিযোগ। এর জন্য আসল পরিচয় ব্যবহার করা প্রয়োজন হয় না। একাধিক নতুন বা নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে একই ধরনের বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে। অনেক অ্যাকাউন্টে ব্যক্তিগত ছবি নেই, নামও অনেক সময় অস্বাভাবিক, অনুসরণকারীর সংখ্যা অত্যন্ত কম। ফলে একজন সাধারণ ব্যবহারকারীর পক্ষে বোঝা কঠিন, তিনি সত্যিকারের কোনও মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখছেন, নাকি সাজানো প্রচারের অংশ।
এই ধরনের কৌশলকে ডিজিটাল পরিসরে ‘সকপাপেট্রি’ বলা হয়। অর্থাৎ একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী একাধিক পরিচয়ের আড়ালে থেকে বিভিন্ন ব্যবহারকারীর মতো আচরণ করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ায় এই ধরনের প্রচার আরও দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে বলেও দাবি উঠেছে। আবার মানুষের তৈরি মন্তব্যের ব্যবহার থাকলে সেগুলি অনেক সময় বেশি স্বাভাবিক বলে মনে হতে পারে। ফলে প্রযুক্তি ও মানবসম্পদের সমন্বয়ে তৈরি হতে পারে আরও বড় প্রচারব্যবস্থা। বলিউডে এই ধরনের ‘পেড ট্রোলিং’ -এর অভিযোগ নতুন নয়। কার্তিক আরিয়ানকে (Kartik Aaryan) ঘিরে একজন তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কের একটি বিতর্কের উদাহরণ সামনে এসেছে। ওই তরুণীর সমাজমাধ্যমের প্রোফাইলে বয়স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। পরে তাঁর বয়স নিয়ে পাল্টা দাবি করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত ওই তরুণী নিজেই অভিনেতাকে চেনেন না বলে জানান। কিন্তু তার আগেই বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছিল। এই ধরনের ঘটনা দেখিয়ে প্রশ্ন উঠছে, সমাজমাধ্যমে কোনও অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর সত্যতা যাচাই হওয়ার আগেই কেন তা এত দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে যায়?
একজন জনসংযোগ পেশাদার সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, এখন ছবির প্রচার পরিকল্পনার সঙ্গে অনলাইন ভাবমূর্তি সামলানোর বিষয়টিও অনেক ক্ষেত্রেই জড়িয়ে গিয়েছে। তাঁর দাবি, কোনও তারকার বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার শুরু হলে সেটি সামলানোর জন্যও ওআরএম সংস্থার প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ যে ব্যবস্থা একদিকে নেতিবাচক প্রচার তৈরি করতে পারে বলে অভিযোগ, অন্যদিকে সেই ব্যবস্থাই আবার নেতিবাচক প্রচার ঠেকানোর কাজেও ব্যবহৃত হতে পারে। আলিয়া ভাট (Alia Bhatt) -এর ক্ষেত্রেও এমন অভিযোগ উঠেছে। ‘আলফা’ (Alpha) ছবিকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে নানা কটাক্ষ ছড়িয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। অ্যাকশন ছবিতে তাঁকে মানায় না, অন্য কাউকে নেওয়া উচিত ছিল, এমন মন্তব্যের পাশাপাশি তাঁর উচ্চতা নিয়েও কটাক্ষ করা হয়। তবে এই প্রচারের পিছনে কারা ছিল, তা নিয়ে কোনও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি এখনও অভিযোগের স্তরেই রয়েছে।
দীপিকা পাড়ুকোনকেও (Deepika Padukone) কাজের সময় নিয়ে নিজের অবস্থান জানানোর পর সমাজমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কৃতি শ্যানন (Kriti Sanon) -এর একটি বিজ্ঞাপন নিয়েও তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট সংস্থা। ক্যাটরিনা কাইফ (Katrina Kaif) -এর প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর চেহারা ও পোশাক নিয়েও কটাক্ষ দেখা গিয়েছে। বিষয়টি কেবল অভিনেত্রীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরুণ ধবন (Varun Dhawan), রণবীর সিং (Ranveer Singh)-সহ একাধিক পুরুষ তারকাকেও পরিকল্পিত ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ‘বর্ডার ২’ (Border 2) -এর সহ-প্রযোজক নিধি দত্ত (Nidhi Dutta) বরুণকে ঘিরে এমন প্রচারের সমালোচনা করেছিলেন বলে জানা যায়। আবার ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar) ছবিকে কেন্দ্র করে রণবীর সিংকে বিতর্কে জড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিনেতা ও পরিচালক অংশুমান ঝাও (Anshuman Jha) সমাজমাধ্যমে ‘মাস রিপোর্টিং’ -এর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, একটি সংস্থার মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পরিকল্পিত রিপোর্ট করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য ছিল তাঁর সমাজমাধ্যমের উপস্থিতি দুর্বল করে দেওয়া। বড় তারকার তুলনায় তাঁর অনুসরণকারী সংখ্যা কম হওয়া সত্ত্বেও কেন এমন করা হবে, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন। এই প্রচারের পিছনে অর্থের অঙ্ক নিয়েও রয়েছে নানা দাবি। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েক হাজার টাকা থেকে শুরু করে বড় প্রচারের ক্ষেত্রে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। প্রায় এক হাজার পোস্ট ছড়ানোর জন্য এক লক্ষ টাকার কাছাকাছি অর্থ নেওয়া হয়, এমন দাবিও সামনে এসেছে। দীর্ঘ সময় ধরে বড় মাত্রায় নেতিবাচক প্রচার চালাতে গেলে সেই অঙ্ক ৫০ লক্ষ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল সূত্রের কয়েকজন। তবে এই অর্থের হার কোনও সরকারি বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত তালিকা নয়। বিভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্য থেকে এমন তথ্য সামনে এসেছে।
প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় এই খরচ কমার সম্ভাবনাও রয়েছে। স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর কনটেন্ট তৈরি এবং একই বক্তব্যের নানা রকম সংস্করণ দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক পোস্ট তৈরি করা সম্ভব। অন্য দিকে, মানুষের মাধ্যমে পরিচালিত ট্রোলিং তুলনামূলক বেশি খরচসাপেক্ষ হলেও মন্তব্যগুলি বেশি স্বাভাবিক দেখাতে পারে বলে দাবি করেছেন এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এমন এক ব্যক্তি। আরও উদ্বেগের বিষয়, কখনও কখনও একই সংস্থা নাকি পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই তারকার জন্যই কাজ করতে পারে। এমনই দাবি করেছেন এক প্রাক্তন ‘পেড ট্রোল’। তাঁর বক্তব্য, একই সময়ে কঙ্গনা রানাওয়াত (Kangana Ranaut) ও রণদীপ হুড্ডাকে (Randeep Hooda) ঘিরে প্রচারের দায়িত্ব একই সংস্থার হাতে ছিল। দুই পক্ষের মধ্যে সমাজমাধ্যমের দ্বন্দ্ব বাড়লেও তাঁরা নাকি জানতেন না যে নেপথ্যে একই সংস্থা কাজ করছে। অভিযোগ সত্য হলে এটি বিনোদন দুনিয়ার প্রচারব্যবস্থার একটি বড় নৈতিক প্রশ্ন সামনে আনে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করে অর্থ উপার্জনের জন্য কি ইচ্ছাকৃত ভাবে সংঘাত বাড়ানো হচ্ছে? ট্রোলিংয়ের প্রভাব শুধু প্রকাশ্য পোস্টেই থেমে থাকছে না। তারকাদের ব্যক্তিগত ইনবক্সেও অশালীন মন্তব্য, হুমকি কিংবা লাগাতার কটাক্ষ পৌঁছে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক শিল্পী। অভিনেত্রী দিয়া মির্জা (Dia Mirza) জানিয়েছেন, বছরের পর বছর ধরে তিনি ভয়ঙ্কর ধরনের হুমকি পেয়েছেন। তাঁর কাছে এমন বহু মন্তব্যের নথি রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। আরও উদ্বেগের বিষয় হল, অনেক মেসেজের ভাষা বা বাক্যগঠনে একই ধরনের ছাপ দেখা যায়। ফলে এগুলি বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিগত ক্ষোভ, নাকি সংগঠিত প্রচারের অংশ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পরিবারকে লক্ষ্য করে হুমকি এলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ (Anurag Kashyap) -এর ক্ষেত্রেও তাঁর পাশাপাশি মেয়েকে ঘিরে হুমকির অভিযোগ সামনে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে সমাজমাধ্যম থেকে সাময়িক দূরত্ব তৈরি করার প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন তিনি। পরে ফিরে এসে ট্রোলিং নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও বলেছেন। অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা বসু (Priyanka Bose)-ও জানিয়েছেন, তাঁর ছবি ‘আগরা’ (Agra)-কে ঘিরে নেতিবাচক প্রচারের অভিজ্ঞতা হয়েছিল। নিজের রাজনৈতিক মতামত নিয়েও তাঁকে ও তাঁর সঙ্গীকে ব্যক্তিগত মেসেজের মাধ্যমে আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। অর্থাৎ বিনোদন সংক্রান্ত সমালোচনা কখন ব্যক্তিগত আক্রমণে পরিণত হচ্ছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। ‘অর্গ্যানিক ট্রোলিং’ ও ‘পেড ট্রোলিং’ -এর মধ্যে পার্থক্য নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কোনও ছবি, বক্তব্য বা কাজ নিয়ে দর্শকের স্বাভাবিক অসন্তোষ তৈরি হলে তা অর্গ্যানিক প্রতিক্রিয়া। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে একই ধরনের নেতিবাচক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠলে সেটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। প্রথমটির ক্ষেত্রে দর্শকের স্বাধীন মতামত কাজ করে, দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে সেই মতামতকে কৃত্রিম ভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা থাকতে পারে।
আমির খান (Aamir Khan) অতীতে ‘লাল সিং চড্ঢা’ (Laal Singh Chaddha) নিয়ে বিতর্কের সময়ে দর্শকের পছন্দকে সম্মান করার কথা বলেছিলেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, কেউ ছবি দেখতে না চাইলে তাঁকে জোর করা যায় না। এই অবস্থানই চলচ্চিত্র জগতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনে। কোনও ছবি ভাল লাগল কি না, কোনও অভিনেতাকে পছন্দ হল কি না সেই সিদ্ধান্ত দর্শকের। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত যদি পরিকল্পিত ডিজিটাল প্রচারের মাধ্যমে আগে থেকেই পরিচালিত করার চেষ্টা হয়, তা হলে দর্শকের স্বাধীন বিচার কতটা অবশিষ্ট থাকে? উল্লেখ্য, চলচ্চিত্রের প্রচারে ইতিবাচক প্রচার স্বাভাবিক। তারকার জনপ্রিয়তা বাড়াতে বিজ্ঞাপন, সাক্ষাৎকার, সমাজমাধ্যম প্রচার সবই বিনোদন শিল্পের ব্যবসায়িক কাঠামোর অংশ। কিন্তু অন্য শিল্পীকে ছোট করে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা অভিযোগের পর্যায়ে হলেও নৈতিকতার প্রশ্ন তোলে। কারণ এর প্রভাব শুধু তারকার জনপ্রিয়তার উপর পড়ে না; তাঁর কাজের গ্রহণযোগ্যতা, মানসিক চাপ এবং কখনও পরিবারের নিরাপত্তার উপরও পড়তে পারে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, সমাজমাধ্যমে কোনও পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পরে সেটি কোথা থেকে শুরু হয়েছে তা খুঁজে বের করা কঠিন। কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু হওয়া প্রচার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাজার হাজার ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে যেতে পারে। সেই সময়ে সত্যি দর্শকের ক্ষোভ এবং পরিকল্পিত প্রচারের মধ্যে সীমারেখা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ‘পেড ট্রোলিং’ এখন শুধু তারকাদের ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, ডিজিটাল প্রচারের বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও জড়িত একটি বিষয়। দর্শক কোনও অভিনেতার ছবি পছন্দ করবেন কি না, কোনও গান শুনবেন কি না কিংবা কোনও ছবিকে প্রত্যাখ্যান করবেন কি না, সিদ্ধান্তটি তাঁদের নিজেদের হওয়াই কাম্য। অন্যকে নীচে নামিয়ে নিজের জায়গা উঁচু করার কৌশল সাময়িক ভাবে আলোচনার জন্ম দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা বিনোদন জগতের প্রতি দর্শকের আস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Elon Musk Partner Indian Origin | মাস্ক জানালেন তাঁর সঙ্গিনীর শিকড় ভারতে, ‘ইন্ডিয়ান অরিজিন’ পরিচয় ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে



