iGOT Karmayogi, Finance Department digital training | ‘পেপারলেস’ প্রশাসনের পথে বড় পদক্ষেপ নবান্নের! অর্থ দফতরের কর্মীদের এবার ডিজিটাল প্রশিক্ষণ, চাওয়া হল নাম-মোবাইল-ইমেল

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কাগজের ব্যবহার কমিয়ে অনলাইন নির্ভরতা বাড়ানোর প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল। এবার অর্থ দফতরের (Finance Department) কর্মীদেরও ডিজিটাল প্রশিক্ষণ এবং অনলাইন লার্নিং ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ শুরু করল নবান্ন। সেই লক্ষ্যেই অর্থ দফতরের কর্মযোগী সেলের অডিট ব্রাঞ্চের তরফে সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। দফতরের বিভিন্ন গ্রুপ, সেল এবং ব্রাঞ্চে কর্মরত কর্মীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে তাঁদের ‘ইন্টিগ্রেটেড গভর্নমেন্ট অনলাইন ট্রেনিং’ বা আইজিওটি কর্মযোগী (iGOT Karmayogi) প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সরকারি প্রশাসনের কাজকর্মে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো ও দফতরগুলির বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে অনলাইন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে এই উদ্যোগের যোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থ দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি দফতরের কর্মীদের একই ডিজিটাল প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্মে আনা হলে ভবিষ্যতে সরকারি কর্মীদের প্রশিক্ষণ, কোর্স সম্পূর্ণ করার তথ্য এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়গুলি এক জায়গা থেকে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi, Independence Day 2026 : তরুণদের হাতেই বিকশিত ভারতের স্বপ্ন, বছরে ১ কোটি যুবক-যুবতীকে এআই প্রশিক্ষণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

অর্থ দফতরের কর্মযোগী সেলের অডিট ব্রাঞ্চের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে দফতরের অধীনে থাকা বিভিন্ন গ্রুপ ও শাখাকে কর্মীদের তথ্য নির্দিষ্ট ফরম্যাটে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ এবং ‘ডি’ চার ধরনের পদমর্যাদার কর্মীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রত্যেক কর্মীর নামের পাশাপাশি মোবাইল নম্বর এবং ইমেল আইডি চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট গ্রুপ সেল বা ব্রাঞ্চকে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে সেই তথ্য প্রস্তুত করে পাঠাতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তথ্য কাগজে জমা দেওয়ার পরিবর্তে সফ্‌ট কপি অথবা এক্সেল ফরম্যাটে পাঠাতে হবে। নির্দিষ্ট ইমেল ঠিকানায় সেই তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি জারির তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ দফতরের বিভিন্ন শাখাকে দ্রুত কর্মীদের তথ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠাতে হবে। বিষয়টিকে ‘জরুরি ভিত্তিতে’ বিবেচনা করার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই তথ্য সংগ্রহের পিছনে মূল উদ্দেশ্য হল অর্থ দফতরের কর্মীদের আইজিওটি কর্মযোগী মঞ্চে অনবোর্ড করা। সরকারি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য তৈরি এই ধরনের অনলাইন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক কোর্স, শেখার উপকরণ এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রাখা যায়। কর্মীরা নিজেদের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ নিতে পারেন এবং অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে তাঁদের প্রশিক্ষণের অগ্রগতিও নজরে রাখা সম্ভব হয়। প্রশাসনিক মহলের কাছে এই উদ্যোগের তাৎপর্য রয়েছে অন্য একটি কারণেও। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দফতরের নানা কাজের সঙ্গে কাগজের নথি, ফাইল এবং ম্যানুয়াল রেকর্ডের ব্যবহার জড়িয়ে রয়েছে। তথ্য সংরক্ষণ, নথি এক দফতর থেকে অন্য দফতরে পাঠানো, প্রশিক্ষণের হিসাব রাখা কিংবা কর্মীদের তথ্য আপডেট করার ক্ষেত্রে কাগজের উপর নির্ভরতা সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠতে পারে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেই কাজের অনেকটাই দ্রুত করা সম্ভব।

অর্থ দফতরের মতো বড় প্রশাসনিক কাঠামোয় কর্মীর সংখ্যা বিপুল। বিভিন্ন শাখা ও সেলে কর্মরত কর্মীদের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য আলাদা আলাদা ভাবে সংরক্ষণ করা হলে প্রয়োজনের সময়ে তা খুঁজে বের করতে সময় লাগে। একটি অভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কর্মীদের যুক্ত করা হলে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য এক জায়গায় রাখার সুযোগ তৈরি হবে। কোন কর্মী কোন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, কোন কোর্স সম্পূর্ণ করেছেন ও আরও কোন প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে, এই ধরনের তথ্য ব্যবস্থাপনা ভবিষ্যতে সহজ হতে পারে। নবান্নের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরের যে প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে, অর্থ দফতরের এই পদক্ষেপ তারই একটি অংশ। সরকারি কাজকর্মকে ধীরে ধীরে কাগজ নির্ভরতা থেকে অনলাইন ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কর্মীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু নতুন সফ্‌টওয়্যার বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করলেই প্রশাসনিক পরিবর্তন সম্পূর্ণ হয় না। সেই ব্যবস্থায় কাজ করার জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণও প্রয়োজন। অর্থ দফতরের কর্মীদের আইজিওটি কর্মযোগী প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার উদ্যোগ সেই জায়গাটিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে কর্মীদের নাম, মোবাইল নম্বর ও ইমেল আইডি চাওয়ার বিষয়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। অনলাইন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় কর্মীদের ব্যক্তিগত লগইন বা প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত যোগাযোগের জন্য এই তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করাকে গুরুত্ব দিচ্ছে দফতর। তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফরম্যাট মেনে চলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে পরবর্তী সময়ে তথ্য একত্রিত করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা সহজ হয়। শুধু কর্মীদের তথ্য সংগ্রহেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকছে না। বিজ্ঞপ্তির একটি অনুলিপি অর্থ দফতরের ওয়েবসাইটে আপলোড করার জন্য ‘নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর’-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের সিনিয়র পার্সোনাল সেক্রেটারি গ্রেড ওয়ান ও অফিস কপির জন্যও বিজ্ঞপ্তির প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ এই উদ্যোগটি দফতরের প্রশাসনিক কাঠামোর একাধিক স্তরের সঙ্গে যুক্ত।

‘পেপারলেস’ প্রশাসনের ধারণার মূল লক্ষ্য হল সরকারি কাজের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় কাগজের ব্যবহার কমানো ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে কাজের গতি বাড়ানো। নথি সংরক্ষণ থেকে শুরু করে কর্মীদের প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে সময় ও পরিকাঠামোগত খরচ কমানোর সুযোগ থাকে। একই সঙ্গে তথ্য দ্রুত পাওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা পর্যবেক্ষণ করার সুবিধাও তৈরি হয়। অর্থ দফতরের কর্মীদের ক্ষেত্রে অনলাইন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু হলে ভবিষ্যতে দফতরের বিভিন্ন স্তরে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও সহজলভ্য হতে পারে। অফিসের কাজের পাশাপাশি নির্দিষ্ট অনলাইন কোর্স করার সুযোগ থাকলে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার পরিধিও বাড়তে পারে। সরকারি পরিষেবা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়বে, কর্মীদের সেই প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনও তত বাড়বে।

এখন প্রথম ধাপে চলছে তথ্য সংগ্রহ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ দফতরের বিভিন্ন গ্রুপ, সেল ও ব্রাঞ্চকে কর্মীদের তথ্য পাঠাতে হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে কর্মীদের আইজিওটি কর্মযোগী প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পরবর্তী কাজ এগোবে। ফলে আগামী দিনে অর্থ দফতরের কর্মীদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় আরও বেশি অনলাইন নির্ভরতা দেখা যেতে পারে। প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানো, প্রশিক্ষণের তথ্য এক জায়গায় রাখা এবং কর্মীদের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। কাগজের ফাইলের পাশাপাশি ডিজিটাল নথি ও অনলাইন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর ফলে সরকারি দফতরের কাজের ধরনেও ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে পারে। নবান্নের ‘পেপারলেস’ প্রশাসনের লক্ষ্যে অর্থ দফতরের এই নতুন উদ্যোগ সেই পরিবর্তনেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে উঠছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Birsa Harit Gram Yojana | বিরসা হরিত গ্রাম যোজনা: অনাবাদি জমিতে ফলের বাগান, ঝাড়খণ্ডে কৃষকদের আয়ে নতুন দিশা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন