প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : তারকা-ঝলমলে সাজের বদলে ঘরোয়া উৎসবের আবহেই এবার নজর কাড়লেন রশ্মিকা মান্দানা (Rashmika Mandanna)। গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী সাজে নিজের ছবি সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিলেন দক্ষিণী ছবির জনপ্রিয় অভিনেত্রী। শাড়ি, সোনার গয়না আর কপালে ছোট্ট লাল টিপ, সাদামাটা অথচ নজরকাড়া সাজে তাঁকে দেখে অনুরাগীদের একাংশের মন্তব্য, উৎসবের আমেজে যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে অভিনেত্রীর উপস্থিতি। গণেশ চতুর্থী উপলক্ষ্যে নিজের বাড়িতেই উৎসবে সামিল হয়েছিলেন রশ্মিকা। সাজসজ্জা থেকে পুজোর পরিবেশ, বাড়ির প্রতিটি ছবিতেই ধরা পড়েছে পারিবারিক আবহ। তারকাদের উৎসব উদ্যাপন সাধারণত তাঁদের পোশাক, ছবি কিংবা বড় আয়োজনকে ঘিরে আলোচনায় আসে। কিন্তু রশ্মিকার এবারের উদ্যাপনের ছবিগুলিতে ছিল অনেক বেশি ঘরোয়া ছোঁয়া। পরিবারের সঙ্গে ধর্মীয় উৎসব পালনের মুহূর্তই জায়গা করে নিয়েছে তাঁর সমাজমাধ্যমের পাতায়।

গণেশ চতুর্থীর দিন রশ্মিকার পোশাকও আলাদা করে নজর কেড়েছে। পরনে ছিল ঐতিহ্যবাহী শাড়ি। তার সঙ্গে মানানসই সোনার গয়না এবং কপালে ছোট্ট লাল টিপ। সাজে বাড়তি চাকচিক্য না থাকলেও গোটা উপস্থিতিতে ছিল উৎসবের আবহ। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সঙ্গে এই সরল সাজ অভিনেত্রীর অনুরাগীদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। রশ্মিকার সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিগুলিতে তাঁর বাড়ির সাজসজ্জার ঝলকও দেখা যায়। গণেশ চতুর্থী উপলক্ষ্যে ঘর সাজানো হয়েছিল উৎসবের উপযোগী করে। পুজোর পরিবেশ, বাড়ির সাজ এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর মুহূর্ত মিলিয়ে ছবিগুলিতে ব্যক্তিগত জীবনের একটি অন্য দিক তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। পর্দায় যাঁকে নানা চরিত্রে দেখা যায়, উৎসবের দিনে সেই রশ্মিকাকেই দেখা গেল অনেক বেশি ঘরোয়া পরিবেশে।
ছবিগুলি প্রকাশ্যে আসার পরই অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। কেউ তাঁর ঐতিহ্যবাহী সাজের প্রশংসা করেছেন, কেউ আবার গণেশ চতুর্থীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। মন্তব্যের ঘরে বারবার উঠে এসেছে ‘বাপ্পা মোরিয়া’ ধ্বনি। উৎসবের শুভেচ্ছার পাশাপাশি অনুরাগীরা অভিনেত্রীর জন্যও শুভকামনা জানিয়েছেন। রশ্মিকার জনপ্রিয়তা শুধু দক্ষিণ ভারতীয় ছবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গত কয়েক বছরে তিনি হিন্দি ছবিতেও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। ফলে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তও অনুরাগীদের আগ্রহ তৈরি করে। বিশেষ করে উৎসবের দিন অভিনেত্রীর পোশাক বা পারিবারিক উদ্যাপনের ছবি প্রকাশ্যে এলে তা দ্রুত সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গণেশ চতুর্থীর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
রশ্মিকার এবারের গণেশ চতুর্থী উদ্যাপনে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তাঁর সাজের স্বাভাবিকতা। তারকা হিসেবে চাইলেই তিনি জমকালো পোশাক কিংবা ভারী সাজ বেছে নিতে পারতেন। কিন্তু গণেশ চতুর্থীর দিনে ঐতিহ্যবাহী শাড়ি ও সোনার গয়নার সঙ্গে ছোট্ট লাল টিপ বেছে নিয়েছেন তিনি। ফলে গোটা সাজে ভারতীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া আরও জোরালো হয়েছে। কিন্তু, উৎসবকে ঘিরে তারকাদের পোশাক নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহ নতুন নয়। বলিউড ও দক্ষিণী ছবির অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন উৎসবের সাজ প্রায়ই ফ্যাশন আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। রশ্মিকার ক্ষেত্রেও তাঁর গণেশ চতুর্থীর সাজ দৃষ্টি এড়ায়নি। তবে এবার তাঁর সাজের পাশাপাশি বাড়ির পুজোর পরিবেশও সমান ভাবে আলোচনায় এসেছে।
রশ্মিকার ভাগ করে নেওয়া ছবিতে পারিবারিক বিশ্বাসের ছাপও দেখা গিয়েছে। গণেশ চতুর্থী মহারাষ্ট্র-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় আকারে পালিত হলেও বর্তমানে এই উৎসবের জনপ্রিয়তা দেশের নানা প্রান্তেই ছড়িয়েছে। সিনেমা জগতের বহু তারকাই প্রতি বছর বাড়িতে গণেশের আরাধনা করেন। রশ্মিকার উদ্যাপনও সেই তারকা-উৎসবের ধারার সঙ্গে যুক্ত হল। অভিনেত্রীর অনুরাগীদের কাছে তাঁর এই ছবি আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত পর্দায় বা পেশাগত কাজে রশ্মিকার যে চেহারা সামনে আসে, সেখানে ক্যামেরা, পোশাক এবং সাজের আলাদা পরিকল্পনা থাকে। কিন্তু নিজের বাড়ির উৎসবের ছবি অনেক বেশি ব্যক্তিগত। ফলে এমন ছবিতে তারকার ব্যক্তিজীবনের স্বাভাবিক মুহূর্তের কিছুটা আভাস পাওয়া যায়। এছাড়াও, রশ্মিকার ছবিতে পরিবারের উপস্থিতি ও বাড়ির পরিবেশ উৎসবের আবেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গণেশ চতুর্থী শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বহু পরিবারের কাছে একসঙ্গে সময় কাটানোর উপলক্ষও। রশ্মিকার ভাগ করে নেওয়া মুহূর্তগুলিতেও সেই পারিবারিক আবহ ধরা পড়েছে। পুজোর প্রস্তুতি, বাড়ির সাজসজ্জা এবং উৎসবের পোশাক সমস্ত কিছুর মধ্যেই ছিল ঘনিষ্ঠ পারিবারিক পরিবেশ।
সমাজমাধ্যমে রশ্মিকার ছবি প্রকাশের পর তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে যে উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছে, তাতে বোঝা যায় অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনের এমন মুহূর্তগুলিও তাঁদের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। মন্তব্যের ঘরে শুভেচ্ছার পাশাপাশি অনেকে তাঁর ঐতিহ্যবাহী পোশাকের প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ তাঁকে গণেশ চতুর্থীর শুভেচ্ছা জানিয়ে ‘বাপ্পা মোরিয়া’ লিখেছেন। রশ্মিকার কেরিয়ারও এখন এমন একটি পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে দক্ষিণী ছবির পাশাপাশি হিন্দি ছবির দর্শকদের মধ্যেও তাঁর আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়েছে। ‘পুষ্পা’ সিরিজের মাধ্যমে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। জাতীয় স্তরে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠার পরেও উৎসবের দিনে নিজের সংস্কৃতি ও পারিবারিক পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার প্রবণতা অনুরাগীদের কাছে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। এই ছবিগুলিতে রশ্মিকার সাজের আর একটি বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর কপালের ছোট্ট লাল টিপ। শাড়ি ও সোনার গয়নার সঙ্গে এই টিপ গোটা সাজকে আরও ঐতিহ্যবাহী করে তুলেছিল। অতিরিক্ত সাজসজ্জার বদলে কয়েকটি পরিচিত ভারতীয় উপাদানকে সামনে রেখে তৈরি হয়েছিল তাঁর উৎসবের উপস্থিতি। ফলে ছবিগুলি প্রকাশের পর ফ্যাশনপ্রেমীদের মধ্যেও তাঁর সাজ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
উৎসবের দিন তারকাদের সমাজমাধ্যম পোস্ট এখন তাঁদের অনুরাগীদের কাছে এক ধরনের প্রত্যাশিত মুহূর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোন অভিনেতা কী পরলেন, কী ভাবে বাড়ি সাজালেন, পরিবারের সঙ্গে কী ভাবে উৎসব পালন করলেন, এসব নিয়েই তৈরি হয় নানা আলোচনা। রশ্মিকার ক্ষেত্রেও তাঁর গণেশ চতুর্থীর ছবি সেই আগ্রহেরই অংশ। তবে তাঁর পোস্টে পেশাগত প্রচারের বদলে ব্যক্তিগত উৎসবের মুহূর্তই প্রাধান্য পেয়েছে। গণেশ চতুর্থী উপলক্ষ্যে রশ্মিকার এই উপস্থিতি তাই শুধু একটি তারকার উৎসবের ছবি নয়। এর মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সৌন্দর্য, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর আবহ এবং ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রকাশ। অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়াতেও সেই আবেগের প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। রশ্মিকার জনপ্রিয়তা যত বাড়ছে, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এমন ছোট মুহূর্তগুলিও তত বেশি মানুষের সামনে উদ্ভাসিত হচ্ছে। কিন্তু, ক্যামেরার ঝলকানি থেকে দূরে বাড়ির পুজোর পরিবেশে তাঁকে দেখা গেল অন্য এক আবহে। শাড়ির সাজ, সোনার গয়না, লাল টিপ এবং গণেশ চতুর্থীর উৎসব ইত্যাদি মিলিয়ে তাঁর এবারের ছবি হয়ে উঠেছে অনুরাগীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের বিষয়। মন্তব্যের ঘরে শুভেচ্ছার ঢল আর ‘বাপ্পা মোরিয়া’ ধ্বনি বুঝিয়ে দিয়েছে, উৎসবের এই মুহূর্ত দর্শকদের মনেও জায়গা করে নিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : World Spine Day 2025 | বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবস ২০২৫: ৬টি দৈনন্দিন অভ্যাস যা নীরবে আপনার পিঠের ক্ষতি করছে, জানালেন নিউরোসার্জনরা




