সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লী : পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন কত দফায় অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। সূত্রের খবর, গোটা বিষয়টি নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রাপ্যতার উপর। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর বা সিইও (CEO) -এর তরফে এক দফায় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) -এর সদর দফতরে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। সিইও দফতরের সিনিয়র আধিকারিক সংবাদসংস্থা পিটিআইকে (PTI) জানিয়েছেন, ‘ভোট কত দফায় হবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যার উপর। কত কোম্পানি বাহিনী পাওয়া যাবে এবং কত প্রয়োজন, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।’ উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের অভিজ্ঞতা সামনে রেখেই এবার পরিকল্পনা এগোচ্ছে। সে সময় পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল এবং ভোট হয়েছিল সাত দফায়। ভোটপরবর্তী হিংসা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় স্তরে আলোচনা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপট মাথায় রেখে এবার আরও সতর্ক কমিশন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, যদি এক দফায় ভোট করাতে হয়, তবে প্রায় ২০০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন হতে পারে। কমিশনের প্রাথমিক হিসাব বলছে, রাজ্য জুড়ে সমস্ত বুথে বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দিতে গেলে বাহিনীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে হবে। রাজ্য প্রশাসনকে ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংবেদনশীল বুথ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করতে। সিইও দফতরের বক্তব্য, ‘সব জেলা থেকে সংবেদনশীল বুথের তালিকা এলে তবেই দফা নির্ধারণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় বাহিনী সব ভোটকেন্দ্রেই থাকে, তবে যেসব বুথ অতীতে অশান্তির সাক্ষী হয়েছে, সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এদিকে শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বৈঠকে বসছে। সেখানে রাজ্যের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত অগ্রগতি এবং ভোট প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে। রাজ্য পুলিশ ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, নির্বাচনী দায়িত্বে তারা প্রায় ৩৫ হাজার কর্মী দেবে। তবে শুধু রাজ্য পুলিশের উপর নির্ভর করলে হবে না, এমনটাই মত কমিশনের একাংশের।
সাধারণত, সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ছয় মাস আগে সংবেদনশীল বুথ চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়। কিন্তু এ বার এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশন ব্যস্ত থাকায় সেই কাজ কিছুটা দেরিতে শুরু হয়েছে। চার মাস আগে থেকে জেলায় জেলায় নির্দেশিকা পাঠিয়ে বুথভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে সেই তালিকা তৈরির কাজ। কমিশনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় নাকি তিন দফায় ভোটের একটি খসড়া পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে এক দফায় এবং দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আরও দুই দফায় ভোট আয়োজনের ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে এটি এখনও চূড়ান্ত নয়।
অতীতের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে কমিশন বিশেষ নজর রেখেছে সাতটি জেলায়, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, মালদহ এবং বীরভূম। এই জেলাগুলিতে অতীতে ভোট চলাকালীন ও ভোটপরবর্তী সময়ে অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল। ফলে এখানকার বুথ তালিকা ও আইনশৃঙ্খলা রিপোর্ট বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
সপ্তাহখানেক আগে সমস্ত জেলাশাসককে সাপ্তাহিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্ট এখন দিল্লিতে জমা পড়ছে। কমিশন সূত্রে খবর, সংবেদনশীল বুথের তালিকার সঙ্গে এই রিপোর্ট মিলিয়ে দেখা হবে। তার পর কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা চূড়ান্ত করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (Ministry of Home Affairs) -এর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একইভাবে, রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশ। এক দফায় ভোট হলে প্রচার কৌশল ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা ভিন্ন হবে, আর একাধিক দফায় হলে রাজনৈতিক উত্তাপ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত তাই রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই বিষয়টি জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দফা নির্ধারণ এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সমীকরণ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা, সংবেদনশীল বুথের তালিকা এবং আইনশৃঙ্খলা রিপোর্ট, এই তিন স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। দিল্লির বৈঠকেই হয়তো মিলবে পরিষ্কার ইঙ্গিত, এক দফায় শান্তিপূর্ণ ভোট, না কি একাধিক পর্বে গণতন্ত্রের উৎসব।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Assam final voter list | বিশেষ সংশোধনের পর অসমে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, তালিকায় ২.৪৯ কোটি নাম, বাদ পড়লেন ২.৪৩ লক্ষ ভোটার



