India US textile trade deal | বাংলাদেশের মতোই মার্কিন বাজারে ছাড় পাবে ভারতীয় বস্ত্র! চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তির অপেক্ষায় দিল্লী, আশ্বাস পীযূষ গোয়ালের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লী: বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র (United States) যে শুল্ক-ছাড় দিচ্ছে, সেই একই সুবিধা ভারতীয় বস্ত্রশিল্পও পাবে, এমনটাই জানাল কেন্দ্র। দিল্লী (New Delhi) ও ওয়াশিংটন (Washington) -এর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হলেই ভারতীয় পোশাক ও বস্ত্র রফতানিতে নতুন দিগন্ত খুলবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল (Piyush Goyal)। তাঁর কথায়, ‘বাংলাদেশ যা পেয়েছে, বোঝাপড়া সম্পূর্ণ হলেই ভারতও সেই সুবিধা ভোগ করবে।’ উল্লেখ্য, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্ক, মার্কিন শুল্ক নীতি এবং ভারতীয় বস্ত্র রফতানির ভবিষ্যৎ নিয়ে শিল্পমহলে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, তখন কেন্দ্রের এই আশ্বাস তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে, বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক চুক্তির পর ভারতীয় রফতানিকারকদের মধ্যে যে প্রতিযোগিতামূলক চাপ তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi on India US Trade Deal | ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’, দেশের প্রত্যেকেরই লাভ হবে: এনডিএ বৈঠকে ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

সম্প্রতি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য সমঝোতা হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই আলোচনার পর ভারতের উপর আরোপিত মার্কিন শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে। এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকার পৃথক চুক্তি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মার্কিন শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি বিশেষ শর্তসাপেক্ষ সুবিধাও দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক বোঝাপড়া অনুযায়ী, যদি বাংলাদেশ আমেরিকার সুতো ব্যবহার করে পোশাক তৈরি করে, তবে সেই পণ্য মার্কিন বাজারে কম শুল্কে প্রবেশাধিকার পাবে। বর্তমানে বাংলাদেশি বস্ত্র রফতানিতে মোট ৩১ শতাংশ শুল্ক ধার্য রয়েছে, যার মধ্যে আগে থেকে নির্ধারিত ১২ শতাংশ এবং নতুন ১৯ শতাংশ অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু মার্কিন সুতো ব্যবহার করলে ১৯ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক থেকে অব্যাহতি মিলবে, অর্থাৎ কার্যত ১২ শতাংশ শুল্কেই রফতানি সম্ভব হবে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান কী? তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছিল। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পীযূষ গোয়াল বলেন, ‘আমাদের চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তিতে একই রকম বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কোনও ভারতীয় সংস্থা যদি আমেরিকা থেকে সুতো আমদানি করে এবং সেই সুতো দিয়ে তৈরি পোশাক রফতানি করে, তবে তারা শুল্ক-সুবিধা পাবে।’ তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, দিল্লি সমান সুযোগ নিশ্চিত করতেই কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে।

কিন্তু, দেশীয় সুতো উৎপাদকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আমেরিকার সুতো রফতানির পরিমাণ অত্যন্ত সীমিত। তাঁর বক্তব্য, ‘আমেরিকা বছরে প্রায় ৫০ লক্ষ ডলারের সুতো রফতানি করে। অথচ ভারতের বস্ত্র শিল্পের প্রয়োজন প্রায় ৫০০০ কোটি ডলারের সুতো। ফলে দেশীয় উৎপাদনে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।’ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় বস্ত্র শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় তৈরি পোশাক, তুলো ও সুতো-ভিত্তিক পণ্যের অন্যতম বড় আমদানিকারক। কিন্তু উচ্চ শুল্কের কারণে ভারতীয় রফতানিকারকেরা প্রায়শই মূল্য-প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে যদি বাংলাদেশ-সদৃশ শুল্ক-ছাড় কার্যকর হয়, তবে ভারতের রফতানি বৃদ্ধি পেতে পারে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মার্কিন প্রশাসন সরবরাহ শৃঙ্খল (supply chain) বৈচিত্র্য আনতে চাইছে। চীন-নির্ভরতা কমিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য জোরদার করাই তাদের কৌশল। সেই কারণেই ভারত ও বাংলাদেশের মতো উৎপাদনকেন্দ্রিক অর্থনীতির সঙ্গে বিশেষ বাণিজ্যিক বোঝাপড়া গড়ে তোলা হচ্ছে। এদিকে ভারতীয় বস্ত্র রফতানিকারক সংগঠনগুলিও কেন্দ্রের আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়েছে। একজন শিল্পপতি বলেন, ‘আমরা চাই সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ। যদি বাংলাদেশ শুল্কে ছাড় পায় আর ভারত না পায়, তবে বাজারে ভারসাম্য নষ্ট হয়। এখন সরকারের অবস্থান আমাদের আশাবাদী করছে।’ কিন্তু, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কিছুটা অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement) বা সমতুল্য কাঠামো গড়ে উঠলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, উভয় দেশই দ্রুত আলোচনা শেষ করতে আগ্রহী।

ভারতের বস্ত্র শিল্প দেশের রফতানি আয়ের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। লক্ষাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এই খাতের সঙ্গে যুক্ত। গ্রামীণ কর্মসংস্থান, তুলোচাষি ও সুতো উৎপাদকদের জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এই শিল্পের ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির উপর।সার্বিকভাবে দেখলে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় বস্ত্রের জন্য সমান শুল্ক-ছাড় নিশ্চিত করতে পারলে তা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) কর্মসূচির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এখন নজর দিল্লি-ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত বোঝাপড়ার দিকে।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India US tariff reduction 2026 : আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যে করছাড়, কিন্তু জ্বালানি কৌশলে সতর্ক দিল্লি

Sasraya News
Author: Sasraya News