শোভনা মাইতি ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই : দক্ষিণী সুপারস্টার যশ (Yash) -এর বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘টক্সিক: এ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপ্স’ (Toxic: A Fairytale for Grown-Ups) মুক্তির আগেই ফের বিতর্কের কেন্দ্রে। দ্বিতীয় ঝলক প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। রক্তারক্তি, হিংসা, ধূমপান, যৌনতার ইঙ্গিত এবং একধরনের উগ্র পৌরুষ প্রদর্শনের অভিযোগে সরব হয়েছেন একাংশ দর্শক। প্রশ্ন উঠছে ছবিতে নারীর ভূমিকা কি কেবলমাত্র নায়কের শয্যাসঙ্গিনী হয়ে থাকা? নতুন ঝলকে প্রায় সম্পূর্ণ ফ্রেম জুড়ে রয়েছেন যশ। কখনও তাঁকে দেখা যাচ্ছে হিংস্র রূপে, কখনও শত্রুদের বিরুদ্ধে নির্দয় আক্রমণে, আবার কখনও ধোঁয়ার কুণ্ডলীর মধ্যে আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে। কয়েকটি দৃশ্যে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ইঙ্গিত মিললেও সেখানে নারীর উপস্থিতি ক্ষণিকের। বহু দর্শকের বক্তব্য, ‘পুরো ঝলকটাই নায়কের পৌরুষ জাহির করার এক প্রদর্শনী। নারীরা সেখানে প্রেক্ষাপট মাত্র।’
ছবিটি পরিচালনা করছেন গীতু মোহনদাস (Geetu Mohandas)। একজন মহিলা পরিচালক হয়েও কেন এমন ‘ম্যাসকুলিন’ উপস্থাপনা? এই প্রশ্ন উঠেছে বারবার। প্রথম ঝলক প্রকাশের সময়ও একই বিতর্ক দেখা গিয়েছিল। দ্বিতীয় ঝলকের পর সেই বিতর্ক আরও ঘনীভূত। এক নেটাগরিক মন্তব্য করেছেন, ‘নায়ক একদিকে লড়াই করছেন, অন্যদিকে শয্যায় অন্তরঙ্গ। যেন যৌনতা থেকেই শক্তি আহরণ করছেন তিনি। কিন্তু নারীচরিত্র কোথায়? তাঁদের নিজস্ব অবস্থান কি আছে?’ এই ছবিতে একাধিক জনপ্রিয় অভিনেত্রীর উপস্থিতি রয়েছে। নয়নতারা (Nayanthara), কিয়ারা আডবাণী (Kiara Advani), তারা সুতারিয়া -এর (Tara Sutaria) ‘ফার্স্ট লুক’ আগেই প্রকাশ্যে এসেছিল। এছাড়া রয়েছেন হুমা কুরেশি (Huma Qureshi), রুক্মিণী বসন্ত (Rukmini Vasanth) এবং নওয়াজউদ্দীন সিদ্দীকী (Nawazuddin Siddiqui)। কিন্তু সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ঝলকে তাঁদের প্রায় অনুপস্থিতি নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। দর্শকদের একাংশ বলছেন, ‘যদি এত শক্তিশালী নারীচরিত্র থাকে, তবে ঝলকে তাদের উপস্থিতি এত কম কেন?’ পরিচালকের বক্তব্য ভিন্ন। একটি সাক্ষাৎকারে গীতু মোহনদাস জানিয়েছেন, ‘এই গল্পের নারীচরিত্ররা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রেলারে সব কিছু দেখানো সম্ভব নয়। সময়ের সঙ্গে দর্শকরা বুঝতে পারবেন তাঁদের অবস্থান।’ তাঁর দাবি, ছবিটি শুধুই হিংসা বা পৌরুষের প্রদর্শনী নয়, জটিল মানবিক সম্পর্ক ও ক্ষমতার রাজনীতির গল্প।
যশের কেরিয়ারে এই ছবি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘কেজিএফ’ (KGF) সিরিজের বিপুল সাফল্যের পর তাঁর প্রতি দর্শকের প্রত্যাশা তুঙ্গে। সেই জায়গা থেকেই ‘টক্সিক’ নিয়ে আগ্রহও প্রবল। তবে একই সঙ্গে তৈরি হয়েছে আশঙ্কা, আবার কী পর্দায় দেখা যাবে এক অতিরঞ্জিত ‘অলফা মেল’ চরিত্র? সামাজিক মাধ্যমে ‘টক্সিক ম্যাসকুলিনিটি’ শব্দবন্ধও ঘুরপাক খাচ্ছে। চলচ্চিত্র সমালোচকরা অবশ্য মনে করছেন, দক্ষিণী অ্যাকশন ঘরানার ছবিতে দীর্ঘদিন ধরেই হিংসা ও পৌরুষের প্রাধান্য দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দর্শকের রুচি বদলাচ্ছে। নারীচরিত্রের স্বতন্ত্র অবস্থান ও শক্তিশালী উপস্থিতির দাবি বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ‘টক্সিক’ কতটা নতুন কিছু উপস্থাপন করতে পারে, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। নতুন ঝলকের দৃশ্যবিন্যাসে দ্রুত কাট, অন্ধকারাচ্ছন্ন ফ্রেম, রক্তাক্ত সংঘর্ষ এবং মনস্তাত্ত্বিক উত্তেজনার আবহ তৈরি করা হয়েছে। সংগীত ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরও তীব্রতা বাড়িয়েছে। তবে গল্পের আসল দিকটি এখনও আড়ালেই। নির্মাতারা ইচ্ছাকৃতভাবেই কি বিতর্ক উসকে দিয়ে কৌতূহল বাড়াচ্ছেন? এমন প্রশ্নও তুলছেন অনেকে।
ছবির নামেই রয়েছে ‘ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপ্স’। অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকের জন্য এক রূপকথা। কিন্তু সেই রূপকথা কি কেবল রক্ত, প্রতিশোধ ও ক্ষমতার? নাকি এর অন্তরালে রয়েছে সামাজিক বার্তা? পরিচালক ও প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। এখন দেখার, মুক্তির পর ‘টক্সিক’ আদৌ কি বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে শিল্পমূল্য প্রমাণ করতে পারে, নাকি উগ্র পৌরুষ ও নারীর প্রান্তিক উপস্থিতি নিয়েই থেকে যাবে আলোচনায়। আপাতত দ্বিতীয় ঝলকই সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তুলেছে, আর সেই ঝড়ে নামটি ঘুরে ফিরে আসছে, যশ (Yash)।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Toxic teaser controversy, Yash film news | গোরস্থানে যৌনতার ঝলক, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে চাপে যশ! সেন্সর বোর্ডেও নালিশ, বিতর্কে দক্ষিণী সুপারস্টার




