Humayun Kabir, Janata Unnayan Party | হুমায়ুন কবীরের জনতা উন্নয়ন পার্টির রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে, নির্বাচন কমিশনে সিইও দফতরের সুপারিশ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা : রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)-এর রাজনৈতিক দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (Janata Unnayan Party)-এর রেজিস্ট্রেশনের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ পাঠিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, প্রয়োজনীয় নথি, গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক কাঠামো-সংক্রান্ত সব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরেই এই সুপারিশ করা হয়েছে। সব কিছু নিয়মমাফিক থাকলে আগামী পনেরো দিনের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে পারে বলে অনুমান রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari Gyanesh Kumar letter, Mamata Banerjee SIR allegation | এসআইআর বিতর্কে চিঠি-রাজনীতি তুঙ্গে, মমতার অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলেই জ্ঞানেশ কুমারকে পাল্টা চিঠি শুভেন্দুর

এই সুপারিশের ফলে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ এখন রেজিস্ট্রেশনের একেবারে শেষ ধাপে বলে উল্লেখ। কমিশনের অনুমোদন মিললেই দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পাবে এবং তার পরবর্তী পর্যায়ে নির্বাচনী প্রতীকের জন্য আবেদন করতে পারবেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। ফলে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন সমীকরণ তৈরির সম্ভাবনা জোরদার হচ্ছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার খাগরুপাড়া মোড়ে জনসমাবেশ করে নিজের নতুন দলের নাম ঘোষণা করেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। সেদিনই প্রকাশ করেন দলের ইস্তাহার। সেই ঘোষণায় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, রেজিনগর ও বেলডাঙা এই দুই কেন্দ্র থেকেই তিনি প্রার্থী হতে চান। তাঁর কথায়, ‘এই লড়াই কেবল ভোটের জন্য নয়, মানুষের আত্মসম্মান ও উন্নয়নের প্রশ্নে।’ রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘোষণা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধরা হচ্ছে।

হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) অতীতে শাসকদলের টিকিটে জয়ী হলেও পরবর্তীতে তিনি দল থেকে নিলম্বিত হন। সেই প্রেক্ষাপটে নিজের আলাদা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নতুন দলের নামকরণ নিয়ে তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, ‘দলের নামে কংগ্রেস বা তৃণমূল, কোনও শব্দই রাখতে চাই না।’ তাঁর যুক্তি ছিল, ‘মুর্শিদাবাদের মানুষ কংগ্রেসকে সম্পূর্ণ বর্জন করেছে। তৃণমূলকে ছুড়ে ফেলার অপেক্ষায় রয়েছে।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার দল হবে বাংলার আমজনতার দল। সাধারণ মানুষের উন্নয়নের কথাই বলবে এই দল।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, মুর্শিদাবাদ জেলা বরাবরই রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কংগ্রেস, তৃণমূল এবং অন্যান্য শক্তির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (Janata Unnayan Party)-এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ভোটের অঙ্কে নতুন হিসাব তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)-এর ব্যক্তিগত প্রভাব কতটা ভোটে রূপান্তরিত হয়, সেটাই হবে বড় প্রশ্ন।

দলের সম্ভাব্য প্রতীক নিয়েও ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০১৬ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ‘টেবিল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়েছিলেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। সেই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, নতুন দলের প্রতীক হিসেবে ‘টেবিল’ই তাঁর প্রথম পছন্দ। যদি কমিশন সেই প্রতীক অনুমোদন না করে, তবে বিকল্প হিসেবে ‘জোড়া গোলাপ’ চিহ্নের কথা ভেবে রাখা হয়েছে। তাতেও সায় না মিললে অন্য প্রতীকের দিকে নজর দেওয়া হবে বলে ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে। দলের পতাকাতেও রাখা হয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। হলুদ, সবুজ ও সাদা এই তিন রঙের সমন্বয়ে তৈরি পতাকা সাধারণ মানুষের আশা, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও শান্তির প্রতীক হিসেবেই তুলে ধরা হচ্ছে। সংগঠনের দাবি, এই রঙের মেলবন্ধন ‘গ্রামীণ ও শহুরে বাংলার সমন্বিত চিত্র’ বহন করবে।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে নির্বাচন সদনে যে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে, তা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)-এর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, দলীয় গঠনতন্ত্র, সদস্যসংখ্যা, কার্যালয়ের ঠিকানা, আর্থিক নথি ও শপথপত্র যাচাই করা হয়। সব কিছু সন্তোষজনক হলে তবেই রেজিস্ট্রেশন মঞ্জুর করা হয়। সেই প্রক্রিয়ার প্রায় শেষপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ এমনটাই প্রশাসনিক সূত্রের ইঙ্গিত। হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)-এর রাজনৈতিক যাত্রাপথও কম চড়াই-উতরাইয়ের নয়। মুর্শিদাবাদে তাঁর ব্যক্তিগত সংগঠন দক্ষতা ও জনসংযোগের পরিসর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। এবার নিজের দলের ব্যানারে নির্বাচনী ময়দানে নামার প্রস্তুতি সেই অভিজ্ঞতারই সম্প্রসারণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি একাধিকবার বলেছেন, ‘এই দল কোনও ব্যক্তির জন্য নয়, মানুষের অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে।’ তাঁর এই অবস্থান কতটা জনসমর্থন পায়, তা সময়ই বলবে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে যখন রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলি নিজেদের সংগঠন মজবুত করতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ে নতুন দলের সম্ভাব্য রেজিস্ট্রেশন রাজনীতির মঞ্চে আলাদা মাত্রা যোগ করছে। বিশেষত মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগর ও বেলডাঙা কেন্দ্র এখন থেকেই রাজনৈতিক কৌতূহলের কেন্দ্রে। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় এখন ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’। অনুমোদন মিললে প্রতীক বরাদ্দ, প্রার্থী তালিকা ঘোষণা ও সাংগঠনিক সম্প্রসারণ সব নিয়ে দ্রুত গতি পাবে দলীয় কার্যক্রম। রাজ্য তথা মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক সমীকরণে এই নতুন সংযোজন কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তবে একথা স্পষ্ট, হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)-এর এই পদক্ষেপ রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে।

-ফাইল চিত্র
আরও পড়ুন : Humayun Kabir Janata Unnayan Party | জনতা উন্নয়ন পার্টির আত্মপ্রকাশে মুর্শিদাবাদে তৃণমূল শূন্য করার হুঙ্কার হুমায়ুন কবীরের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন