Suvendu Adhikari Gyanesh Kumar letter, Mamata Banerjee SIR allegation | এসআইআর বিতর্কে চিঠি-রাজনীতি তুঙ্গে, মমতার অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলেই জ্ঞানেশ কুমারকে পাল্টা চিঠি শুভেন্দুর

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তাপ বাড়াল এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে চিঠি-যুদ্ধ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) চতুর্থ চিঠি পাঠানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা চিঠি লিখলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘মনগড়া’ বলে উল্লেখ করে শুভেন্দু দাবি করেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এসআইআর প্রক্রিয়াকে লাইনচ্যুত করার চেষ্টা চলছে। তাঁর বক্তব্য, বাংলায় অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এসআইআর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

শুভেন্দুর তিন পাতার চিঠিতে পরিষ্কার করে লেখা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো অভিযোগনামা বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে লেখেন, ‘রাজনৈতিক চাপ ও বিভ্রান্তিকর প্রচার উপেক্ষা করে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা জরুরি।’ উল্লেখ্য, এর আগেও মুখ্যমন্ত্রীর চিঠির পর পরই জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন শুভেন্দু। এ বারও যে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রত্যুত্তর হিসেবেই তিনি লিখছেন, তা চিঠির বিষয়বস্তুতেই স্পষ্ট করেছেন বিরোধী দলনেতা। উল্লেখ্য যে, এর আগে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে এসআইআর শুনানি নিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে নাকি ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই দাবিকে সরাসরি খারিজ করে শুভেন্দু চিঠিতে লেখেন, ‘এসআইআর-এর জন্য এতজনের মৃত্যু হয়েছে, এমন কোনও বিশ্বাসযোগ্য নথি বা তথ্য নেই।’ তিনি আরও যুক্তি দেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে মৃত্যুর পরিসংখ্যান জুড়ে দেওয়া এক ধরনের ভ্রান্ত প্রচার। এই প্রসঙ্গে তিনি করোনাকালীন মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদাহরণ টানেন।

এসআইআর শুনানিতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নোটিস পাঠানো নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী আপত্তি তুলেছিলেন। তাঁর চিঠিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন (Amartya Sen), কবি জয় গোস্বামী (Joy Goswami), ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ শামি (Mohammed Shami) এবং অভিনেতা-সাংসদ দীপক অধিকারীকে (Deepak Adhikari, Dev) নোটিস পাঠানোর নিন্দা করা হয়। মমতার দাবি ছিল, এই ধরনের নোটিস সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করছে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। টাইপ করা চিঠির শেষে কলমে লেখা দু’টি লাইনে তিনি উল্লেখ করেন, ‘যদিও আমি জানি, আপনি উত্তর কিংবা ব্যাখ্যা দেবেন না। তবু আপনাকে সমস্তটা জানানো আমার দায়িত্ব।’ এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু তাঁর চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, ‘আইনের চোখে সবাই সমান।’ তিনি জানান, এসআইআর একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং কোনও নাগরিকের পরিচিতি বা খ্যাতি এই প্রক্রিয়ার বাইরে নয়। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী তালিকা নির্ভুল রাখতে হলে যাচাই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হওয়া প্রয়োজন, আর সেখানেই এসআইআর-এর গুরুত্ব।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এসআইআর ঘিরে এই পত্রঘাত আসলে রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনী লড়াইয়েরই ইঙ্গিত। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী যেখানে ভোটারদের হয়রানি ও প্রশাসনিক বাড়াবাড়ির অভিযোগ তুলছেন, অন্যদিকে বিরোধী শিবির এসআইআর-কে স্বচ্ছ নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসেবে তুলে ধরছে। দুই পক্ষের এই টানাপোড়েনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও অবস্থান নিয়েও স্বাভাবিক ভাবেই নজর বাড়ছে।
উল্লেখ্য, শুভেন্দু তাঁর চিঠির শেষে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে আবেদন জানান, ‘এইসব অন্যপথে চালিত করার কৌশলকে উপেক্ষা করে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ করুন।’ তাঁর দাবি, রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে কমিশন যদি নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকে, তা হলে বাংলায় ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা আরও মজবুত হবে। অন্যদিকে, তৃণমূল সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষকে অহেতুক শুনানিতে ডেকে হয়রানি করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর চিঠির বক্তব্যকে সামনে রেখে শাসকদলের নেতারা বলছেন, গণতন্ত্রে ভোটাধিকার রক্ষার দায়িত্ব শুধু কমিশনের নয়, সরকারেরও। সেই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বিষয়টি কমিশনের নজরে আনছেন। তবে,এসআইআর ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতিতে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতার পরপর চিঠি বিনিময় যে আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক তরজা ডেকে আনবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন এই পরিস্থিতিতে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং এসআইআর প্রক্রিয়া কোন পথে এগোয়।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Indian AI Startups 2026, PM Narendra Modi AI Roundtable | ভারতের AI উদ্ভাবনে স্টার্টআপদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন