শোভনা মাইতি, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লী : দূরপাল্লার ট্রেনযাত্রায় খাবার নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগের অবসান ঘটাতে বড় পদক্ষেপ নিল Indian Railways। রেলযাত্রীদের জন্য চালু হল অত্যাধুনিক ই-প্যান্ট্রি পরিষেবা, যার মাধ্যমে এবার সিটে বসেই অর্ডার করা যাবে পছন্দের গরম খাবার। পরিষেবাটি পরিচালনা করবে Indian Railway Catering and Tourism Corporation (Indian Railway Catering and Tourism Corporation বা IRCTC)। রেলের দাবি, এই ডিজিটাল ফুড বুকিং ব্যবস্থার ফলে ট্রেনে নিম্নমানের বা অতিরিক্ত দামের খাবার কেনার ঝক্কি থেকে মুক্তি পাবেন যাত্রীরা। দূরপাল্লার মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেনে ধাপে ধাপে চালু হচ্ছে এই ই-প্যান্ট্রি পরিষেবা। এতদিন হাতে গোনা কয়েকটি প্রিমিয়াম ট্রেনে সীমাবদ্ধ থাকলেও যাত্রীদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে এবার পরিষেবার পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেল সূত্রে খবর, প্রথম পর্যায়ে ২৫টি ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে পরিষেবা চালু হয়েছিল। সেখান থেকে সাফল্যের ইঙ্গিত মিলতেই বৃহত্তর পরিসরে তা সম্প্রসারণের রূপরেখা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে রেলের একজন আধিকারিক বলেন, ‘যাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরেই ট্রেনে মানসম্মত ও সাশ্রয়ী খাবারের দাবি জানাচ্ছিলেন। ই-প্যান্ট্রি সেই দাবিরই উত্তর। সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্ডার ও ডেলিভারি হওয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।’ তাঁর দাবি, এর ফলে অনিয়ম বা অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার অভিযোগও কমবে। উল্লেখ্য, ই-প্যান্ট্রি মূলত একটি ডিজিটাল ফুড বুকিং সিস্টেম, যা সরাসরি IRCTC -এর টিকিটিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত। যাত্রীরা টিকিট বুক করার সময়ই নিজেদের পছন্দমতো মিল নির্বাচন করতে পারবেন। নিরামিষ, আমিষ, আঞ্চলিক খাবার, এমনকী নির্দিষ্ট ডায়েট মেনুও বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। শুধু টিকিট কাটার সময় নয়, কনফার্ম টিকিট হয়ে যাওয়ার পরেও বুকড টিকিট হিস্ট্রি থেকে খাবার অর্ডার করা যাবে। এমনকী আরএসি (RAC) টিকিটধারীরাও এই সুবিধা পাবেন বলে জানানো হয়েছে রেল সূত্রে।
পাশাপাশি খাবারের মানোন্নয়নেও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। রেলের অনুমোদিত প্যান্ট্রি স্টাফই নির্দিষ্ট স্টেশনে খাবার প্রস্তুত করে যাত্রীর আসনে পৌঁছে দেবেন। প্যাকেজিং, স্বাস্থ্যবিধি ও গুণমানের ওপর নজর রাখতে আলাদা মনিটরিং ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘উচ্চমানের খাবার ও রেল নীর (Rail Neer) পানীয় জল সরবরাহ করা হবে, যাতে যাত্রীরা নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করতে পারেন।’ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই দেশের দীর্ঘতম রুটের ট্রেন Vivek Express-এ পাইলট প্রকল্প হিসেবে ই-প্যান্ট্রি চালু হয়েছে। এই ট্রেনটি উত্তর-পূর্ব ভারতের ডিব্রুগড় থেকে দক্ষিণের কান্যাকুমারী পর্যন্ত দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে। দীর্ঘ যাত্রাপথে খাবার সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ হলেও সেখানে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলে রেল সূত্রে খবর। প্রকল্পটি সফল হলে ধাপে ধাপে আরও বহু দূরপাল্লার ট্রেনে এই পরিষেবা চালু করা হবে।
কীভাবে অর্ডার করবেন?*** প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ। প্রথমে IRCTC-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে লগ ইন করতে হবে। টিকিট বুকিংয়ের সময় ই-প্যান্ট্রি অপশন নির্বাচন করে মেনু থেকে খাবার বেছে নেওয়া যাবে। পেমেন্ট সম্পূর্ণ অনলাইনে হওয়ায় নগদ লেনদেনের প্রয়োজন নেই। টিকিট ইতিমধ্যে কাটা থাকলে ‘বুকড টিকিট হিস্ট্রি’ থেকে সংশ্লিষ্ট যাত্রার পাশে ই-প্যান্ট্রি অপশন সিলেক্ট করে খাবার অর্ডার করা যাবে। নির্দিষ্ট স্টেশনে ট্রেন পৌঁছলে অনুমোদিত কর্মী যাত্রীর সিট নম্বর অনুযায়ী খাবার সরাসরি পৌঁছে দেবেন। রেল কর্তৃপক্ষের মতে, এই পদক্ষেপ যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি ডিজিটাল ইন্ডিয়া উদ্যোগের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। সম্পূর্ণ অনলাইন প্রক্রিয়ার ফলে অর্ডার ট্র্যাকিং, বিলিং এবং অভিযোগ নিষ্পত্তিও সহজ হবে। ভবিষ্যতে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও পরিষেবাটি আরও সহজলভ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ট্রেনযাত্রায় খাবার নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। অতিরিক্ত দাম, নিম্নমান, অপর্যাপ্ত সরবরাহ, এসব মিলিয়ে যাত্রীদের অসন্তোষ দীর্ঘদিনের। ই-প্যান্ট্রি পরিষেবা সেই সমস্যার কাঠামোগত সমাধান দিতে পারে। কারণ এতে অনুমোদিত বিক্রেতারাই নির্দিষ্ট অর্ডার অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করবেন এবং প্রতিটি লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড থাকবে। যাত্রীদের একাংশ ইতিমধ্যেই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। একজন নিয়মিত দূরপাল্লার যাত্রী বলেন, ‘ট্রেনে ভাল খাবার পাওয়া কঠিন। যদি সত্যিই সিটে বসেই পছন্দের গরম খাবার পাওয়া যায়, তা হলে ভ্রমণ অনেক স্বস্তিদায়ক হবে।’ তবে পরিষেবার ধারাবাহিক মান বজায় রাখাই এখন রেলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। উল্লেখ্য, ই-প্যান্ট্রি পরিষেবা ভারতীয় রেলের যাত্রীসেবায় এক নতুন অধ্যায় সূচনা করতে চলেছে। সাশ্রয়ী দামে মানসম্মত খাবার সিটে পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ সফল হলে ট্রেনভ্রমণের অভিজ্ঞতাই বদলে যেতে পারে।
ছবি: প্রতীকী ও সংগৃহীত।
আরও পড়ুন : First woman TTE Darjeeling Toy Train, Sarita Yolmo Darjeeling Himalayan Railway | ১৪৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম মহিলা টিটিই! দার্জিলিং হিমালয়ান রেলে গোর্খা-কন্যা সরিতা ইয়োলমোর নজির, গর্বিত পাহাড়


