সাশ্রয় নিউজ ★ গুয়াহাটি: উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন যাত্রায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হল। রেল যোগাযোগকে আরও শক্তিশালী করে গোটা অঞ্চলের আর্থসামাজিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের সূচনা করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw)। মঙ্গলবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে অসমের গুয়াহাটি রেলস্টেশনে আধুনিক ‘ব্লেন্ডেড হসপিটালিটি সার্ভিস’ -এর উদ্বোধনের পাশাপাশি সাইরাং-শিলচর নতুন যাত্রীবাহী ট্রেনের পতাকা নেড়ে যাত্রা শুরু করান তিনি। এই উদ্যোগকে উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পর্যটন সম্ভাবনার ক্ষেত্রে এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা (Lalduhoma), শিলচর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য (Parimal Suklabaidya), রাজ্যসভার সাংসদ কানাদ পুরকায়স্থ (Kanad Purkayastha) সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রেল আধিকারিকরা। বক্তৃতায় অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, ‘উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন আমাদের সরকারের অগ্রাধিকার। আধুনিক রেল পরিষেবা ও উন্নত যাত্রীসুবিধা এই অঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন এবং সামাজিক সংযোগকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।’
গুয়াহাটি রেলস্টেশনে চালু হওয়া ব্লেন্ডেড হসপিটালিটি সার্ভিস মূলত যাত্রীদের অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। আধুনিক এই পরিষেবার মাধ্যমে স্টেশনের ভেতরে খাবার, বিশ্রাম, পরিচ্ছন্নতা ও যাত্রী সহায়ক পরিষেবায় এক নতুন মানদণ্ড তৈরি হবে বলে রেল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত গুয়াহাটি স্টেশনে এই ধরনের পরিষেবা চালু হওয়ায় পর্যটক ও দূরপাল্লার যাত্রীদের সুবিধা বহুগুণ বাড়বে। এদিনের আরেকটি বড় ঘোষণা ছিল সাইরাং-শিলচর যাত্রীবাহী ট্রেনের সূচনা। এই ট্রেন পরিষেবা সরাসরি মিজোরামের রাজধানী সাইরাংকে অসমের বরাক উপত্যকার গুরুত্বপূর্ণ শহর শিলচরের সঙ্গে যুক্ত করবে। এতদিন এই দুই অঞ্চলের মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ না থাকায় যাত্রীদের দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হত। নতুন ট্রেন চালু হওয়ায় সেই সমস্যার অবসান ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে। রেল আধিকারিকদের মতে, এই রুট চালু হওয়ায় মিজোরাম ও অসমের মধ্যে আঞ্চলিক সংযোগ আরও মজবুত হবে।
বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী, দৈনিক যাত্রী এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে যাতায়াতকারী রোগীদের জন্য এই ট্রেন পরিষেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। নিরাপদ, দ্রুত এবং আরামদায়ক যাত্রার সুযোগ পাওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘এই ট্রেন পরিষেবা মিজোরামের মানুষের বহুদিনের দাবি ছিল। আজ তা বাস্তবায়িত হওয়ায় রাজ্যের উন্নয়ন ও মানুষের যোগাযোগে এক নতুন দিগন্ত খুলে গেল।’ উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন পরিকল্পনায় রেল যোগাযোগের ভূমিকা যে ক্রমশ বাড়ছে, এই উদ্যোগ তারই প্রমাণ। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের মূল স্রোতের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য একের পর এক পরিকাঠামোগত প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। নতুন রেললাইন, আধুনিক স্টেশন, উন্নত যাত্রীসুবিধা- সব মিলিয়ে এই অঞ্চলকে বিনিয়োগ ও পর্যটনের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তোলাই লক্ষ্য।
পরিমল শুক্লবৈদ্য বলেন, ‘বরাক উপত্যকার সঙ্গে মিজোরামের সরাসরি রেল যোগাযোগ শুধু যাত্রী পরিষেবার ক্ষেত্রেই নয়, বাণিজ্য ও অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনবে।’ তাঁর মতে, কৃষিপণ্য, হস্তশিল্প এবং স্থানীয় শিল্পের পণ্য পরিবহণ সহজ হওয়ায় আঞ্চলিক বাজার সম্প্রসারিত হবে। রেল দপ্তর সূত্রে খবর, ভবিষ্যতে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির সঙ্গেও এই ধরনের সংযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্টেশনগুলিকে আধুনিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে হসপিটালিটি, ডিজিটাল পরিষেবা ও যাত্রীবান্ধব পরিকাঠামোয় জোর দেওয়া হচ্ছে। গুয়াহাটি স্টেশনে ব্লেন্ডেড হসপিটালিটি সার্ভিস সেই পরিকল্পনারই একটি অংশ।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই উদ্যোগগুলি শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করবে, এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সামগ্রিক উন্নয়নে গতি আনবে। পর্যটন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক সংযোগ মজবুত হওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা অনেকটাই কমবে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপ উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের কাছে উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Ashwini Vaishnaw Vande Bharat | নতুন দিল্লি স্টেশনে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন পরিদর্শন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের




