Elon Musk Moon city 5 years, when will humans live on Moon | ‘৫-৭ বছরের মধ্যেই চাঁদে শহর!’ মানুষের স্থায়ী বসবাস কবে, নতুন সময়সীমা জানালেন ইলন মাস্ক

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ওয়াশিংটন: পৃথিবীর গণ্ডি পেরিয়ে মানবসভ্যতার পরবর্তী ঠিকানা কোথায়? বহু বছর ধরেই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে বিজ্ঞান দুনিয়া। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রে বারবার উঠে আসছে একটিই নাম ইলন মাস্ক (Elon Musk)। স্পেস প্রযুক্তি সংস্থা স্পেসএক্স (SpaceX) -এর কর্ণধার এবার ফের জানালেন চাঁদে শহর গড়ার সময়সীমা ও মানুষের স্থায়ী বসবাস নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা। তাঁর বক্তব্য, মঙ্গলগ্রহ নয়, আপাতত ‘মুন সিটি’-ই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। মাস্কের মতে, আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যেই চাঁদের মাটিতে আবাসন নির্মাণের কাজ শুরু হতে পারে। ধাপে ধাপে বাড়ি তৈরি করে সেখানে মাস্ক একটি পূর্ণাঙ্গ শহর গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। শুধু তা-ই নয়, তাঁর ধারণা, আগামী কুড়ি বছরের মধ্যে মানুষ চাঁদে স্থায়ীভাবে বসবাসও শুরু করতে পারবেন।

আরও পড়ুন : Indian Talent in USA, Elon Musk Immigration Comment | আমেরিকার উন্নয়নে ভারতীয়দের বিশাল অবদান : অভিবাসন নিয়ে ইলন মাস্কের মন্তব্য আলোচনায়

ইলন মাস্ক বলেন, ‘মানবজাতির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে হলে পৃথিবীর বাইরে বিকল্প আবাস গড়ে তোলা জরুরি।’ বহুবারই তিনি বলেছেন, এক গ্রহে সীমাবদ্ধ থাকা সভ্যতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, জলবায়ু পরিবর্তন বা অন্য কোনও বৈশ্বিক সংকট মানবসভ্যতাকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে। তাই মহাকাশে বিস্তারই দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তার চাবিকাঠি বলে মনে করেন ইলন মাস্ক। মঙ্গলগ্রহ নিয়ে তাঁর আগ্রহ পুরনো। লাল গ্রহে স্বনির্ভর শহর গড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে স্পেসএক্স-এর। তবে বাস্তবতা বিচার করলে চাঁদই বেশি সুবিধাজনক এমনটাই মত মাস্কের। কারণ, মঙ্গলগ্রহে যেতে পৃথিবী থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জানালা থাকে। প্রায় প্রতি ২৬ মাস অন্তর পৃথিবী ও মঙ্গল এক সরলরেখায় অবস্থান করে, তখনই উৎক্ষেপণের আদর্শ সময়। যাত্রাপথেও লাগে প্রায় ছ’মাস। ফলে যাতায়াত ও রসদ সরবরাহ দু’টোই জটিল ও সময়সাপেক্ষ।

অন্যদিকে, চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ এবং দূরত্ব তুলনামূলক কম। আধুনিক প্রযুক্তিতে সেখানে পৌঁছতে সময় লাগে মাত্র দুই দিন। নির্দিষ্ট কক্ষপথের জটিলতা তুলনামূলক কম হওয়ায় প্রয়োজনে দ্রুত মিশন পাঠানো সম্ভব। এই সুবিধাগুলিই চাঁদকে আপাতত ‘প্রথম লক্ষ্য’ করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি ইলন মাস্কের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে স্বয়ংক্রিয় কার্গো মিশনের মাধ্যমে নির্মাণ সামগ্রী ও রোবোটিক প্রযুক্তি পাঠানো হবে। এরপর ধীরে ধীরে মানবসহ মিশন বাড়বে। আবাসন, শক্তি উৎপাদন, অক্সিজেন ও জল পুনর্ব্যবস্থাপনা, আসলে একটি টেকসই পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। তাঁর কথায়, ‘চাঁদে টেকসই বসতি গড়ে তুলতে পারলে সেটাই হবে মঙ্গল অভিযানের সেরা প্রস্তুতি।’

চাঁদে শহর গড়ার ভাবনা নতুন না। বিভিন্ন মহাকাশ সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চালাচ্ছে। তবে বেসরকারি উদ্যোগে এত স্পষ্ট সময়সীমা খুব কমই শোনা গেছে। মাস্কের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ঘিরে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞানমহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দ্রুত হচ্ছে, তাই অসম্ভব নয়। আবার কেউ সতর্ক করছেন চাঁদের প্রতিকূল পরিবেশ, চরম তাপমাত্রা ও বিকিরণ বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু মাস্ক আশাবাদী। তাঁর মতে, প্রযুক্তির গতি এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে আগামী এক-দুই দশকের মধ্যেই বহির্জাগতিক বসতি বাস্তব রূপ নিতে পারে। ‘এটা সায়েন্স ফিকশন নয়, ভবিষ্যতের বাস্তবতা’ এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন ইলন মাস্ক। চাঁদে বসতি গড়ে উঠলে তার প্রভাব শুধু বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রেই নয়, অর্থনীতি ও রাজনীতিতেও পড়তে পারে। মহাকাশ সম্পদের ব্যবহার, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও মালিকানার প্রশ্ন নতুন করে সামনে আসবে। একই সঙ্গে মানবসভ্যতার ইতিহাসে শুরু হবে নতুন কিছু।

ইলন মাস্ক মনে করছেন, মঙ্গলগ্রহের স্বপ্ন তিনি ছাড়ছেন না। তবে সেখানে স্থায়ী বসতি গড়তে সময় লাগবে বেশি। দূরত্ব, জ্বালানি ব্যয় ও যোগাযোগের বিলম্ব সব মিলিয়ে লাল গ্রহ এখনও চ্যালেঞ্জিং। তাই ধাপে ধাপে এগোনোর কৌশলই নিচ্ছেন তিনি, প্রথমে চাঁদ, তারপর মঙ্গল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আগামী দশক মহাকাশ গবেষণার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক নির্মাণ পদ্ধতি সব নিয়ে চাঁদে শহর গড়ার স্বপ্ন আর কল্পকাহিনি নয়। প্রশ্ন কেবল সময়ের। উল্লেখ্য, মানুষ কবে চাঁদে স্থায়ীভাবে থাকবে? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও নিশ্চিত নয়। তবে ইলন মাস্কের সময়সীমা যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে আগামী কুড়ি বছরের মধ্যেই মানবসভ্যতার মানচিত্রে যুক্ত হতে পারে একটি নতুন শহর, পৃথিবীর বাইরে, চাঁদের বুকে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Elon Musk Partner Indian Origin | মাস্ক জানালেন তাঁর সঙ্গিনীর শিকড় ভারতে, ‘ইন্ডিয়ান অরিজিন’ পরিচয় ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন