প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : হলিউড ও বলিউডের দুই ভুবনের সেতুবন্ধন বলা হয় যাঁদের সম্পর্ককে, সেই নিক জোনাস (Nick Jonas) ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া (Priyanka Chopra) বরাবরই চর্চার কেন্দ্রে থাকেন। তাঁদের দাম্পত্য জীবনের উষ্ণতা, পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্ব অনুরাগীদের কাছে আলাদা করে নজর কেড়েছে। কখনও নিকের কনসার্টে দর্শকাসনে দাঁড়িয়ে প্রিয়াঙ্কার উদ্দাম নাচ, আবার কখনও প্রিয়াঙ্কার ফোটোশুটের সময় নিকের ক্যামেরার লেন্সে বন্দী স্ত্রীর মুহূর্ত, এই সব ছোট ছোট মুহূর্তই তাঁদের সম্পর্কের রসায়নকে আরও দৃঢ় করেছে। সেই সম্পর্কের ভিতর থেকেই সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিক জোনাস জানালেন, একজন ‘ভাল স্বামী’ হতে গেলে ঠিক কোন গুণগুলি থাকা জরুরি বলে তিনি মনে করেন। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিককে প্রশ্ন করা হয়, কোন বৈশিষ্ট্যগুলি তাঁকে একজন ভাল স্বামী হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। উত্তরে নিক স্পষ্ট বলেন, ‘আমার কাছে একজন ভাল স্বামী হওয়ার অর্থ হল নির্ভরযোগ্য হওয়া এবং বিশ্বস্ত থাকা।’ তাঁর কথায়, দাম্পত্য মানে শুধু ভালবাসা নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি। প্রিয়াঙ্কার প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ এবং সম্মানই যে এই সম্পর্কের ভিত্তি, তা নিকের কথায় বারবার উঠে এসেছে।

দাম্পত্য জীবনের পাশাপাশি বাবা হিসেবেও নিক নিজেকে কী ভাবে দেখেন, সে বিষয়েও অকপট তিনি। নিক ও প্রিয়াঙ্কার কন্যা মালতি মেরি (Malti Marie) তাঁদের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। প্রিয়াঙ্কা কাজের সূত্রে ভারতে এলে আমেরিকায় মেয়ের দেখভালের দায়িত্ব অনেক সময়ই নিকের কাঁধে থাকে। প্রিয়াঙ্কার মতে, সেই দায়িত্ব নিক অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামলান। এই প্রসঙ্গে নিক বলেন, ‘আমি আর প্রিয়াঙ্কা একে অপরের সঙ্গে কেমন আচরণ করি, তা আমাদের মেয়ে প্রতিদিন দেখছে। আমরা কী ভাবে কথা বলি, কী ভাবে একে অপরকে সম্মান করি, সব কিছুই ওর চোখে পড়ে।’
নিকের বিশ্বাস, সন্তানের সামনে বাবা-মায়ের আচরণই ভবিষ্যতে তার সম্পর্কবোধ গড়ে তোলে। তিনি বলেন, ‘আমি চাই, এক দিন মালতি এমন কাউকে খুঁজে পাক, যে ওকে সত্যিই খুশি রাখবে। আমি আশা করি, মনের মানুষ বেছে নেওয়ার সময় ও মনে রাখবে, আমি প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে কেমন আচরণ করি।’ নিকের মতে, স্ত্রীকে নিরাপদ ও সুখী রাখা একজন স্বামীর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। এই বক্তব্যের মধ্যেই ফুটে উঠেছে নিক ও প্রিয়াঙ্কার সম্পর্কের গভীরতা। বয়সের ব্যবধান, সংস্কৃতিগত পার্থক্য কিংবা দুই ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির চাপ, কোনও কিছুই তাঁদের সম্পর্ককে দুর্বল করতে পারেনি। উল্লেখ্য, নিক ও প্রিয়াঙ্কার বয়সের ফারাক প্রায় ১১ বছর। তবু প্রেমে পড়ার পর এই বিষয়টি কখনও তাঁদের কাছে অন্তরায় হয়ে ওঠেনি। একইভাবে নিক বারবার জানিয়েছেন, প্রিয়াঙ্কার ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং জীবনদর্শনই তাঁকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার জীবনের পথচলাও কম চমকপ্রদ নয়। এক সময় হিন্দি ছবির দুনিয়ায় নিজের শক্ত জায়গা তৈরি করার পর তিনি সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে পাড়ি দেন হলিউডে। সেখানেই তাঁর সঙ্গে প্রথম আলাপ নিক জোনাসের। প্রথম পরিচয়ের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দু’জনের বন্ধুত্ব গভীর সম্পর্কে বদলে যায়। নিক একাধিক বার জানিয়েছেন, মাত্র তিন মাসের আলাপেই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন, প্রিয়াঙ্কাই তাঁর জীবনের সঙ্গী হতে চলেছেন। সেই সিদ্ধান্তেই তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেন। নিকের মতে, একজন ভাল স্বামী হতে গেলে অহংকার ছেড়ে দিতে হয়। সম্পর্কের মধ্যে সমান অংশীদারত্বই সবচেয়ে জরুরি। তিনি বিশ্বাস করেন, দাম্পত্য মানে একে অপরকে জায়গা দেওয়া, একে অপরের স্বপ্নকে সম্মান করা। প্রিয়াঙ্কা যেমন নিজের কেরিয়ারে স্বাধীন, তেমনই নিকও তাঁর সঙ্গীতজগতের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু ব্যস্ততার মাঝেও একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের সম্পর্কের আসল শক্তি।

সমাজমাধ্যমে নিক ও প্রিয়াঙ্কার উপস্থিতি নিয়েও নানা আলোচনা হয়। অনেকে মনে করেন, তাঁরা খুব বেশি ব্যক্তিগত মুহূর্ত ভাগ করে নেন। কিন্তু নিকের মতে, এই ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেও রয়েছে সচেতনতা। তিনি বলেন, তাঁদের সম্পর্কের সবটা নয়, বরং কিছু সুখের মুহূর্তই তাঁরা ভাগ করেন, যাতে মানুষ ভালবাসার ইতিবাচক দিকটা দেখতে পায়। প্রসঙ্গত নিক জোনাসের বক্তব্যে পরিষ্কার যে, একজন ভাল স্বামী হওয়ার জন্য বড় কোনও সূত্রের দরকার নেই। নির্ভরযোগ্যতা, বিশ্বস্ততা, সম্মান এবং পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতাই তাঁর কাছে দাম্পত্য জীবনের মূল মন্ত্র। প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সেই মন্ত্রেরই বাস্তব উদাহরণ বলে মনে করছেন অনুরাগীদের একাংশ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Priyanka Chopra Nick Jonas daughter | ‘মাত্র ৭৬৬ গ্রাম ওজন, সারা শরীর বেগনি’: প্রিম্যাচিয়োর জন্ম থেকে হাসপাতালের ১০০ দিন, মালতী মেরির জন্য কীভাবে নাজেহাল হয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা-নিক




