প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : দেখতে দেখতে চার বছরে পা দিল প্রিয়াঙ্কা চোপড়া (Priyanka Chopra) ও নিক জোনাসের (Nick Jonas) কন্যা মালতী মেরি চোপড়া জোনাস (Malti Marie Chopra Jonas)। সোশ্যাল মিডিয়ায় তারকাদম্পতি মাঝেমধ্যেই ছোট্ট মালতীর নানা মুহূর্ত অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। তবে সেই হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক ভয়ংকর কাহিনি, যা আজও ভাবলে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন নিক জোনাস। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে মেয়ের জন্মকালীন অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, কীভাবে প্রিম্যাচিয়োর জন্মের পরে টানা তিন মাস হাসপাতালেই কাটাতে হয়েছিল তাঁদের। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে সারোগেসির মাধ্যমে মালতীর জন্ম হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই সে পৃথিবীর আলো দেখে। নিক জোনাসের কথায়, ‘আমরা ভেবেছিলাম এপ্রিলে সন্তান আসবে। হঠাৎ ফোন আসে-জানানো হয়, খুব তাড়াতাড়ি শিশু জন্মাতে চলেছে। সেই মুহূর্তে আমরা কেউই মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম না।’ এই অপ্রস্তুত অবস্থার মধ্যেই হাসপাতালের দিকে ছুটে যান প্রিয়াঙ্কা ও নিক।

জন্মের পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। নিক স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেন, ‘হাসপাতালে গিয়ে দেখি ও ইতিমধ্যেই ভূমিষ্ঠ হয়েছে। মাত্র ৭৬৬ গ্রাম ওজন ছিল। সারা শরীর বেগনি রঙের হয়ে গিয়েছিল।’ এই বর্ণনা শুনে স্পষ্ট, কতটা সংকটজনক অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল সদ্যোজাতকে। প্রিম্যাচিয়োর শিশুদের ক্ষেত্রে শ্বাসপ্রশ্বাস, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে প্রবল, আর মালতীর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। জন্মের পরপরই মালতীকে রাখা হয় ‘ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট’-এ। প্রায় ১০০ দিন ধরে সে সেখানে চিকিৎসাধীন ছিল। নিক জানান, সেই সময়টা তাঁদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়। ‘আমি আর আমার স্ত্রী টানা তিন মাস হাসপাতালে থাকতাম। আমরা ১২ ঘণ্টা করে পালা করে মেয়ের পাশে থাকতাম। সেই হাসপাতালের গন্ধ আজও আমার নাকে লেগে আছে।’ এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে একজন বাবার অসহায়তা, ভয় আর আশা, সব মিলিয়ে তীব্র আবেগ। এই পুরো সময়টা আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল করোনা অতিমারির কারণে। কোভিডের বিধিনিষেধ, সীমিত যাতায়াত, স্বাস্থ্যঝুঁকি সব নিয়ে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত চাপের। নিকের কথায়, ‘মেয়ের জন্য আমরা সারাক্ষণ উদ্বিগ্ন থাকতাম। প্রতিদিন মনে হতো, আজ বুঝি কিছু একটা খারাপ খবর শুনতে হবে।’ তবু চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা আর বাবা-মায়ের অদম্য মানসিক শক্তিতে ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে এগোয় মালতী।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বরাবরই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সংযত।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথমবার প্রকাশ্যে কন্যাসন্তানের কথা জানান তিনি। যদিও মালতীর মুখ ইতিমধ্যেই নেটদুনিয়ায় দেখা গিয়েছে, তবু প্রিয়াঙ্কা ও নিক আজও মেয়ের মুখ পুরোপুরি প্রকাশ্যে আনতে চান না। তাঁদের মতে, সন্তানের ব্যক্তিগত পরিসর রক্ষা করাই বাবা-মা হিসেবে তাঁদের দায়িত্ব।হলিউড ও বলিউড, দু’দুনিয়ার জনপ্রিয় তারকা হয়েও এই দম্পতির জীবনে মালতীর জন্ম এক গভীর মানবিক গল্প হয়ে উঠেছে। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া (Priyanka Chopra) যেমন আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের জায়গা শক্ত করেছেন, তেমনই নিক জোনাস (Nick Jonas) বিশ্বসংগীতের পরিচিত নাম। কিন্তু সেই সব সাফল্যের মাঝেও তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াই ছিল মেয়ের জীবন বাঁচানোর লড়াই।

বর্তমানে মালতী মেরি সুস্থ, প্রাণবন্ত এক শিশু। তার হাসি, খুনসুটি আর ছোট ছোট মুহূর্তেই যেন অতীতের সব যন্ত্রণা ভুলে যান প্রিয়াঙ্কা ও নিক। তবু নিকের স্বীকারোক্তি মনে করিয়ে দেয়, তারকাদের জীবনও রঙিন আলোর আড়ালে কতটা বাস্তব, কতটা কঠিন হতে পারে। মালতীর প্রিম্যাচিয়োর জন্মের সেই ১০০ দিন শুধু এক তারকা পরিবারের গল্প নয়, বরং বাবা-মায়ের ভালবাসা, ধৈর্য ও লড়াইয়ের এক অনন্য দলিল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Priyanka Chopra brunch recipe | দেরিতে ঘুম ভাঙলে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার পছন্দ ‘ব্রাঞ্চ’! ঘরোয়া ওমলেট আর বাটার টোস্টে কী ভাবে রাখেন ফিটনেস ও স্বাদের ভারসাম্য




