সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, নতুন দিল্লি : বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন প্রায় শেষ। আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয়ে যাচ্ছে ক্রিকেটের মহাযুদ্ধ। কিন্তু উত্তেজনার শীর্ষে পৌঁছেও অনিশ্চয়তার মেঘ কাটছে না ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে। ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ হবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটমহলে জল্পনা অব্যাহত। পাকিস্তান সরকারের তরফে ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তবে এই সমস্ত টানাপড়েনের মাঝেও একেবারে স্পষ্ট অবস্থান নিল ভারতীয় শিবির। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) জানিয়ে দিলেন, ভারত সূচী অনুযায়ীই এগোচ্ছে, কলম্বোর টিকিট বুক করা আছে, দল মাঠে নামার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রসঙ্গত, বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিন সব দেশের অধিনায়কদের নিয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে আইসিসি (ICC)। সেখানেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে সূর্যকুমার কোনও রাখঢাক না রেখেই নিজের বক্তব্য ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার। আমরা কখনও বলিনি যে খেলব না। অন্য দিক থেকেই বলা হয়েছে, তারা খেলবে না। আইসিসির সূচী অনুযায়ী আমাদের কলম্বোর ফ্লাইট বুক করা আছে। আমরা যাচ্ছি। বাকিটা সেখানে গিয়ে দেখা যাবে।’ অধিনায়কের এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে যায়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা কূটনৈতিক টানাপড়েন ভারতীয় দলের মানসিক প্রস্তুতিতে কোনও প্রভাব ফেলেনি।
ভারতীয় শিবিরের অন্দরে এই মুহূর্তে একটাই লক্ষ্য, বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স তুলে ধরা। পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে আলোচনা থাকলেও, গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) -এর কোচিংয়ে দল যে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে, তা সূর্যর কথায় পরিষ্কার। তাঁর মতে, ক্রিকেটার হিসেবে তাঁদের দায়িত্ব আইসিসির দেওয়া সূচী মেনে মাঠে নামা এবং নিজের সেরাটা দেওয়া। কে খেলবে আর কে খেলবে না, তা বোর্ড বা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। অন্যদিকে, পাকিস্তানের বয়কট সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের পক্ষে কতটা ইতিবাচক, এই প্রশ্নে সূর্যকুমার সংযত ভাষায় নিজের মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই। এর আগেও এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিকবার খেলেছে ভারত এবং প্রতিবারই মাঠে নামার সময় কোনও দ্বিধা ছিল না। সূর্যর কথায়, ‘আমাদের ১৫ তারিখ খেলতে বলা হয়েছে। সুযোগ পেলে আবার খেলব।’ এই বক্তব্যে বোঝা যায়, ভারতীয় দল প্রতিপক্ষের পরিচয় নয়, ম্যাচকেই গুরুত্ব দিচ্ছে।
একই সঙ্গে পাকিস্তান সরকারের অবস্থান নিয়েও সহানুভূতির সুর শোনা যায় ভারত অধিনায়কের গলায়। সূর্যকুমার বলেন, ‘ওদের জন্যও পরিস্থিতি সহজ নয়। সরকারের তরফ থেকে নির্দেশ এসেছে। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্রিকেটারদের কিছু করার নেই।’ এই মন্তব্যে স্পষ্ট, ভারতীয় শিবির বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং না দিয়ে পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখছে। পাকিস্তান দলের পক্ষ থেকেও একই ধরনের সুর শোনা গিয়েছে। পাক ক্রিকেটার সালমান আলি আগা (Salman Ali Agha) জানিয়েছেন, ‘ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। সরকার যা বলবে, আমরা সেটাই করব।’ এমনকী ভবিষ্যতে সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, সেই ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এই বক্তব্য বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলির উপরেও প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, রবিবার পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে মাঠে নামবে না পাকিস্তান দল। তবে কেন এই সিদ্ধান্ত, তার পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ক্রিকেটকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা উচিত ছিল। আবার কেউ কেউ বলছেন, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বাস্তবতায় এই সিদ্ধান্ত অনিবার্য। এই টানাপড়েনের মাঝেও ভারতীয় শিবিরে আত্মবিশ্বাসের কোনও ঘাটতি নেই। দল জানে, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রতিটি ম্যাচই সমান গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান ম্যাচ না হলে হয়তো দর্শকদের আবেগে আঘাত লাগবে, কিন্তু পয়েন্ট টেবিলের হিসাব এবং ট্রফির লক্ষ্যে ভারত যে পিছিয়ে থাকবে না, তা স্পষ্ট। সূর্যকুমারের নেতৃত্বে দল মানসিকভাবে প্রস্তুত, যেকোনও পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে আইসিসির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূচী, সম্প্রচার স্বত্ব, দর্শক আকর্ষণ, সব কিছুই ভারত-পাক ম্যাচ বিশ্বকাপের অন্যতম বড় ইভেন্ট। কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে যদি ম্যাচ না হয়, তা হলে ভবিষ্যতে বিশ্ব ক্রিকেটের কাঠামো নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে। সেই দিক থেকে সূর্যকুমারের বক্তব্য শুধু এক অধিনায়কের মন্তব্য নয়, বরং ক্রিকেটকে খেলার মাঠেই রাখার বার্তা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ভারতীয় দলের প্রস্তুতিতে কোনও ঘাটতি নেই। কলম্বোর টিকিট কাটা, পরিকল্পনা তৈরি, মনোযোগ পুরোপুরি ক্রিকেটেই। এখন দেখার, আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলির আলোচনায় শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হয়। তবে সূর্যকুমার যাদবের স্পষ্ট বার্তা একটাই, ভারত তৈরি, মাঠে নামার জন্য।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Smriti Mandhana RCB Champion | মন্ধানার ব্যাটে দিল্লির স্বপ্নভঙ্গ, মেয়েদের আইপিএলে আবার চ্যাম্পিয়ন আরসিবি




