প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই : বলিউডে ‘নেপোটিজম’ শব্দটি আজ বহুলচর্চিত। কিন্তু এক সময় এই শব্দটি আলোচনায় না থাকলেও তার প্রভাব যে গভীর ছিল, তা নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে জানালেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া (Priyanka Chopra)। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি তুলে ধরেন কেরিয়ারের শুরুর দিকের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা চুক্তিপত্রে সই করার পরেও কীভাবে একটি হিন্দি ছবি তাঁর হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল। প্রিয়াঙ্কা জানান, ২০০৭ সালে সালাম এ ইশ্ক (Salaam-e-Ishq)-এর শুটিং চলাকালীন এক সহ-অভিনেতা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তিনি ভেবেছিলেন, নতুন ছবির চিত্রনাট্য বা চরিত্র নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু বাস্তবে যা শুনতে হয়, তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অভিনেত্রীর কথায়, ‘আমাকে জানানো হয়েছিল পরিচালক নাকি ভুল করে আমাকে নিয়েছেন। চরিত্রটি নাকি অন্য এক অভিনেত্রীর জন্য ভেবে রাখা ছিল।’

সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল, চুক্তিপত্রে সই থাকা সত্ত্বেও তাঁকে প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হয়। তখন তাঁর বয়স মাত্র বাইশ। প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘আমি তো চুক্তিতে সই করেছি। তবুও এমনটা হল। বুঝতে পারছিলাম না, আমার দোষটা কোথায়।’ সেই সময় ‘নেপোটিজম’ শব্দটির অর্থ বা ব্যাপ্তি তিনি পুরোপুরি জানতেন না। তবে পরপর কয়েকটি ঘটনার পরে তিনি উপলব্ধি করতে শুরু করেন, ইন্ডাস্ট্রিতে সম্পর্ক, পারিবারিক প্রভাব ও লবিং বড় ভূমিকা নিতে পারে। ২০০৩ সালে আন্দাজ (Andaaz) ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন প্রিয়াঙ্কা। সেই ছবিতে তাঁর সহ-অভিনেতা ছিলেন অক্ষয় কুমার (Akshay Kumar) ও লারা দত্ত (Lara Dutta)। মিস ওয়ার্ল্ড খেতাব জয়ের পর বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘিরে প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। প্রথম দিকে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও ধীরে ধীরে তিনি লক্ষ্য করেন, প্রধান চরিত্রে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরও হঠাৎ তাঁকে পার্শ্বচরিত্রে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

অভিনেত্রীর কথায়, ‘কিছু সিদ্ধান্ত আমার হাতে ছিল না। বুঝতে পারছিলাম, অন্য কারও প্রভাব সেখানে কাজ করছে।’ যদিও তিনি সরাসরি কারও নাম নেননি, তবু তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট যে সেই সময়ে ইন্ডাস্ট্রির ক্ষমতার বলয় নতুনদের জন্য সহজ ছিল না। এই ধাক্কাগুলো তাঁকে মানসিকভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এমনও সময় এসেছিল, যখন তিনি ভাবছিলেন পড়াশোনায় ফিরে যাবেন কি না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভিনয়কেই বেছে নেন। নিজের পরিশ্রম, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসকে হাতিয়ার করে তিনি ধীরে ধীরে বলিউডে নিজের জায়গা পোক্ত করেন। একের পর এক বাণিজ্যিক ও সমালোচকপ্রশংসিত ছবিতে অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করেন, সুযোগ কেড়ে নেওয়া গেলেও প্রতিভা থামানো যায় না।
প্রিয়াঙ্কার কেরিয়ার কেবল বলিউডেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। হলিউডেও তিনি সমান সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় শিল্পীদের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। তবু বলিউডের সেই শুরুর অভিজ্ঞতা তাঁকে দীর্ঘদিন তাড়িয়ে বেড়িয়েছে বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি। ২০১৯ সালে দ্য স্কাই ইজ পিঙ্ক (The Sky Is Pink) ছবিতে তাঁকে শেষবার বলিউডে দেখা গিয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর তিনি আবারও হিন্দি ছবিতে ফিরছেন ‘বারাণসী’ নামের একটি প্রজেক্টের মাধ্যমে বলে জানা গিয়েছে। অনুরাগীরা এখন অপেক্ষায়, কেমন হবে তাঁর কামব্যাক?

বলিউডে নেপোটিজম নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। প্রিয়াঙ্কার মতো প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী যখন নিজের অভিজ্ঞতার কথা খোলাখুলি বলেন, তখন বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে সংগ্রামের গল্প, আত্মবিশ্বাসের লড়াই এবং নিজের জায়গা নিজেই তৈরি করার ইচ্ছাশক্তি। প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘আমি শিখেছি, কেউ যদি দরজা বন্ধ করে দেয়, তাহলে অন্য দরজা খুঁজে নিতে হয়।’ এই মনোভাবই হয়তো তাঁকে আজ আন্তর্জাতিক তারকা করে তুলেছে। চুক্তি সই করেও ছবি হাতছাড়া হওয়ার তিক্ত স্মৃতি আজ ইতিহাস, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে। বলিউডের অন্দরমহলের এই অকপট স্বীকারোক্তি আবারও আলোচনায় আনল নেপোটিজমের প্রশ্ন। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কাছে তাঁর বার্তা স্পষ্ট, প্রতিকূলতা আসবেই, কিন্তু লড়াই ছাড়া সাফল্য আসে না। প্রিয়াঙ্কার কেরিয়ার সেই কথাই প্রমাণ করে।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sonakshi Sinha Zaheer Iqbal first date | প্রথম ডেটে সোনাক্ষীর আচরণে আফসোস! খোলামেলা জানালেন স্বামী জাহির




