তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : বলিউডের দুই আইকনিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘ডন’ এবং ‘কৃষ’ মানেই দর্শকদের আবেগ, নস্টালজিয়া আর প্রত্যাশার পাহাড়। এই দুই সিরিজেই একসময় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া (Priyanka Chopra)। ফলে ‘ডন ৩’ ও ‘কৃষ ৪’ নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠে আসে, রোমা ও প্রিয়া মেহরা কী আবার ফিরছেন? দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রশ্ন ঘিরে চলছিল জল্পনা। অবশেষে সেই জল্পনা নিয়ে মুখ খুললেন স্বয়ং প্রিয়াঙ্কাই। তবে তাঁর বক্তব্যে যথাযথ উত্তর মিলল কি না, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে বলিউড অন্দরে। একটি সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তিনি কোনও কিছুই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। অভিনেত্রীর কথায়, ‘অনেক সময় দর্শকরা নিজেরাই অনেক কিছু ভেবে ফেলেন। ধরে নেন যে অমুক ছবিতে আমি থাকবই। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টা এত সহজ নয়।’ তাঁর সংযোজন, কোনও ছবিতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র আবেগের উপর নির্ভর করে হয় না। স্ক্রিপ্ট, সময়সূচী, প্রযোজনা সংস্থার পরিকল্পনা এবং নিজের কাজের অগ্রাধিকার, এ সব মিলিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

এই মন্তব্যেই খোলসা, প্রিয়াঙ্কা সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনওটাই বলেননি। আর এখানেই দর্শকদের কৌতূহল আরও বেড়ে গিয়েছে। অনেকের মতে, এটি ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত কৌশল যে সম্পূর্ণভাবে দরজা বন্ধ না করে সম্ভাবনার জায়গাটা খোলা রাখা।
উল্লেখ্য, ‘ডন’ ফ্র্যাঞ্চাইজির কথা বললে প্রথমেই উঠে আসে রোমা চরিত্রের নাম। শাহরুখ খান (Shah Rukh Khan) -এর বিপরীতে প্রিয়াঙ্কার রোমা আজও দর্শকদের মনে গেঁথে রয়েছে। ‘ডন’ ও ‘ডন ২’-এ তাঁর উপস্থিতি চরিত্রটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছিল। তাই ‘ডন ৩’ -এর ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, নতুন ডনের সঙ্গে পুরনো রোমা কী থাকবেন? নির্মাতারা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, ‘ডন ৩’ -এ নতুন প্রজন্মের ডন হিসেবে দেখা যাবে রণবীর সিংকে (Ranveer Singh)। এই ঘোষণার পরেই জল্পনা আরও তীব্র হয়। অনেকেই মনে করেন, পুরনো রোমাকে ফিরিয়ে আনা হলে ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে দর্শকদের আবেগের সেতু আরও মজবুত হবে। আবার একাংশের ধারণা, সম্পূর্ণ নতুন ভাবনায় এগোতে চাইলে হয়তো নতুন কোনও রোমা চরিত্র আনা হবে, অথবা গল্পের কাঠামোই বদলে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে ‘কৃষ’ সিরিজ মানেই ভারতীয় সুপারহিরো ঘরানার সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম। হৃত্বিক রোশন (Hrithik Roshan) -এর সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার রসায়ন, বিশেষ করে ‘কৃষ’ ও ‘কৃষ ৩’ -এ, দর্শকদের কাছে এখনও স্মরণীয়। প্রিয়া মেহরা চরিত্রটি শুধুই নায়িকার উপস্থিতি নয়, তা গল্পের আবেগের একটি বড় অংশ। তাই ‘কৃষ ৪’ নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই প্রশ্ন উঠেছে যে, এই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে কী আবার ফিরবেন প্রিয়াঙ্কা? এই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী যে কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন, তা অনেকের মতে ইঙ্গিতপূর্ণ। তিনি না স্বীকার করেছেন, না অস্বীকার। ফলে ভক্তদের আশা এখনও বেঁচে রয়েছে। এই জল্পনার মাঝেই নতুন করে আগুনে ঘি ঢেলেছে দক্ষিণী সুপারস্টার মহেশ বাবু -এর (Mahesh Babu) একটি মন্তব্য। একটি অনুষ্ঠানে তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে আসে রহস্যময় লাইন, ‘Something’s happening।’ কাদের সঙ্গে? কোন প্রোজেক্টে? বলিউড না প্যান-ইন্ডিয়া ছবি? কিছুই তিনি খোলসা করেননি। তবে এই একটি বাক্যই যথেষ্ট হয়েছে জল্পনার ঝড় তুলতে। অনেকেই মনে করছেন, ‘কৃষ ৪’ কি তবে প্যান-ইন্ডিয়া রূপ নিতে চলেছে? দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির বড় তারকাদের যুক্ত করার পরিকল্পনা কি রয়েছে? যদি তাই হয়, তাহলে প্রিয়াঙ্কার উপস্থিতি সেই পরিসরকে আরও আন্তর্জাতিক মাত্রা দিতে পারে, এমন মতও শোনা যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বর্তমানে আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যস্ত। হলিউড প্রোজেক্ট, ওটিটি সিরিজ এবং বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ, এমতাবস্থায় তাঁর টাইম শিডিউল অত্যন্ত টাইট। সেই কারণে ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ফেরা মানে সময় ও পরিকল্পনার বড় সমন্বয়। অভিনেত্রী নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, সব দিক ঠিকঠাক না হলে শুধুমাত্র আবেগের বশে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তবু বলিউডে নস্টালজিয়ার শক্তি যে কতটা, তা প্রিয়াঙ্কা ভাল করেই জানেন। রোমা কিংবা প্রিয়া মেহরা, এই চরিত্রগুলি তাঁর কেরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাই দর্শকদের একাংশ মনে করছেন, উপযুক্ত গল্প ও সময় পেলে এই দুই ফ্র্যাঞ্চাইজিতেই তাঁকে ফিরতে দেখা যেতে পারে। আবার কেউ কেউ বলছেন, নতুন প্রজন্মের কথা ভেবে নির্মাতারা হয়তো সম্পূর্ণ নতুন পথে হাঁটবেন। এক্ষেত্রে সিনে সমালোচকরা মনে করছেন, ‘ডন ৩’ ও ‘কৃষ ৪’ ঘিরে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ভবিষ্যৎ এখনও ধোঁয়াশায়। তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে জল্পনার তো অবসান হয়নি, পাশাপাশি নতুন করে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। দর্শকদের চোখ এখন নির্মাতাদের পরবর্তী ঘোষণার দিকে। রোমা বা প্রিয়া মেহরা ফিরবেন কী না, তার উত্তর আপাতত সময়ের হাতেই।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Red Sandalwood cultivation | লাল চন্দন চাষে সহায়তা: জাতীয় জৈববৈচিত্র্য কর্তৃপক্ষ ৪৫ লক্ষ টাকা বিতরণ করে কৃষকদের দ্বিগুণ আয়ের সুযোগ




