শোভনা মাইতি ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্মাই : বলিউডে বহু দশক ধরে নিজস্ব অভিনয় দক্ষতা, সংযত ব্যক্তিত্ব এবং আত্মমর্যাদার জন্য আলাদা জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন অভিনেত্রী তাবু (Tabu)। পর্দার বাইরে তিনি বরাবরই প্রচারের আলো এড়িয়ে চলতে পছন্দ করেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব কমই মুখ খোলেন। তবে এক পুরনো সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রীর বলা কিছু কথা আজও আলোচনার কেন্দ্রে, যেখানে উঠে এসেছে তাঁর শৈশবের এক গভীর ক্ষত, বাবার সঙ্গে সম্পর্কের সম্পূর্ণ বিচ্ছেদ এবং সেই কারণেই বাবার পদবি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত। তাবুর আসল নাম তাবাসসুম ফাতিমা হাসমি (Tabassum Fatima Hashmi)। জন্মসূত্রে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা হলেও তিনি কখনও বাবার পদবি ‘হাসমি’ নিজের পরিচয়ের অংশ করে নেননি। এই সিদ্ধান্ত কোনও হঠকারী আবেগের ফল নয়, তা জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও মানসিক বাস্তবতার নির্যাস, এ কথা নিজেই স্বীকার করেছেন তাবু। মাত্র তিন বছর বয়সে তাঁর মা-বাবার বিচ্ছেদ ঘটে। সেই সময় থেকেই বাবার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগই ছিল না।

একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, তাঁর শৈশব কেটেছে হায়দরাবাদে মামাবাড়িতে। মা ছিলেন একজন শিক্ষিকা। কর্মব্যস্ততার কারণে দিনের অনেকটা সময় তাঁকে কাটাতে হত দিদিমার সান্নিধ্যে। সেই ঘরোয়া, প্রার্থনামুখর এবং বইপড়া পরিবেশই তাঁর চরিত্রকে গড়ে তুলেছে গভীর, সংযত ও আত্মমগ্ন করে। বাবার স্মৃতি বলতে তাঁর মনে কিছুই নেই, এই কথাটাই যেন সবথেকে বেশি নাড়া দেয় অনুরাগীদের। তাবু স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘আমি কখনও বাবার পদবি ব্যবহার করার প্রয়োজন বোধ করিনি। স্কুলে আমার পদবি ছিল ফাতিমা। বাবাকে নিয়ে আমার কোনও স্মৃতি নেই, কোনও কৌতূহলও নেই।’ তাবুর দিদি, আশির দশকের অভিনেত্রী ফারহা (Farah Naaz), মাঝে মাঝে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও তাবু সেই পথে হাঁটেননি। তিনি মনে করেন, যেভাবে তিনি মানুষ হয়েছেন, সেই জীবনে কোনও অপূর্ণতা নেই। বাবার অনুপস্থিতি তাঁকে দুর্বল করেনি। নিজের মতো করে শক্ত হতে শিখিয়েছে। উল্লেখ্য যে, তাবুর বাবা পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিবাহ করেন এবং সেই সংসারে তাঁর দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। কিন্তু সেই সম্পর্কও তাবুর জীবনে কোনও প্রভাব ফেলেনি।
শাবানা আজমি (Shabana Azmi)-এর আত্মীয় হওয়া এবং ফিল্মি পরিবারে জন্ম নিয়েও তাবুর শৈশব ও কৈশোর মোটেই গ্ল্যামারাস ছিল না। তিনি ছিলেন ভীষণ লাজুক, অন্তর্মুখী। নিজেই স্বীকার করেছেন, ছোটবেলায় তাঁর নিজের মত প্রকাশ করার মতো সাহস বা ‘ভয়েস’ ছিল না। শুধু তা-ই নয়, অভিনয় জগতে পা রাখার পরেও বহু বছর সেই অন্তর্মুখী স্বভাব কাটিয়ে উঠতে সময় লেগেছে। কিন্তু সেই নীরবতাই পরে তাঁর অভিনয়ের শক্তি হয়ে উঠেছে, যা তাঁকে আলাদা করেছে অন্যদের থেকে। তাবুর ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে তাঁর অবিবাহিত থাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বলিপাড়ায় নানা আলোচনা চলেছে। তবে সমাজের প্রচলিত ধারণাকে পাত্তা দিতে নারাজ অভিনেত্রী। ২০১৭ সালে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘সিঙ্গেল থাকাটা আমার কাছে কোনও সমস্যা নয়। আমি কাউকে তাঁর বৈবাহিক অবস্থা বা সন্তান আছে কি না, তা দিয়ে বিচার করি না। কেউ যদি আমাকেও সেইভাবে বিচার করে, তাতে আমার কিছু যায় আসে না।’ এই বক্তব্যেই বোঝা যায়, তাবু নিজের জীবনের শর্ত নিজেই ঠিক করতে জানেন।
তাবুকে চলতি বছরেই দেখা যাবে দক্ষিণী পরিচালক পুরী জগন্নাথ (Puri Jagannadh) -এর প্যান-ইন্ডিয়া প্রোজেক্টে, সেখানে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করছেন বিজয় সেতুপতি (Vijay Sethupathi)। পাশাপাশি অক্ষয় কুমার (Akshay Kumar) -এর সঙ্গে প্রিয়দর্শন (Priyadarshan) পরিচালিত বহুপ্রতীক্ষিত হরর-কমেডি ছবি ‘ভূত বাংলা’ -তেও একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে তাবুকে। যাই হোক, ব্যক্তিগত জীবনের নিঃসঙ্গতা, শৈশবের অভাব এবং সামাজিক প্রশ্নচিহ্ন, সবকিছুকে নিজের শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাবু প্রমাণ করেছেন, একজন নারী চাইলে নিজের পরিচয় নিজেই গড়ে নিতে পারেন। বাবার পদবি না ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে কোনও বিদ্রোহ নয়, তা আত্মসম্মানের শান্ত ঘোষণা। নিজের শর্তে বাঁচার এই সাহসই তাঁকে আজকের অভিনেত্রী তাবু করে তুলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Priyanka Chopra Nick Jonas daughter | ‘মাত্র ৭৬৬ গ্রাম ওজন, সারা শরীর বেগনি’: প্রিম্যাচিয়োর জন্ম থেকে হাসপাতালের ১০০ দিন, মালতী মেরির জন্য কীভাবে নাজেহাল হয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা-নিক




