সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: দেশের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় (Rajya Sabha) নতুন প্রতিনিধিত্ব গঠনের লক্ষ্যে বড়সড় নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) -এর তরফে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, আগামী ১৮ জুন ১০টি রাজ্যে মোট ২৭টি রাজ্যসভার আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে, কারণ সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে বিধায়ক সংখ্যা ও জোট-সমীকরণই নির্ধারণ করবে কোন দল কতগুলি আসন নিজেদের ঝুলিতে তুলতে পারবে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশ (Andhra Pradesh), গুজরাত (Gujarat), ঝাড়খণ্ড (Jharkhand), মধ্যপ্রদেশ (Madhya Pradesh), মণিপুর (Manipur), মেঘালয় (Meghalaya), রাজস্থান (Rajasthan), অরুণাচল প্রদেশ (Arunachal Pradesh), কর্নাটক (Karnataka) এবং মিজ়োরাম (Mizoram) এই ১০টি রাজ্যে মোট ২৪টি আসন শূন্য হচ্ছে। সেই সঙ্গে মহারাষ্ট্র (Maharashtra), তামিলনাড়ু (Tamil Nadu) এবং ওড়িশা (Odisha)-র একটি করে আসনে উপনির্বাচনও একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে মোট আসনের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২৭।
এই ভোটকে কেন্দ্র করে শুধু রাজ্যসভা নয়, একই দিনে বিহার (Bihar) -এর বিধান পরিষদের (Legislative Council) ৯টি আসন এবং কর্নাটকের ৭টি আসনেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিহারের একটি আসনে উপনির্বাচনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ১৮ জুন দিনটি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের সাক্ষী হতে চলেছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সূচনা ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। সোমবার থেকেই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে। প্রার্থীদের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ৮ জুন। এর পর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং প্রয়োজনে প্রার্থীরা তাঁদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে।
১৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। এরপর বিকেল ৫টা থেকে শুরু হবে ভোটগণনা। দ্রুত ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে জানা যাবে কোন রাজনৈতিক দল কতগুলি আসন দখল করতে পারল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কোনও একটি আসনের জন্য যদি মাত্র একজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন, সে ক্ষেত্রে ভোটের প্রয়োজন পড়বে না। সংশ্লিষ্ট প্রার্থী সরাসরি নির্বাচিত বলে ঘোষণা করা হবে। রাজ্যসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিধায়ক সংখ্যাই মূল নির্ণায়ক। প্রতিটি রাজ্যে বিধানসভার সদস্যদের ভোটের ভিত্তিতে প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। ফলে যেসব রাজ্যে কোনও একটি দল বা জোটের বিধায়ক সংখ্যা বেশি, সেখানে তাদের প্রার্থীদের জয়লাভের সম্ভাবনাও বেশি থাকে। আবার যেখানে সমীকরণ জটিল, সেখানে ক্রস ভোটিং বা কৌশলগত সমর্থন বড় ভূমিকা নিতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে আসছে, এই নির্বাচন কেন্দ্রীয় রাজনীতির উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ রাজ্যসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে শাসক দল থেকে বিরোধী শিবির—সব পক্ষই এই ভোটকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যে ইতিমধ্যেই প্রার্থী নির্বাচন, জোট আলোচনা এবং কৌশল নির্ধারণ শুরু হয়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, কর্নাটক, রাজস্থান বা মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিতে লড়াই তুলনামূলকভাবে বেশি নজরকাড়া হতে পারে। অন্যদিকে ছোট রাজ্যগুলিতে সমীকরণ অনেক সময় সহজ হলেও সেখানে রাজনৈতিক ভারসাম্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মিজ়োরাম বা মেঘালয়ের মতো রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলির ভূমিকাও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণা সামনে আসার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়াও আসতে শুরু করেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী তালিকা এখনও সর্বত্র ঘোষণা হয়নি, তবুও দলীয় অন্দরে আলোচনা জোরদার হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি নতুন মুখও রাজ্যসভায় পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী দিনে সংসদের উচ্চকক্ষের গঠন কিছুটা হলেও বদলাতে পারে। কোন দল কতটা শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করবে এই ভোটের ফলাফলের উপর। ফলে ১৮ জুনের ভোট শুধু নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক চিত্র গঠনের ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধায়কভিত্তিক এই ভোটে সংখ্যার অঙ্ক যেমন জরুরি, তেমনই দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সামান্য বিচ্যুতিও ফলাফলে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তাই প্রতিটি দলই নিজেদের বিধায়কদের একত্রে রাখার দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে।
রাজ্যসভা নির্বাচন ২০২৬ (Rajya Sabha Election 2026) ঘিরে ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ, প্রচার এবং কৌশলগত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই উত্তেজনা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Cabinet Expansion, Suvendu Adhikari Cabinet | লোক ভবনে শপথ শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিসভার, ৩৫ জনের অন্তর্ভুক্তি, কারা পেলেন পূর্ণ ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব?




