পার্বতী কাশ্যপ ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: শিক্ষা, সাহিত্য ও সঙ্গীতের সম্মিলিত আবহে একটি স্মরণীয় আয়োজনের সাক্ষী থাকল বাংলা সংস্কৃতি মহল। জঙ্গীপুর মানব শিক্ষা রিসার্চ এণ্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (Jangipur Human Education Research and Training Institute) -এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠান। একই দিনে কলকাতার কলেজ স্কোয়ার সংলগ্ন মহাবোধি সোসাইটি অডিটোরিয়ামে ‘কফিহাউসের চারপাশে’ (Coffehouser Charpashe) পত্রিকার বই-উৎসব সংখ্যা প্রকাশ এবং হিন্দুস্থানি ধ্রুপদ সংগীতের বিশেষ পরিবেশনা আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। সম্প্রতি (২৯ মে ২০২৬) এই অনুষ্ঠান ঘিরে উপস্থিত ছিলেন নানা ক্ষেত্রের বিশিষ্ট মানুষ, গবেষক, সাহিত্যিক এবং সংস্কৃতিপ্রেমীরা।

সমাবর্তন মঞ্চে সভাপতিত্ব করেন কবি ও সাহিত্যিক দেবাঞ্জন চক্রবর্তী (Debanjan Chakraborty)। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুদীপ ঘোষ। বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন ড. শুভব্রত রায়চৌধুরী (Dr. Shubhabrata Raychaudhuri), টেকনো গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়, মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন উপাচার্য। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি স্বাগতা ঘোষ (Swagata Ghosh), রাজীব ভট্টাচার্য (Rajib Bhattacharya) প্রাক্তন অল ইন্ডিয়া রেডিও ও ডিডি-১ অধিকর্তা, সম্পাদক ও কবি তাপস রায় (Tapas Ray), রবীন্দ্র গবেষক ড. অসীম কুমার মাইতি (Dr. Asim Kumar Maiti)। প্রোজ্জ্বল উপস্থিতি হিসেবে ছিলেন নৃপেন চক্রবর্তী (Nripen Chakraborty), বংশীবদন চট্টোপাধ্যায় (Banshibadan Chattopadhyay), নীলাঞ্জন কুমার (Nilanjan Kumar), সুভাষ সরকার (Subhash Sarkar), ড. সুবিমল কুণ্ড (Dr. Subimal Kundu) প্রমুখ। অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু ছিল গুণীজন সংবর্ধনা। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজক্ষেত্রে অবদানের জন্য যাঁদের ‘বিশ্বমানব শিক্ষা বারিধি’ (পি.এইচ.ডি.) উপাধিতে সম্মানিত করা হয়, তাঁদের মধ্যে ছিলেন পণ্ডিত দেবাশীষ মুখার্জী (Pandit Debashish Mukherjee), রতিকান্ত মালাকার (Ratikanta Malakar), বলরাম নাথ (Balaram Nath), রমেশ চন্দ্র সাবু (Ramesh Chandra Sabu), সেখ আব্দুল করিম (Sheikh Abdul Karim), অরূপ কুমার সরকার (Arup Kumar Sarkar) এবং সঙ্গীতা দেওয়ানজি (Sangeeta Dewanji)। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘মানবিক মূল্যবোধ ও জ্ঞানচর্চায় তাঁদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান প্রদান করা হয়েছে।’

সমাবর্তনের অংশ হিসেবে ছিল বক্তৃতা ও আলোচনা পর্ব। শিক্ষার প্রসার, গবেষণার গুরুত্ব এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে নানা দিক উঠে আসে বক্তাদের বক্তব্যে। উপস্থিত ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের কাছে এই আলোচনা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এতে ভবিষ্যতের পথচলার দিশা খোঁজার এক সুযোগ তৈরি হয়। অন্যদিকে, একই মঞ্চেই ওই সন্ধ্যায় ‘কফিহাউসের চারপাশে’ পত্রিকার বই-উৎসব সংখ্যা প্রকাশিত হয়। সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে এই পত্রিকা দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত একটি নাম। নতুন সংখ্যাকে ঘিরে আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। সম্পাদকমণ্ডলীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘এই সংখ্যায় সমকালীন সাহিত্য, প্রবন্ধ, কবিতা ও স্মৃতিচর্চার নানা রং ধরা পড়েছে, যা পাঠকের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা এনে দেবে।’ গ্রন্থ প্রকাশ পর্বের পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বৈচিত্রময় সঙ্গীত পরিবেশনার পাশাপাশি হিন্দুস্থানি ধ্রুপদ সংগীতের গৌহরবাণী ধারার উপস্থাপনা শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। ধ্রুপদের গাম্ভীর্য এবং সুরের গভীরতা মিলিয়ে এক অনন্য আবহ তৈরি হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মনে দীর্ঘ সময় থেকে যায়। আয়োজকদের মতে, শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে একই মঞ্চে আনার এই প্রয়াস ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। জেলার মাটি থেকে শুরু করে শহরের সাংস্কৃতিক পরিসর, দুইয়ের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। অংশগ্রহণকারীদের একাংশের কথায়, ‘এই ধরনের আয়োজন শুধু সম্মাননা বা প্রকাশনা নয়, বরং ভাবনার আদানপ্রদানের একটি ক্ষেত্র তৈরি করে।’
সমাবর্তন সম্মাননা এবং সাহিত্য ও সঙ্গীতের সম্মিলন এই দ্বৈত আয়োজন প্রমাণ করল, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ধারাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা কতটা প্রাসঙ্গিক। উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের কাছে দিনটি হয়ে উঠল স্মরণীয়, যেখানে জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও সুরের মেলবন্ধনে তৈরি হল এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sasraya News Sunday’s Literature Special | 31st May 2026, Sunday | Issue 112 | সাশ্রয় নিউজ রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল। ৩১ মে ২০২৬, রবিবার। সংখ্যা ১১২




