প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই: বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কিয়ারা আডবাণী (Kiara Advani) সম্প্রতি মাতৃত্ব-পরবর্তী জীবনের এক গভীর অভিজ্ঞতা সামনে এনেছেন, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে নানা মহলে। গত বছর কন্যাসন্তান সারায়াহ (Saraayah) -এর জন্ম দেন তিনি। বর্তমানে তাঁর সন্তানের বয়স প্রায় ১০ মাস। তবে এই সময়টা কিয়ারা যেভাবে কাটিয়েছেন, তা নিছক আনন্দের ছিল না, একইভাবে মানসিক ওঠাপড়া, সামাজিক চাপ এবং শরীর নিয়ে কটাক্ষ সমস্তই কঠিন বাস্তবতার তিনি মুখোমুখি হয়েছেন। একটি সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কিয়ারা বলেন, ‘প্রথম ছ’মাস আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। হঠাৎ করেই মন খারাপ হয়ে যেত, মাঝেমাঝেই কেঁদে ফেলতাম।’ এই সময় তাঁর পাশে ছিলেন স্বামী সিদ্ধার্থ মালহোত্রা (Sidharth Malhotra), তিনি মানসিকভাবে তাঁকে সাপোর্ট করেছেন। তবে অভিনেত্রীর মতে, শুধু গর্ভাবস্থায় নয়, সন্তানের জন্মের পর একজন নারীর পাশে পরিবারের আরও বেশি করে থাকা জরুরি।

কিয়ারা যে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বলেছেন, তা হল সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। তাঁর কথায়, ‘যখন আপনি অন্তঃসত্ত্বা থাকেন, তখন সবাই আপনাকে দেবীর মতো দেখে। বলে, “কী সুন্দর লাগছে”, “ত্বকের জেল্লা বেড়েছে”। কিন্তু সন্তান জন্মের পরই সেই দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়।’ এই মন্তব্যে উঠে এসেছে এক বাস্তব চিত্র, যেখানে নারীর শরীরকে ঘিরে সামাজিক প্রত্যাশা মুহূর্তে বদলে যায়। মাতৃত্বের পর শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তন নিয়েও কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে কিয়ারাকে। তিনি বলেন, ‘সন্তান হওয়ার পর সমাজ আশা করে আপনি খুব দ্রুত আগের চেহারায় ফিরে আসবেন। কিন্তু এই সময়টাই একজন নারীর জন্য সবচেয়ে কঠিন।’ সন্তান জন্মের পর শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময়েই বাইরের চাপ অনেকটা বেড়ে যায় বলেই জানান কিয়ারা। এই কারণেই মেয়ে জন্মের পর দীর্ঘ সময় নিজেকে জনসমক্ষে আনেননি কিয়ারা। প্রায় সাত মাস পর তিনি আবার প্রকাশ্যে আসেন। তবে সেই সময়েও তাঁকে ঘিরে প্রশ্নের শেষ ছিল না। বিশেষ করে, কীভাবে এত দ্রুত ওজন কমালেন, এই বিষয়টি নিয়ে নানা মন্তব্য শুনতে হয়েছে তাঁকে। যদিও কিয়ারা এই ধরনের আলোচনাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাননি, বরং নিজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতাকে সামনে আনতে চেয়েছেন।

কিয়ারা আরও বলেন, ‘মাতৃত্ব মানে শুধু সন্তানকে বড় করা নয়, একজন নারী নতুন জীবনে প্রবেশ করছেন, তাঁকে সমর্থন করাও জরুরি।’ তাঁর এই মন্তব্যে উঠে এসেছে মাতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা অনেক সময় আলোচনার বাইরে থেকে যায়। সন্তান জন্মের পর একজন নারীর মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন, এই বিষয়টিও পরোক্ষে তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। বলিউডের ঝলমলে দুনিয়ায় যেখানে চেহারা ও ফিটনেস নিয়ে সবসময় নজর থাকে, সেখানে মাতৃত্বের পর শরীরের পরিবর্তন নিয়ে এমন খোলামেলা বক্তব্য অনেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিয়ারা আডবাণীর এই অভিজ্ঞতা শুধু একজন তারকার ব্যক্তিগত কথা নয়, এই অভিজ্ঞতা বহু নারীর জীবনের সঙ্গে মিলে যায়।
সামাজিক তাঁর বক্তব্য নিয়ে আলোচনার শুরু হয়েছে। অনেকেই তাঁর সাহসী অবস্থানকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলেছেন। মাতৃত্ব-পরবর্তী সময় যে শুধুই আনন্দের নয়, বরং একাধিক শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়, এই দিকটি সামনে এসেছে তাঁর কথায়। অন্যদিকে, বর্তমানে কিয়ারা ধীরে ধীরে কাজে ফিরছেন এবং ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। তবে তাঁর এই অভিজ্ঞতা অনেকের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রেখে যাচ্ছে, মাতৃত্বের সময় ও তার পরবর্তী পর্যায়ে একজন নারীর পাশে থাকা, তাঁকে সময় দেওয়া এবং তাঁর পরিবর্তনকে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kiara Advani diet, biscuit health risks | বিস্কুট ছাড়ুন, কফির সঙ্গী হোক ‘হেলদি বাইট’: কিয়ারা আডবাণীর সকালের অভ্যাসে বদল আনছে নতুন ট্রেন্ড



