শোভনা মাইতি, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই: বর্তমান সময়ে ‘পারফেক্ট বডি’ বা নিখুঁত শরীরের ধারণা যেন এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে ‘ফ্ল্যাট স্টমাক’ বা সম্পূর্ণ মেদহীন পেট পাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই প্রবণতার বিরুদ্ধেই সরব হলেন বলিউড অভিনেত্রী তাপসী পান্নু (Taapsee Pannu)। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানালেন, তলপেটের সামান্য চর্বি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়, তা স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয়। সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তাপসী বলেন, ‘নির্মেদ পেট পাওয়ার জন্য আমরা অনেক সময় শরীরকে অযথা চাপ দিই। কিন্তু সেটা শরীরের পক্ষে সব সময় ভালো নয়।’ তাঁর মতে, সমাজে যে সৌন্দর্যের ধারণা তৈরি হয়েছে, তা অনেকাংশেই বাণিজ্যিক প্রভাবিত এবং বাস্তব শরীরের সঙ্গে তার অনেক পার্থক্য রয়েছে।
ছোটবেলার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তাপসী জানান, ‘আমি ছোট থেকেই সুস্থ সবল ছিলাম। কিন্তু সব সময় একটা প্রশ্ন থাকত, কেন আমার তলপেট একেবারে সমান হচ্ছে না?’ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তিনি নিজেকেই কঠোর নিয়মের মধ্যে বেঁধে ফেলেছিলেন। অতিরিক্ত শরীরচর্চা, কড়া ডায়েট, এসব কিছুই তিনি চেষ্টা করেছিলেন। অভিনেত্রীর কথায়, ‘তলপেটের সেই সামান্য চর্বি কমানোর জন্য আমি এত বেশি ব্যায়াম করতাম যে শরীরের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়ত।’ তবে সময়ের সঙ্গে তিনি বুঝতে পারেন, শরীরের নিজস্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। ‘যখন শরীরের ওপর বেশি চাপ পড়ে, তখন শরীর নিজেই প্রতিরোধ করতে শুরু করে। ফলে যে জায়গার চর্বি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সেখানে উল্টে জল জমে থাকতে পারে,’ বলেছেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে তাপসী আরও বলেন, ‘ওয়াটার রিটেনশন বা শরীরে জল জমে থাকা অনেক সময় স্বাভাবিক বিষয়। বিশেষ করে তলপেটের অংশে সামান্য ফোলাভাব থাকাটা অস্বাভাবিক নয়।’ তাঁর মতে, এই অংশে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ থাকে, যেগুলির সুরক্ষার জন্য শরীর নিজেই একটি প্রাকৃতিক স্তর তৈরি করে। নিজের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধির কথাও শেয়ার করেছেন তাপসী। তিনি বলেন, ‘অনেক দেরিতে বুঝেছি, নিজের শরীরকে অন্য কারও সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়। প্রত্যেকের শরীর আলাদা, আর সেটাই স্বাভাবিক।’ এই উপলব্ধিতে পৌঁছতে গিয়ে তাঁকে যথেষ্ট মানসিক ও শারীরিক চাপে পড়তে হয়েছে বলেও জানান অভিনেত্রী। তাপসীর মতে, হরমোনের পরিবর্তনের কারণে একজন নারীর শরীর প্রতিদিন এক রকম থাকে না। কখনও ফোলাভাব থাকে, কখনও তা কমে যায়। এই পরিবর্তনগুলোকে মেনে নেওয়াই উচিত। ‘কিছু দিন শরীর একটু ভারী লাগবে, কিছু দিন আবার হালকা লাগবে, এটাই স্বাভাবিক,’ বলেছেন তাপসী।
এই প্রসঙ্গে তিনি তাঁর পুষ্টিবিদের কথাও উল্লেখ করেন। তাপসী জানান, ‘আমার পুষ্টিবিদ আমাকে বুঝিয়েছিলেন, তলপেটের সামান্য চর্বি আসলে শরীরের জন্য দরকারি। কারণ ওই জায়গাতেই প্রজনন অঙ্গ থাকে, যেগুলিকে সুরক্ষিত রাখা জরুরি।’ এই ব্যাখ্যা তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে শরীর নিয়ে সচেতনতা যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে অযৌক্তিক প্রত্যাশাও। তাপসীর মতে, এই প্রবণতা অনেক সময় মানুষকে নিজের শরীর নিয়ে অসন্তুষ্ট করে তোলে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এই চাপের মধ্যে পড়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বলিউডের পর্দায় তাপসী পান্নু বরাবরই শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বাস্তব জীবনেও তিনি একই ভাবে নিজের মতামত তুলে ধরতে পিছপা হন না। তাঁর এই বক্তব্যও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ, যেখানে তিনি সমাজের প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করান।
তাপসীর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই বহু মানুষের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করছেন এবং মনে করছেন, শরীরকে স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করার এই বার্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবার বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তাপসী পান্নুর এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে যে, নিখুঁত শরীরের পিছনে না ছুটে, নিজের শরীরকে বোঝা এবং গ্রহণ করাই সবচেয়ে জরুরি।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :Taapsee Pannu interview | বলিউড রাজনীতির অন্দরমহল নিয়ে সরব তাপসী পান্নু



