Narendra Modi Bengal speech | বেঙ্গালুরু থেকে বাংলার জয়ের গল্প শোনালেন নরেন্দ্র মোদী : ‘৩ থেকে ২০০+ বিধায়ক’, বিজেপির উত্থান ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বেঙ্গালুরু: কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরু থেকে রবিবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দলীয় শক্তি বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলকে বিশেষ গুরুত্ব দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল গত এক দশকে পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির (Bharatiya Janata Party) অভূতপূর্ব উত্থানের চিত্র। জনসভা থেকে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে ১০ বছর আগে আমাদের মাত্র তিন জন বিধায়ক ছিলেন। কিন্তু আজ সেখানে ২০০ জনের বেশি বিধায়ক নিয়ে দল ক্ষমতায় এসেছে।’ উল্লেখ্য, বেঙ্গালুরুতে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে জাতীয় রাজনীতির বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে বিজেপি এবং এনডিএ -এর (National Democratic Alliance) বিস্তার নিয়ে আলোচনা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় পশ্চিমবঙ্গের ফলাফলকে তিনি তুলে ধরেন এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসন জিতে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে রাজ্যে সরকার গঠন করেছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের শাসক তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ থাকে।

আরও পড়ুন : Operation Sindoor anniversary, Narendra Modi statement terrorism | ‘সিঁদুর’ অভিযানের এক বছর: সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান, সেনার সাহসিকতায় গর্ব প্রকাশ মোদীর

শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নিজেও। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বাংলার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে মানুষের সমর্থনের ফল হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, বাংলার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন এবং নতুন প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখেছেন। বেঙ্গালুরুর সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপির বিস্তারের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কর্নাটকেও একসময় বিজেপির সংগঠন শক্তিশালী ছিল না, কিন্তু বর্তমানে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। একইভাবে অন্ধ্রপ্রদেশে এনডিএ সরকার গঠন এবং তেলঙ্গানায় বিজেপির ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়েও কথা বলেন তিনি। পুদুচেরিতে দ্বিতীয়বারের মতো বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠনের বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে মোদী একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, যে রাজ্যে একসময় দলের উপস্থিতি সীমিত ছিল, সেখানে এখন বিপুল সমর্থন পাওয়া একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তিনি জানান, গত এক দশকে সংগঠন বিস্তার, জনসংযোগ এবং ধারাবাহিক প্রচারের মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। নির্বাচনের আগে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বার বার বাংলায় প্রচারে এসে পরিবর্তনের বার্তা তুলে ধরেছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজেও একাধিক জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) -সহ দলের বহু নেতা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সভা করেন। নির্বাচনী প্রচারে শাসনব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নকে মূল ইস্যু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

ফলাফল ঘোষণার পর বিজেপির পক্ষে যে জনসমর্থন উঠে এসেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ২০৭টি আসন পাওয়া এবং এককভাবে সরকার গঠন করার ক্ষমতা অর্জনকে অনেকেই বড় রাজনৈতিক পালাবদল হিসেবে দেখছেন। বেঙ্গালুরু থেকে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সেই পরিবর্তনের দিকেই ইঙ্গিত করে। বক্তৃতায় তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন মোদী। সেখানে ফল ঘোষণার পর সরকার গঠন নিয়ে জটিলতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘তামিলনাড়ুর অবস্থা দেখুন, ফল ঘোষণার পরেও সেখানে সরকার গঠন হচ্ছিল না।’ পাশাপাশি কেরলেও কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, বেঙ্গালুরুর সভামঞ্চ থেকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপির শক্তি বৃদ্ধির যে চিত্র তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী, তার কেন্দ্রে ছিল পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফলাফল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বক্তব্য আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির কৌশল এবং প্রচারের দিক নির্দেশ করতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Himanta Biswa Sarma Chief Minister Assam | অসমে ফের হিমন্ত বিশ্বশর্মা মুখ্যমন্ত্রী, এনডিএ-র আস্থায় দ্বিতীয় দফা শাসন, শপথে থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী 

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন