Himanta Biswa Sarma Chief Minister Assam | অসমে ফের হিমন্ত বিশ্বশর্মা মুখ্যমন্ত্রী, এনডিএ-র আস্থায় দ্বিতীয় দফা শাসন, শপথে থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী 

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গুয়াহাটি : অসমের রাজনীতিতে ধারাবাহিকতার বার্তা দিল বিজেপি। রবিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে এনডিএ-র পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে হিমন্ত বিশ্বশর্মার (Himanta Biswa Sarma) নাম ঘোষণা হওয়ার পরই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে তাঁর নামই সামনে ছিল, রবিবার সেই জল্পনায় সিলমোহর পড়ল। এরপরই তিনি লোক ভবনে গিয়ে রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্য (Lakshman Prasad Acharya)-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সরকার গঠনের দাবি জানান। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মঙ্গলবার তিনি দ্বিতীয়বারের জন্য অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi), যা রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও পড়ুন : DilipGhosh, AgnimitraPaul, DeputyCM: দিলীপ ঘোষ ও অগ্নিমিত্রা পাল উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন | বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

এনডিএ-এর নেতৃত্বে গঠিত নতুন পরিষদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে হিমন্তকে নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে অন্য কোনও নাম নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়নি। সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর হিমন্ত বিশ্বশর্মা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) এবং দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin)-এর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তাঁদের আস্থাকে মর্যাদা দিয়ে আগামী পাঁচ বছর অসমের উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করব।’ ২০২৬ সালের অসম বিধানসভা নির্বাচন রাজ্যের রাজনীতিতে বিজেপির শক্তি আরও মজবুত করেছে। ১২৬টি আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ৭৬টি আসন। বিজেপি একাই জিতেছে ৮২টি আসনে, যা তাকে এককভাবে সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছে। এনডিএ জোটের মোট আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০২, যা বিরোধীদের অনেকটাই পিছনে ফেলে দিয়েছে। এই ফলাফল শুধু নির্বাচনী সাফল্যই গোগোলের নয়, বরং সংগঠনের ভিত্তি আরও শক্ত হওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে। এই নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে জোটে ছিল অসম গণ পরিষদ (Asom Gana Parishad), বড়োল্যান্ড পিপল্‌স ফ্রন্ট (Bodoland People’s Front) এবং রাভা-হাজং যৌথ মঞ্চ (Rabha Hasong Joint Platform)। জোটসঙ্গীদের মধ্যে অসম গণ পরিষদ এবং বড়োল্যান্ড পিপল্‌স ফ্রন্ট প্রত্যেকে ১০টি করে আসনে জয়লাভ করেছে। নিম্ন অসম অঞ্চলে রাভা-হাজং যৌথ মঞ্চের উপস্থিতিও জোটকে আরও বিস্তৃত ভিত্তি দিয়েছে।

অসমে বিজেপির উত্থানের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৬ সালে প্রথমবার এনডিএ সরকার গঠন করে। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান সর্বানন্দ সনওয়াল (Sarbananda Sonowal)। তাঁর নেতৃত্বেই ২০২১ সালের নির্বাচনেও জয় পায় এনডিএ। তবে সেই সময় নেতৃত্বে পরিবর্তন এনে হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং রাজনৈতিক কৌশলের কারণে দ্রুতই তিনি নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।

২০২৬ সালের নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে এনডিএ ফের জয়ী হওয়ায় এবার আর নেতৃত্ব পরিবর্তনের পথে হাঁটেনি বিজেপি। বরং ধারাবাহিকতা বজায় রেখে হিমন্তকেই দ্বিতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রতিফলিত হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, দ্বিতীয় দফায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে হিমন্ত বিশ্বশর্মার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে আরও গতি দেওয়া এবং রাজ্যের অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন দিশা তৈরি করা। শিল্প, কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য এই চারটি ক্ষেত্রেই বড় পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রচারে তিনি একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা বাস্তবায়নের দিকে নজর থাকবে।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। গুয়াহাটি (Guwahati)-তে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতি থাকলে তা বিজেপি কর্মী এবং সমর্থকদের কাছে বড় বার্তা হয়ে উঠবে। হিমন্ত বিশ্বশর্মার রাজনৈতিক যাত্রা দীর্ঘ এবং বহুমুখী। কংগ্রেস (Congress) থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি দ্রুতই দলের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। সাংগঠনিক কাজের পাশাপাশি প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা তাঁকে জাতীয় স্তরেও গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

নতুন সরকারের শপথের পরপরই মন্ত্রিসভা গঠন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে। জোটসঙ্গীদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সরকার পরিচালনার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন— এই বিষয়গুলিও সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে। অসমের ভোটের ফলাফল এবং নেতৃত্ব নির্বাচনের এই প্রক্রিয়া জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তর-পূর্ব ভারতে বিজেপির অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনী কৌশলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

আগামী মঙ্গলবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে এখন উত্তেজনা তুঙ্গে। হিমন্ত বিশ্বশর্মার দ্বিতীয় দফার শাসন কেমন হবে, কীভাবে তিনি উন্নয়নের গতি বজায় রাখবেন, সেই দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।

ছবি : সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : Assam Election Counting Live, Himanta Biswa Sarma News, BJP Assam Lead, Northeast Election Results:অসমে ফলাফল নির্ধারণের দিন: ১২৬ আসনের গণনায় এগিয়ে হিমন্ত, প্রাথমিক ট্রেন্ডে বাড়ছে জল্পনা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন