সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : পহেলগাঁও -এর ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর শুরু হওয়া ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)-এর এক বছর পূর্ণ হতেই জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারতের অবস্থান নিয়ে আবারও সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। বৃহস্পতিবার এই অভিযানের বর্ষপূর্তিতে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি এবং একই সঙ্গে কড়া সুরে জানিয়ে দেন, ‘ভারতের উপর আঘাত এলে তার জবাব দেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৬ জনকে হত্যা করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পরেই ভারতীয় সেনাবাহিনী (Indian Armed Forces) সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটির বিরুদ্ধে যে সামরিক অভিযান চালায়, সেটিই ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পরিচিত হয়। এই অভিযানের বর্ষপূর্তিতে সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘পহেলগাঁওয়ে নিরীহ ভারতীয়দের উপর যে হামলা হয়েছিল, তার উপযুক্ত জবাব আমাদের বাহিনী দিয়েছে। তাদের সাহসিকতা ও দৃঢ়তা দেশের গর্ব।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দেশের নিরাপত্তা নিয়ে আপসহীন মনোভাব। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারত যে সংকল্প নিয়েছে, তা ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে ‘অপারেশন সিঁদুর’-কে। গত বছরের ৭ মে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (Pakistan Occupied Kashmir)-এ একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিতে আঘাত হানে। সামরিক সূত্রে জানা গিয়েছিল, এই অভিযানে বহু জঙ্গি নিহত হয় এবং তাদের অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই অভিযানের পরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। পাকিস্তান ভারতের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে গোলাবর্ষণ, ড্রোন হামলা এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের চেষ্টা করে। কিন্তু ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defence System) এবং তিন বাহিনীর সমন্বিত প্রস্তুতির ফলে সেই হামলা কার্যত ব্যর্থ হয়। সীমান্তে প্রায় তিন দিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি চলার পর ১০ মে দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়।
বর্ষপূর্তির দিনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর দেখিয়ে দিয়েছে, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা কোনও আপস করি না। প্রয়োজন হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ তাঁর বক্তব্যে আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি জানান, দেশ এখন সামরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্র সরকারের অবস্থান যে অপরিবর্তিত রয়েছে, তা এই বক্তব্যে পরিষ্কারভাবে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর ভূমিকা এবং তাদের দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতাও এই প্রসঙ্গে সামনে এসেছে।
অন্যদিকে, পহেলগাঁও হামলার স্মৃতি এখনও তাজা বহু পরিবারের কাছে। সেই ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুধু সামরিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। তবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এই ধরনের পদক্ষেপের কূটনৈতিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, ‘এক বছর পরেও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান একই রয়েছে এবং আগামীতেও তা বজায় থাকবে।’ এই মন্তব্যে দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের অগ্রাধিকার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বর্ষপূর্তি তাই শুধু একটি সামরিক অভিযানের স্মরণ নয়, বরং দেশের নিরাপত্তা, কূটনীতি এবং প্রতিরক্ষা নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের পুনরুল্লেখ। পহেলগাঁওয়ের রক্তাক্ত ঘটনার জবাবে যে বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তা এখনও প্রাসঙ্গিক, ভারত তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত।




