সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ মুম্বাই : আইপিএল ২০২৬ (IPL 2026)-এর উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে আবারও নিজেদের শক্তি দেখাল চেন্নাই সুপার কিংস (Chennai Super Kings)। দিল্লি ক্যাপিটালসকে (Delhi Capitals) আট উইকেটে হারিয়ে প্লে-অফে ওঠার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন দল। এই জয়ের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson)-এর ব্যাটের, যিনি একক আধিপত্যে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে (Arun Jaitley Stadium) অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দিল্লি ৭ উইকেটে তোলে ১৫৫ রান। জবাবে চেন্নাই মাত্র ১৭.৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। এই জয়ের ফলে ১০ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফের দৌড়ে আরও জোরাল অবস্থানে পৌঁছেছে সিএসকে।
১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি চেন্নাইয়ের। অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় (Ruturaj Gaikwad) দ্রুত ৬ রান করে ফিরে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই উর্ভিল পটেল (Urvil Patel) ১৭ রান করে আউট হন। দুই উইকেট পড়ে যাওয়ায় কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল দলের উপর। তবে সেই পরিস্থিতিতে ক্রিজে নামেন সঞ্জু স্যামসন, এবং সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরতে শুরু করে। সঞ্জু শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন কার্তিক শর্মা (Kartik Sharma)। দু’জনে মিলে ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তোলেন এবং পরে রান তোলার গতি বাড়ান। দিল্লির বোলাররা কোনওভাবেই তাঁদের আটকাতে পারেননি। সঞ্জুর ব্যাটে ছিল আক্রমণ আর নিয়ন্ত্রণের সুন্দর মেলবন্ধন। ম্যাচের পরে তিনি বলেন, ‘শুরুতে কিছুটা চাপ ছিল, কিন্তু সেটাকে সামলে আমরা নিজেদের খেলায় ফিরেছি।’ সঞ্জু স্যামসন ৫২ বলে ৮৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ৭টি চার এবং ৬টি ছয়। তিনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দেন। অন্যদিকে কার্তিক শর্মাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ৩১ বলে ৪১ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাঁদের মধ্যে ১১৪ রানের জুটি চেন্নাইয়ের জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
দিল্লির বোলিং বিভাগ এদিন খুব একটা কার্যকর হয়নি। অধিনায়ক অক্ষর পটেল (Axar Patel) ২৫ রানে ১টি উইকেট নেন। লুঙ্গি এনগিডি (Lungi Ngidi) ৩০ রানে ১টি উইকেট পান। তবে মিচেল স্টার্ক (Mitchell Starc), টি নটরাজন (T Natarajan) এবং কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav) কেউই উইকেট নিতে পারেননি। ফলে চেন্নাইয়ের ব্যাটাররা সহজেই ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এর আগে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন দিল্লির অধিনায়ক অক্ষর পটেল। কিন্তু শুরু থেকেই ব্যাটিংয়ে ভেঙে পড়ে দল। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়তে থাকে। ওপেনার পাথুম নিসঙ্ক (Pathum Nissanka) ১৯ এবং লোকেশ রাহুল (KL Rahul) ১২ রান করে আউট হন। মাঝের সারিতেও কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। নীতীশ রানা (Nitish Rana), করুণ নায়ার (Karun Nair) এবং অক্ষর নিজেও দ্রুত ফিরে যান। ৬৯ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর দলকে কিছুটা ভরসা দেন ট্রিস্টান স্টাবস (Tristan Stubbs) এবং সমীর রিজ়ভি (Sameer Rizvi)। তাঁদের জুটিতে কিছুটা গতি আসে ইনিংসে। স্টাবস ৩৮ রান করেন, আর রিজ়ভি অপরাজিত ৪০ রান করে দলের স্কোর ১৫৫-এ পৌঁছে দেন। শেষদিকে আশুতোষ শর্মা (Ashutosh Sharma) দ্রুত ১৪ রান করে কিছুটা সহায়তা করেন।
চেন্নাইয়ের বোলিং আক্রমণও যথেষ্ট নিয়ন্ত্রিত ছিল। নুর আহমেদ (Noor Ahmad) ২২ রানে ২টি উইকেট নেন। জেমি ওভারটন (Jamie Overton), আকিল হোসেন (Akeal Hosein), গুরজাপনীত সিংহ (Gurjapneet Singh) এবং মুকেশ চৌধরী (Mukesh Choudhary) প্রত্যেকে একটি করে উইকেট তুলে নেন। তাঁদের সম্মিলিত পারফরম্যান্স দিল্লিকে বড় স্কোর করতে দেয়নি। ম্যাচের শেষে সঞ্জু বলেন, ‘দলের জন্য অবদান রাখতে পেরে ভাল লাগছে। আমরা জানতাম, এই ম্যাচ জিততেই হবে।’ তাঁর এই ইনিংস নিঃসন্দেহে চেন্নাইয়ের জন্য বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। এই জয়ের ফলে চেন্নাই সুপার কিংস আবারও প্লে-অফের লড়াইয়ে নিজেদের জায়গা শক্ত করল। অন্যদিকে দিল্লি ক্যাপিটালসের জন্য এই হার বড় ধাক্কা। লিগের শেষ দিকে এসে প্রতিটি ম্যাচই এখন গুরুত্বপূর্ণ, আর সেখানে এই ফলাফল ভবিষ্যতের সমীকরণে প্রভাব ফেলবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sanju Samson love letter | বিশ্বজয়ের পর আবেগঘন প্রেমপত্র! স্ত্রী চারুলতাকে ‘পন্ডাত্তি’ বলে খোলা চিঠি লিখে হৃদয় জিতলেন সঞ্জু




