সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : আইপিএল ২০২৬ (IPL 2026)-এর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটাল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (Mumbai Indians)। লখনউ সুপার জায়ান্টস (Lucknow Super Giants)-এর বিপক্ষে হাই-স্কোরিং ম্যাচে ৬ উইকেটে জয় তুলে নিয়ে আবার জয়ের ছন্দে ফিরল তারা। চোট কাটিয়ে ফিরে রোহিত শর্মা (Rohit Sharma)-র ব্যাটে ঝড়, সঙ্গে রায়ান রিকেলটন (Ryan Rickelton)-এর বিধ্বংসী ইনিংস এই জুটির দাপটেই বড় লক্ষ্য সহজ করে ফেলল মুম্বই। লখনউয়ের হয়ে নিকোলাস পুরান (Nicholas Pooran)-এর আগ্রাসী ব্যাটিং নজর কেড়েও শেষ পর্যন্ত কাজে এল না।
আরও পড়ুন : পশ্চিমবঙ্গের ভোট রাজনীতি : নবান্নে ফুটল পদ্মফুল
ম্যাচের শুরুতেই চমক ছিল। মুম্বাইয়ের নিয়মিত অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্য (Hardik Pandya) অসুস্থ থাকায় দলের নেতৃত্বে দেখা যায় সূর্যকুমার যাদবকে (Suryakumar Yadav)। টস জিতে তিনি প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন এবং জানান, ‘রোহিত পুরোপুরি ফিট হয়ে ফিরেছেন, দল আত্মবিশ্বাসী।’ অন্যদিকে লখনউয়ের অধিনায়ক ঋষভ পন্থ (Rishabh Pant) দল সাজাতে কয়েকটি পরিবর্তন করেন, যার মধ্যে ছিল জশ ইংলিস (Josh Inglis)-এর অন্তর্ভুক্তি ও অক্ষত রঘুবংশী (Akshat Raghuvanshi)-এর অভিষেক।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে লখনউ ২২৯/৪ রানের বিশাল স্কোর তোলে। শুরুতে ইংলিস দ্রুত কিছু বাউন্ডারি মারলেও বড় ইনিংস গড়তে পারেননি। ‘শুরুটা ভালো হলেও বড় রান করার সুযোগ হাতছাড়া করি’, ম্যাচের পরে এমনই প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। এরপর মিচেল মার্শ (Mitchell Marsh) ও নিকোলাস পুরান ইনিংসের হাল ধরেন। প্রথমে মার্শ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেললেও ধীরে ধীরে পুরান ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন। তিন নম্বরে নেমে পুরান বিধ্বংসী মেজাজে ব্যাট করেন। এক ওভারে একাধিক ছক্কা হাঁকিয়ে প্রতিপক্ষ বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন। মাত্র ১৬ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। ‘নিজের স্বাভাবিক খেলাই খেলছিলাম’, এমন মন্তব্য করেন পুরান। শেষ পর্যন্ত ২১ বলে ৬৩ রান করে আউট হন, যেখানে ছিল একটি চার ও আটটি ছয়। তাঁর বিদায়ের পর ইনিংসে খানিকটা ছন্দপতন ঘটে।
মার্শ ৪৪ রান করে ফেরেন, পন্থ বড় কিছু করতে পারেননি। শেষ দিকে এডেন মার্করাম (Aiden Markram) ও হিম্মত সিংহ (Himmat Singh) দ্রুত রান তুলে দলকে ২০০ পার করান। ফলে মুম্বইয়ের সামনে দাঁড়ায় ২৩০ রানের কঠিন লক্ষ্য। তবে রান তাড়া করতে নেমে মুম্বাইয়ের দুই ওপেনার ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। রোহিত শর্মা ও রায়ান রিকেলটন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকেন। ‘আমরা চাপ নিতে চাইনি, শুরু থেকেই রান তুলতে চেয়েছি’, ম্যাচ শেষে বলেন রিকেলটন। লখনউয়ের বোলারদের উপর কোনও রকম দয়া না দেখিয়ে তারা দ্রুত রান তুলতে থাকেন।
ওপেনিং জুটিতে ১৪৩ রানের বিশাল পার্টনারশিপ তৈরি হয়, যা ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। রিকেলটন ৩২ বলে ৮৩ রান করে আউট হন, তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৮টি ছয়। অন্যদিকে রোহিত শর্মা প্রত্যাবর্তন ম্যাচেই নিজের ছাপ রেখে যান। ৪৪ বলে ৮৪ রান করেন তিনি, যার মধ্যে ছিল ৬টি চার ও ৭টি ছয়। শতরানের কাছাকাছি গিয়েও তা হাতছাড়া করেন তিনি। মধ্যক্রমে কিছুটা ধাক্কা এলেও ম্যাচ হাতছাড়া হয়নি। সূর্যকুমার যাদব বড় রান করতে পারেননি, তিলক বর্মা (Tilak Varma)-ও তেমন সফল হননি। তবে শেষ দিকে নমন ধীর (Naman Dhir) ও উইল জ্যাকস (Will Jacks) ঠান্ডা মাথায় ইনিংস শেষ করেন। ৮ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে মুম্বাই।
এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে মুম্বাই নতুন করে নিজেদের অবস্থান মজবুত করল। অন্যদিকে লখনউয়ের জন্য এটি একটি হতাশাজনক হার, বিশেষ করে এত বড় রান করেও ম্যাচ জিততে না পারায় চাপ বাড়বে তাদের উপর। ম্যাচ শেষে রোহিত বলেন, ‘ফিট হয়ে ফিরে দলের জন্য অবদান রাখতে পেরে ভালো লাগছে।’ তাঁর এই ইনিংস মুম্বই শিবিরে নতুন উদ্দীপনা এনে দিয়েছে। আইপিএল ২০২৬-এর এই ম্যাচ ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় লড়াই হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত



